গুরুতর অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিতে আইন সংশোধনের উদ্যোগ সরকারের
চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ গুরুতর অপরাধের বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে ‘দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর খসড়া জনমত গ্রহণের জন্য প্রকাশ করেছে সরকার। জননিরাপত্তা জোরদার এবং অপৃরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার লক্ষ্যেই এ উদ্যোগ।
সরকারি সূত্র জানায়, চাঁদাবাজি, ডাকাতি, দস্যুতা, ছিনতাই এবং আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নিত করে এমন অপরাধের বিচার দীর্ঘদিন ঝুলে থাকায় অপরাধ প্রতিরোধ কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। একই সঙ্গে জননিরাপত্তার জন্য বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে।
দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং অপরাধ দমনে কার্যকারিতা বাড়াতে ২০০২ সালের দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল আইন (২০০২ সালের ২৮ নম্বর আইন) আধুনিকায়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ২০২৪ সালের সচিবালয় নির্দেশমালার ২২৮ নম্বর নির্দেশনা এবং কার্যপ্রণালি বিধিমালার ৩১এ বিধি অনুসারে সংশোধনী বিলের খসড়া প্রকাশ করা হয়েছে।
খসড়ায় ডিজিটাল তথ্যপ্রমাণকে বিচারে গ্রহণযোগ্য করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সংশোধিত আইনের ১৬ ধারায় অভিযুক্ত ব্যক্তি বা অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অনলাইন ও ডিজিটাল কথোপকথন, যোগাযোগ, স্থিরচিত্র এবং ভিডিও ফুটেজকে সাক্ষ্যপ্রমাণ হিসেবে ব্যবহারের সুযোগ রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া ৬ ধারায় মাদকদ্রব্যসংক্রান্ত অপরাধের পরিবর্তে চাঁদাবাজি, ডাকাতি ও দস্যুতার মতো অপরাধ অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে। দণ্ডবিধির ৩৮৪ থেকে ৩৮৯ ধারায় বর্ণিত চাঁদাবাজি এবং ৩৯২ থেকে ৪০২ ধারায় উল্লেখিত ডাকাতি ও দস্যুতার অপরাধগুলো এ আইনের আওতায় আনার কথা বলা হয়েছে।
এর পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা বিঘ্নকারী অপরাধ (দ্রুত বিচার) আইন, ২০০২-এর ২(খ) ধারায় উল্লেখিত অপরাধগুলোও অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
খসড়ায় বিশেষ আদালতের সংজ্ঞাও সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এতে বিশেষ ক্ষমতা আইন, ১৯৭৪-এর অধীন বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর অধীন নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল ও শিশু সহিংসতা প্রতিরোধ ট্রাইব্যুনাল, অ্যাসিড অপরাধ দমন আইন, ২০০২-এর অধীন ট্রাইব্যুনাল এবং আইনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য বিশেষ আদালত ও ট্রাইব্যুনাল অন্তর্ভুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া দণ্ডবিধি বলতে দণ্ডবিধি, ১৮৬০ (১৮৬০ সালের ৪৫ নম্বর আইন) বোঝাবে বলে আইনে সুনির্দিষ্ট সংজ্ঞা যুক্ত করার প্রস্তাব রয়েছে।
খসড়া আইনটি প্রকাশের সাত দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও সাধারণ জনগণকে আপত্তি, অভিযোগ কিংবা মতামত জমা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে আইন ও বিচার বিভাগ। আইন ও বিচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব (বিচার শাখা-৪) বরাবর লিখিতভাবে অথবা section4@lawjusticediv.gov.bd ঠিকানায় ই-মেইলে মতামত পাঠানো যাবে।
আইন ও বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ২০২৬ সালের ১ নভেম্বরের পর কোনো আপত্তি বা পরামর্শ গ্রহণ করা হবে না।
মতামত দিন