Views Bangladesh Logo

ভয়েস কলে ‘ফ্লোর প্রাইস নীতিই’ ইন্টারনেট সেবায় পিছিয়ে রাখছে দেশকে

Rased Mehedi

রাশেদ মেহেদী

শুনতে প্রথমে কিছুটা অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে, কিন্তু এটাই সত্যি! টেলিযোগাযোগ খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিটিআরসির একটি বিতর্কিত সিদ্ধান্তের কারণেই বাংলাদেশের ৪৬ শতাংশ মানুষ এখনও ইন্টারনেট সেবার বাইরে। গ্রামাঞ্চলে ৫৬ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট সেবা থেকে বঞ্চিত। আর সেই বিতর্কিত সিদ্ধান্তটি হচ্ছে ‘মোবাইল অপারেটরদের জন্য ভয়েস কলের ‘ফ্লোর প্রাইস’। ডিজিটাল বৈষম্যের ব্যাপকতার মূলে বিটিআরসির নির্ধারণ করা এই ‘ভয়েস কল ফ্লোর প্রাইস’ নীতি। ফ্লোর প্রাইস যেহেতু নিশ্চিত বাড়তি আয় দিচ্ছে, সেহেতু ভয়েস কলের গ্রাহক হাতছাড়া করতে চায় না বলেই দেশের গ্রামাঞ্চলে ফোরিজ সেবা চালুর আট বছর পরও কোয়ালিটি ইন্টারনেট সেবা চালু করা হয়নি।

এই ফ্লোর প্রাইসের কারণেই মোবাইল অপাটেরদের এখন পর্যন্ত মোট রাজস্ব আয়ের ৫৩ শতাংশই আসে ভয়েস কল থেকে, যেটা অপারেটরদের প্রকাশিত তাদের আয়-ব্যয়ের নিজস্ব হিসেব থেকেই দেখা যায়। আর আমরা জানি শহর কিংবা গ্রামাঞ্চলে মূলত স্বল্প আয়ের মানুষই ভয়েস কলে বেশী কথা বলতে বাধ্য হচ্ছে। বিটিআরসি মোবাইল অপারেটরদের বাড়তি মুনাফা নিশ্চিত করতে একদিকে যেমন স্বল্প আয়ের মানুষের ওপর ভয়েস কলে বাড়তি দামের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে, অন্যদিকে তাদেরকে সুলভ মূল্যে ইন্টারনেট সেবা থেকেই বঞ্চিত করছে।

এই ‘ফ্লোর প্রাইস’ নীতির মাধ্যমে বিটিআরসি মোবাইল অপারেটরদের জন্য প্রতি মিনিট ভয়েস কলের সর্বনিম্ন মূল্য ৪৫ পয়সা এবং সর্বোচ্চ মূল্য ২ টাকা নির্ধারণ করে দিয়েছে সেই ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে। কয়েক দিন আগে রবি আজিয়াটা লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এক সময় যিনি কোম্পানির প্রধান আর্থিক কর্মকর্তাও ছিলেন) মাহতাব উদ্দিন আহমেদ একটি সেমিনারে যে তথ্য দেন, সেখানে হিসাব করে দেখা যায় ২০১৮ সালের আগস্ট মাসে বিটিআরসি ভয়েস কলের ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করে দেওয়ার পর থেকে ২০২৫ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত সময়ে মোবাইল অপারেটররা প্রায় ৩৭ হাজার কোটি টাকার বাড়তি মুনাফা করেছে।

বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলে ইন্টারনেট বিস্তৃত না হওয়ার পেছনে এটাই বড় সত্য। ৮ বছরে ৩৭ হাজার কোটি টাকা হলে প্রতি বছর ৪ হাজার ৬২৫ কোটি টাকার নিশ্চিত অতিরিক্ত মুনাফার এই মওকা হাতছাড়া করতে চায় না বলেই মোবাইল অপারেটররা গ্রামাঞ্চলে কোয়ালিটি ইন্টারনেট সেবা নিয়ে যেতে চায় না। কারণ কোয়ালিটি ইন্টারনেট দিলে গ্রামের মানুষও হোয়াটঅ্যাপ, মেসেঞ্জারে কথা বলবে, ফলে সরাসরি ভয়েস কলের ভলিউম দ্রুত কমে যাবে, অতিরিক্ত আয়ের এই দারুণ সুযোগও কমে যাবে। অতএব ভয়েস কলের এই অযৌক্তিক ‘ফ্লোর প্রাইস’ বিটিআরসি পুরোপুরি বাতিল না করা পর্যন্ত গ্রামে কোয়ালিটি ইন্টারনেট সেবা দেওয়া শুরু করবে না মোবাইল অপারেটররা, এটাই চরম সত্য। ফ্লোর প্রাইস তুলে দিলে ২০১৮ সালের আগের মতো মানুষ একদিকে যেমন ১০-২০ পয়সা ভয়েস কলে কথা বলতে পারবে, ঠিক এইকভাবে মোবাইল অপারেটররাও রাজস্ব আয়ের ধারা ঠিক রাখতে ডাটা গ্রাহক বাড়ানোর দিকে নজর দেবে। অতএব কোয়ালিটি অব সার্ভিস নিশ্চিত করতেই হবে।

দেখুন, ২০১৩ সালে যখন থ্রিজি সেবা চালু হয়, তখন মোবাইল অপারেটররা বলেছে, ‘থ্রিজি এমন সময়ে চালু করার জন্য নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাধ্যবাধকতা আরোপ করেছে, যখন দুনিয়াজুড়ে থ্রিজির পড়ন্ত বেলা আর ফোরজির সূর্যোদয় শুরু হয়েছে।’— এই অজুহাত দিয়ে শহরাঞ্চলের বাইরে কার্যত থ্রিজি সেবা নিয়েই যায়নি মোবাইল অপারেটররা। এরপর ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি ফোরজি সেবারে উদ্বোধন হলো। এরপর থেকেই মোবাইল অপারেটররা ভয়েস কল থেকে আয় কমে যাওয়ার তীব্র আশঙ্কার কথা জানাতে শুরু করল। শেষ পর্যন্ত আগস্ট মাসে ভয়েস কলে সর্বোচ্চ ২ টাকা এবং সর্বনিম্ন ৪৫ পয়সা ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করল। সর্বোচ্চ দামের সীমা নির্ধারণ করা যেতে পারে, সর্বনিম্ন দামের সীমা নির্ধারিত হয় কোন যুক্তিতে? এখন বেশ বোঝা যায়, ফোরজি সেবার জন্য যথা সম্ভব কম বিনিয়োগ করে এই সেবা দেশজুড়ে বিস্তৃত না করেও বাড়তি মুনাফার একটি নিশ্চিত পথ তৈরি করতেই মূলত ভয়েস কলে সর্বনিম্ন ফ্লোর প্রাইস নির্ধারণ করার দাবি আদায় করে নেওয়া হয়েছিল। মাহাতাব উদ্দিন আহমেদ যে সেমিনারে এই মুহুর্তে ভয়েস কলে ফ্লোর প্রাইস তুলে দেওয়ার পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন, সেই সেমিনারে পাল্টা যুক্তি দিয়ে রবি আজিয়াটার বর্তমান চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার সাহেদ আলম জানিয়েছিলেন, ‘ভয়ের কলে ফ্লোর প্রাইস থাকার কারণে যে বাড়তি আয় হচ্ছে সেটাই সাবসিডি হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে ডাটা সার্ভিস দেওয়ার জন্য। অতএব ভয়েস কলে ফ্লোর প্রাইস তুলে দিলে ডাটা সার্ভিসেও বিরূপ প্রভাব পড়বে’। সাহেদ আলমের যুক্তি নিয়ে বিতর্ক হতে পারে, কিন্তু তিনি একটি সত্য প্রকাশ করেছেন সেদিন। সেটা হচ্ছে, অন্তত রবি ডাটা সার্ভিসের জন্য নতুন করে কোনো পুঁজি বিনিয়োগ করেনি, শুধুমাত্র ভয়েস কলের বাড়তি আয় থেকেই ভর্তুকি দিয়ে ডাটা সার্ভিস টিকিয়ে রেখেছে। অতএব বুঝতে পারছেন, ভর্তুকির এই ডাটা সার্ভিস কতটা মানসম্পন্ন হবে? এই সত্য কি গ্রামীণফোন এবং বাংলালিংকের জন্যও প্রযোজ্য? যদি তাই হয় তাহলে বলতেই হবে ভয়েস কলে বিটিআরসি’র ‘ফ্লোর প্রাইস’ নীতির কারণেই গত আট বছরে দেশে টেলিযোগাযোগ খাতে কাঙ্ক্ষিত সরাসারি বিদেশি বিনিয়োগ আসেনি!

বিদেশি মালিকানার বিষয়ে মোবাইল অপারেটরদের পক্ষ থেকে একটা যুক্তি বেশ জোরালোভাবেই আসে। সেটা হচ্ছে, ‘ট্রান্সমিশন সেবা তাদের হাতে না থাকার কারণে তারা কাঙ্ক্ষিত সেবা দিতে পারছে না।’ মোবাইল অপারেটরদের এই যুক্তিকে প্রাধান্য দিয়েই বিগত অন্তবর্তী সরকারের আমলে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারি নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর নীতিতে আমূল পরিবর্তন আনলেন। নীতিতে মোবাইল অপারেটরদের সামনে সব ধরনের ব্যবসার সুযোগ সৃষ্টি করলেন। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, এই নীতির কারণে গত প্রায় দুই যুগ ধরে টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতে তিল তিল করে যে দেশীয় উদ্যোক্তারা নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছেন, তাদের একেবারে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। একই সঙ্গে আগামীতে ডাটা সার্ভিসের দামও ভয়েস কলের মতো অতি উচ্চ মূল্যে নিয়ে যাওয়ার পথ-ঘাট তৈরি করে দিয়ে গেছেন। অন্তবর্তী সরকারের আমলে গৃহীত নীতিতে শুধুমাত্র বিদেশি মালিকানাধীন তিনটি মোবাইল অপারেটরের সামনে ‘ভয়েস কল ফ্লোর প্রাইস’ নীতির মতোই বাড়তি মুনাফার সুযোগ করে দেওয়া ছাড়া আর কারও কোনো উপকারে আসবে না।

দেশে ২০০৯ সালের আগে ট্রান্সমিশন সেবায় গ্রামীণফোনের একক আধিপত্য ছিল। কারণ সে সময় তাদের হাতে বাংলাদেশ রেলওয়ের দেশজুড়ে বিস্তৃত ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের নিয়ন্ত্রণ ছিল। ঢাকা ও চট্টগ্রামে কিছু নেটওয়ার্ক নিজেরা করেছিল। মূলত, বাংলাদেশ রেলওয়ের নেটওয়ার্ক নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ট্রান্সমিশন প্রতি এমবিপিএস ব্যান্ডউইথের দাম ১০ হাজার টাকা আদায় করত। ফলে দেশে কোনোভাবেইে ইন্টারনেট সেবা সুলভ মূল্যে আনা যাচ্ছিল না। ২০০৮ সালে আইএলডিটিএস নীতি গ্রহণের মধ্য দিয়ে কমন ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা হয়। এরপরই ২০১১ সালের মধ্যেই ট্রান্সমিশন সেবায় প্রতি এমবিপিএএস ব্যান্ডউইথের দাম ৫০০ টাকায় নেমে আসে। ফলে দেশজুড়ে ছোট ছোট ইন্টারনেট সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠে। ডিজিটাল সার্ভিসকে ঘিরে দেশজুড়ে ছোট ছোট উদ্যোক্তা শুরু হয়। অন্তবর্তী সরকোরের নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর নতুন নীতি মূলত মোবাইল অপারেটরদের ২০০৯ সালের আগের আকাশচুম্বী মুনাফার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার নীতি। যদি অন্তবর্তী সরকারের সময়ে নীতি গ্রহণে সৎ উদ্দেশ্য থাকত তাহলে ভয়েস কলের ফ্লোর প্রাইস নীতি বাতিলের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত থাকত। কিন্তু বিদেশি মালিকানাধীন তিন মোবাইল অপারেটরের স্বার্থের বিরুদ্ধে যায়, এমন নীতি তো আর অন্তবর্তী সরকারের সময় গ্রহণ করার সুযোগ ছিল না!

আপনি স্বীকার করুন আর নাই করুন, দেশে একেবারে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত ফোরজি সেবা দেওয়ার মতো ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্ক ২০১৮ সালের আগেই প্রস্তুত হয়েছে। শুধুমাত্র ভয়েস ফ্লোর প্রাইস নীতির সুযোগ থাকার কারণে মোবাইল অপারেটররা গ্রামে ফোরজি সেবা নিতে চায়নি বলেই এই ট্রান্সমিশন নেটওয়ার্কের যথাযথ ব্যবহার হয়নি। এটাও বলা হতে পারে, ‘কোন গ্রামে ফোরজি সেবা নেই বলুন তো?’ উত্তরটা হচ্ছে শুধু গ্রামে নয়, এই রাজধানী ঢাকার পরিধিতে বা উপকন্ঠেই যথাযথ ফোরজি সেবা নেই। কারিগরী কৌশলের কারণে আপনার স্মার্টফোনে ফোরজি সাইন দেখাবে কিন্তু যথাযথ সক্ষমতা না থাকার কারণে আপনি সিগনাল পাবেন না, ব্রাউজ করতে গিয়ে দেখবেন সবকিছু স্থবির।

স্মার্টেফোনের কথা উঠলে বলা হয়, ‘দেশে তো স্মার্টেফোনের পেনিস্ট্রেশন ভালো নয়, স্মার্টফোন কেনার সক্ষমতাও বেশীরভাগ মানুষের নেই। অতএব ফোরজি নেটওয়ার্ক স্ট্রং হলেই কি আর হিউজ ইউজার পাওয়া যাবে?’ এই দেশের অর্ধহারে থাকা গ্রামের মানুষ এক সময় চার হাজার টাকায় মোবাইল সংযোগ নিয়েছে, মোবাইল অপারেটরদের প্যাকেজে দেওয়া অত্যন্ত নিম্নমানের হ্যান্ডসেট ছয়-সাত হাজার টাকায় কিনেছে। অতএব, গ্রামে ফোরজি সেবা যথাযথ সক্ষমতায় নিয়ে যান, স্মার্টফোনের পেনিট্রেশন এমনিতেই বাড়বে। হ্যান্ডসেট উৎপাদক কিংবা আদমদানিকারকরাও তখন আরও কম দামে বেশী হ্যান্ডসেট বিক্রির উপায় বের করবেন। সমস্যা হচ্ছে মোবাইল অপারেটরদের ফোরজি প্যাকেজ কিনে ইন্টারনেট না পেয়ে অত্যন্ত বিরক্ত গ্রামের মানুষ ফোরজি কিংবা স্মার্টফোনর শব্দ শুনলেই ভ্রু কুঁচকায়। তারা ইন্টারনেট ব্যবহারে অভ্যস্ত হয়েও উঠছে না। গ্রামের মানুষ অভ্যস্ত না হওয়ার কারণে স্থানীয় আইএসপিরাও ব্যবসা বাড়াতে পারছে না। গ্রামের মানুষের সহজ বোধদয়, ‘সেটেই ইন্টারনেট খালি ঘুরে, রাউটারে আর কি হইব?’

দেখুন, গ্রামে ভয়েস কলের ব্যবসায় নিশ্চিত বাড়তি মুনাফার সুযোগ রেখে এখন শহরের ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট ব্যবহার করা গ্রাহকের দখলও মূলত মোবাইল অপারেটররা নিয়ে নিচ্ছে বিটিআরসির আরেকটি নীতির কারণে। অন্তবর্তী সরকারের আমলে বিটিআরসি কম টাকায় মোবাইল অপারেটরদের তারবিহীন ব্রডব্যান্ড সেবার সুযোগ দিয়েছে। এখন ‘সিমফাই’ ইন্টারনেটের বেশ জোয়ার চলছে। মাত্র এক হাজার টাকায় মাসজুড়ে আন লিমিটেড ইন্টারনেট, তারের ঝামেলা নেই, অতএব এটাই তো ভালো!” অতএব আইএসপির ব্যবসায় থাকা স্থানীয় উদ্যোক্তাদের কিন্তু লালবাতি জ্বলা এখন সময়ের অপেক্ষা! আরও অদ্ভুত দেখুন, রাউটারে সিমকার্ড ব্যবহার করলে এক হাজার টাকায় মাসজুড়ে আনলিমিটেড ইন্টারনেট, অথচ স্মার্টফোনে সেই সিমকার্ডেই এক মাস মেয়াদে সাত থেকে ১০ জিবির নির্দিষ্ট ভলিউমের ডাটা কিনতে হয় ৫০০ টাকায়! তার মানে মোবাইল ইন্টারনেট প্যাকেজ নিয়ে শুভংকরের হিসেবের যে গল্প শোনা যায়, সেটা নিছক গল্প নয়!

দুনিয়াজুড়ে এখন ‘ডিজিটাল সার্বভৈৗমত্বই’ প্রধান নীতি। আপনি বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করার নীতি অবশ্যই গ্রহণ করবেন, কিন্তু সেটা ডিজিটাল সার্বভৌমত্বকে প্রাধান্য দিয়েই। দূরে নয়, প্রতিবেশী ভারত, শ্রীলংকা, নেপালের দিকে তাকান, আপনার অবস্থান বুঝতে পারবেন। অতএব সরকার এবং নিয়ন্ত্রক সংস্থার উচিত বর্তমান দুনিয়ার বাস্তবতায় ডিজিটাল সার্বভৌমত্বকে সবার উপরে রেখে নতুন টেলিকম ও তথ্যপ্রযুক্তি নীতি গ্রহণ করা, আর সেটা শুরু হোক দেশে ডিজিটাল বৈষম্য জিইয়ে রাখা ‘ভয়েস কলের অযৌক্তিক ফ্লোর প্রাইস বাতিলের মধ্য দিয়েই’।


রাশেদ মেহেদী, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাত বিশ্লেষক, সম্পাদক, ভিউজ বাংলাদেশ

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ