মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুরের মামলা: সেই অভিভাবককে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
গাজীপুরের টঙ্গীতে সাত বছর বয়সী এক শিশুকে যৌন হয়রানির অভিযোগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদ্রাসায় হামলা ও ভাঙচুরের অভিযোগে করা মামলায় শিশুটির অভিভাবককে চার সপ্তাহের মধ্যে গাজীপুর মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
বিচারপতি মো. সেলিম ও বিচারপতি মো. আসিফ হাসানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ মঙ্গলবার এ আদেশ দেন বলে জানিয়েছেন ওই অভিভাবকের আইনজীবী বেল্লাল হোসাইন।
তিনি বলেন, ‘মামলায় শুনানিতে তাকে চার সপ্তাহের মধ্যে গাজীপুরে মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আমরা এই সময়ের মধ্যে গাজীপুরে তাকে আত্মসমর্পণ করাব।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই মামলার মূল বিষয় ছিল থাপ্পড়ের পাশাপাশি ১৭ লাখ টাকা চুরির একটি অভিযোগ। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট বিবেচনা করলে একটি মাদ্রাসায় নগদ ১৭ লাখ টাকা থাকতে পারে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। এটা যে মিথ্যা অভিযোগ, সে বিষয়ে একটি যুক্তিসংগত ধারণা তৈরি হয়। তারপরও আমরা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়ে আগাম জামিন চেয়েছিলাম। আদালত আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন। আমরা গাজীপুরে পরবর্তী পদক্ষেপ নেব।’
আদালতে ওই দিন জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান খান, অ্যাডভোকেট বেল্লাল হোসাইন ও অ্যাডভোকেট এইচ এম রুহুল আমিন মোল্লা।
সাত বছর বয়সী মেয়েকে যৌন হয়রানির অভিযোগ তুলে গত ২১ অক্টোবর টঙ্গীর কুরআতুল কুরআন মাদ্রাসায় গিয়ে এক শিক্ষককে চড় মারেন ওই অভিভাবক। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে আলোচনায় আসেন বডিবিল্ডার ওই ব্যক্তি। পরে মুসলেম উদ্দিন নামের ওই শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে কারাগারে পাঠায় পুলিশ।
একই ঘটনায় গত ২৪ অক্টোবর মাদ্রাসায় বহিরাগতদের নিয়ে প্রবেশ, শিক্ষককে মারধর, মাদ্রাসার অফিসকক্ষ ভাঙচুর ও ১৭ লাখ টাকা লুটের অভিযোগে ওই অভিভাবকের বিরুদ্ধে পাল্টা মামলা করেন মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ আলমাস হোসেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এ মামলায় গত ২৬ অক্টোবর আগাম জামিন চেয়ে হাইকোর্টে আবেদন করেছিলেন ওই অভিভাবক।
মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, গত ২১ অক্টোবর বেলা ১১টা ৪০ মিনিটে আসামিরা বেআইনিভাবে মাদ্রাসায় প্রবেশ করে অতর্কিত হামলা ও ভাঙচুর চালান। তাঁরা অফিসকক্ষের টেবিলের কাচ ও বৈদ্যুতিক বোর্ড ভেঙে আনুমানিক ২০ হাজার টাকার ক্ষতি করেন। বাধা দিতে গেলে ওই অভিভাবক মাদ্রাসার শিক্ষক মোসলেম উদ্দিনের মাথার পেছনে বড় আকারের একটি স্ট্যাপলার দিয়ে আঘাত করেন। এতে ওই শিক্ষক রক্তাক্ত হয়ে মেঝেতে পড়ে গেলে অন্য অজ্ঞাতনামা আসামিরা তাঁকে মারধর করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, হামলাকারীরা মাদ্রাসার উপাধ্যক্ষ জান্নাতুল ফেরদৌস কলিকে ধাক্কা দিয়ে মেঝেতে ফেলে দেন এবং অন্য শিক্ষক-শিক্ষিকাদের এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। এ ছাড়া নারী শিক্ষকদের অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও শ্লীলতাহানি করেন।
এজাহারে বলা হয়, মারধরের একপর্যায়ে ওই অভিভাবক অফিসকক্ষের ড্রয়ারে জমি কেনার জন্য রাখা নগদ ১৭ লাখ টাকা জোরপূর্বক নিয়ে যান বলে এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে। যাওয়ার সময় তিনি নিরাপত্তাপ্রহরী দেলোয়ার হোসেন পাটোয়ারীকে মারধর করেন এবং এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নিলে ভবিষ্যতে মাদ্রাসার শিক্ষা কার্যক্রম চালাতে দেওয়া হবে না বলে হুমকি দেন।
মতামত দিন