হাম-কলেরায় আক্রান্ত স্বজন, শজিমেক হাসপাতালে কাটল বিষণ্ন ঈদ
ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে গাজীপুর থেকে লালমনিরহাটের পথে বেরিয়েছিলেন ইমরান হোসাইন। সঙ্গে ছিলেন স্ত্রী রেহেনা খাতুন ও সাড়ে চার বছরের মেয়ে ইনতেফা। পরিকল্পনা ছিল শ্বশুরবাড়িতে ঈদ করে পরদিন নাটোরের সিংড়ায় নিজ বাড়ি ফিরবেন।
কিন্তু পথেই বদলে যায় গন্তব্য। বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় পৌঁছানোর পর হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে ইনতেফা। বাবা-মা বাস থেকে নেমে মেয়েকে নিয়ে ছুটে যান শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সেখানে চিকিৎসকরা জানান শিশুটি হামে আক্রান্ত এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। পরে তাকে ভর্তি করা হয় বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে।
ঈদের দিন বৃহস্পতিবার (২৮ মে) বিকেলে শজিমেক হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা যায়, হাসপাতালের বেডে শুয়ে আছে শিশু ইনতেফা। পাশে বসে আছেন বাবা ইমরান ও মা রেহেনা। শিশুটির পুরো শরীরে হামের র্যাশ ছড়িয়ে পড়েছে।
ইমরান হোসাইন বলেন, 'মেয়ের জন্য নতুন জামা কিনেছিলাম। কিন্তু ঈদের দিন সে হাসপাতালের বেডে শুয়ে ছিল। সে আমাদের একমাত্র সন্তান। মেয়ে সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কিছুই ভালো লাগছে না।' তিনি জানান, বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে প্রথমে শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং রাত সাড়ে ১০টার দিকে শজিমেক হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ইনতেফাকে।
একই ওয়ার্ডের আরেক বেডে ভর্তি রয়েছে ৮ মাস বয়সী আব্দুর রহমান। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার কৃষক আকিদুল ইসলামের ছেলে সে।
আকিদুল জানান, হামে আক্রান্ত হওয়ায় গত ২১ মে থেকে শিশুটি সিরাজগঞ্জের শহীদ এম মনসুর আলী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি ছিল। বুধবার মধ্যরাতে অবস্থার অবনতি হলে তাকে শজিমেক হাসপাতালে আনা হয়। তিনি বলেন, 'ছেলেটা খুব কষ্ট পাচ্ছে। মাঝে মাঝে ঘাড় বেঁকে যাচ্ছে। ঈদের দিনটা হাসপাতালেই কাটল। শুধু চাই ছেলেটা সুস্থ হয়ে উঠুক।'
শুধু শিশুরাই নয়, হাম ও কলেরায় আক্রান্ত হয়ে আইসোলেশন ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন ৩৫ বছর বয়সী তাসলিমা বেগমও। সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ উপজেলার ধওরান গ্রামের এই বাসিন্দার স্বামী কৃষক সুজাবদ আলী জানান, সাত দিন আগে অসুস্থ হওয়ার পর হাসপাতালে ভর্তির পর তার স্ত্রী এখন কিছুটা ভালো আছেন।
হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের নার্সরা জানান, ঈদের দিন হাম ও কলেরায় আক্রান্ত ৩১ জন রোগী ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন, যাদের মধ্যে শিশুর সংখ্যাই ছিল বেশি।
চারদিকে উৎসবের আমেজের মধ্যে শজিমেক হাসপাতালে কাটল ভিন্ন এক ঈদ। কেউ প্রার্থনায় মগ্ন ছিলেন, কেউ হাতে খাবার নিয়ে ওয়ার্ডে ঢুকছিলেন। রোগীর স্বজনরা জানান, কষ্টের মধ্যেও তাদের একটাই প্রত্যাশা — রোগী সুস্থ হলেই তাদের আনন্দ ফিরে আসবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে