Views Bangladesh Logo

প্রথম ম্যাচ শেষ, বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাঁচাতে চোখ সবার দ্বিতীয় ম্যাচে

বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রথম বাঁশি বাজতেই শুরু হয় স্বপ্নের দৌড়। কেউ শুরুতেই ছুটে যায় গন্তব্যের দিকে, কেউ আবার প্রথম ধাক্কাতেই পড়ে যায় কঠিন সমীকরণের সামনে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর গ্রুপ পর্বে ৪৮টি দলের প্রথম ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ফুটবল বিশ্ব এখন দাঁড়িয়ে ঠিক এমনই এক মোড়ে। নতুন ফরম্যাটের এই বিশ্বকাপে মাত্র তিনটি ম্যাচের সুযোগ। ফলে একটি জয় যেমন নকআউটের দরজা খুলে দিতে পারে, তেমনি একটি ভুল পুরো বিশ্বকাপকেই ঝুলিয়ে দিতে পারে অনিশ্চয়তার দোলাচলে।

প্রথম রাউন্ড শেষে সবচেয়ে আত্মবিশ্বাসী দল নিঃসন্দেহে জার্মানি। কুরাসাওকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে শুধু তিন পয়েন্টই নয়, গোল ব্যবধানেও বিশাল সুবিধা নিয়ে ফেলেছে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ইংল্যান্ডও জানিয়ে দিয়েছে, এবার তারা কেবল অংশ নিতে নয়, শিরোপার লক্ষ্য নিয়েই এসেছে। ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয় আক্রমণভাগের ধার দেখিয়েছে, যদিও রক্ষণভাগের কিছু দুর্বলতা এখনও ভাবাচ্ছে।

আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, কলম্বিয়া, মেক্সিকো, সুইডেন, দক্ষিণ কোরিয়া, অস্ট্রিয়া, স্কটল্যান্ড ও ঘানাও জয় দিয়ে শুরু করেছে বিশ্বকাপ। দ্বিতীয় ম্যাচে আরেকটি জয় তাদের অনেককেই শেষ ষোলোর দুয়ারে পৌঁছে দেবে। তাই আত্মবিশ্বাস এখন তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

কিন্তু বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ডের সবচেয়ে বড় গল্প লিখেছে কিছু অপ্রত্যাশিত ফল। পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল মরক্কোর বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করেছে। বলের দখল, আক্রমণ কিংবা সুযোগ—সবকিছুতেই এগিয়ে থেকেও জয় তুলে নিতে পারেনি সেলেসাওরা। ফলে হাইতির বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ এখন তাদের জন্য বাঁচা-মরার লড়াই।

একই চিত্র স্পেন ও পর্তুগালের। কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে স্পেন, আর ডি আর কঙ্গোর কাছে পয়েন্ট হারিয়েছে পর্তুগাল। নেদারল্যান্ডস, বেলজিয়াম, উরুগুয়ে, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, কাতার, বসনিয়া, সৌদি আরব, মিসর, ইরান ও নিউজিল্যান্ডও প্রথম ম্যাচে জয় পায়নি। ফলে দ্বিতীয় ম্যাচে তাদের সামনে একটাই লক্ষ্য—জয়। অন্য কোনো ফল তাদের শেষ ম্যাচকে করে তুলবে আরও কঠিন।

এই বিশ্বকাপের প্রথম রাউন্ড অবশ্য আরেকটি সত্যও সামনে এনে দিয়েছে—ফুটবলে ছোট দল বলে কিছু নেই। মরক্কো ব্রাজিলকে আটকে দিয়েছে, কেপ ভার্দে গোলশূন্য করেছে স্পেনকে, ডি আর কঙ্গো রুখে দিয়েছে পর্তুগালকে। বসনিয়া কানাডার বিপক্ষে, কাতার সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে এবং ইরান নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ড্র করে দেখিয়ে দিয়েছে, নাম নয়—মাঠের পারফরম্যান্সই এখন সবচেয়ে বড় পরিচয়।

গ্রুপগুলোর সমীকরণও জমে উঠেছে দারুণভাবে। গ্রুপ 'এ'-তে মেক্সিকো ও দক্ষিণ কোরিয়া এগিয়ে থাকলেও লড়াই শেষ হয়নি। গ্রুপ 'বি'-তে চার দলেরই সম্ভাবনা সমান। গ্রুপ 'সি'-তে স্কটল্যান্ড এগিয়ে থাকলেও ব্রাজিল ও মরক্কো এখনো শক্ত অবস্থানে। গ্রুপ 'ডি'-তে যুক্তরাষ্ট্র সুবিধাজনক অবস্থানে, 'ই'-তে জার্মানি অনেকটাই এগিয়ে। 'এফ'-এ সুইডেন এগিয়ে থাকলেও নেদারল্যান্ডসের সামনে ঘুরে দাঁড়ানোর সুযোগ আছে। গ্রুপ 'জি' ও 'এইচ'-এ চার দলেরই সমান এক পয়েন্ট, ফলে সেখানকার লড়াই সবচেয়ে উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে উঠেছে। 'আই'-তে ফ্রান্স ও নরওয়ে, 'জে'-তে আর্জেন্টিনা, 'কে'-তে কলম্বিয়া এবং 'এল'-এ ইংল্যান্ড আপাতত সুবিধাজনক অবস্থানে।

বিশ্বকাপের ইতিহাস অবশ্য আশা জাগায় পিছিয়ে পড়া দলগুলোর জন্য। ২০১০ সালে স্পেন প্রথম ম্যাচ হেরেও শেষ পর্যন্ত বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হয়েছিল। অতীত তাই বলে, প্রথম ম্যাচে হোঁচট মানেই স্বপ্ন শেষ নয়। তবে দ্বিতীয় ম্যাচে ভুলের সুযোগও প্রায় থাকে না।

এ কারণেই এখন ব্রাজিল, স্পেন, পর্তুগাল, নেদারল্যান্ডস কিংবা বেলজিয়ামের কাছে দ্বিতীয় ম্যাচ শুধুই আরেকটি গ্রুপ ম্যাচ নয়; এটি তাদের বিশ্বকাপ বাঁচানোর লড়াই। অন্যদিকে জার্মানি, ইংল্যান্ড, আর্জেন্টিনা, ফ্রান্স কিংবা যুক্তরাষ্ট্র চাইবে নিজেদের দারুণ সূচনাকে আরও শক্তিশালী করে নকআউট নিশ্চিত করতে।

প্রথম ম্যাচ শেষে একটি বিষয় পরিষ্কার—৪৮ দলের এই বিশ্বকাপে প্রতিটি ম্যাচই যেন একেকটি ফাইনাল। এখানে এক মুহূর্তের ভুল বদলে দিতে পারে পুরো টুর্নামেন্টের গল্প, আবার একটি জয় খুলে দিতে পারে ইতিহাস গড়ার নতুন দরজা। তাই দ্বিতীয় রাউন্ডের ম্যাচগুলো শুধু তিন পয়েন্টের লড়াই নয়, অনেক দলের জন্য সেটিই হতে যাচ্ছে বিশ্বকাপের স্বপ্ন টিকিয়ে রাখার সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ