সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের মামলায় জিয়াউল আহসানকে গ্রেফতার দেখালেন ট্রাইব্যুনাল
২০১৫ সালে বিএনপি নেতা ও বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের অভিযোগে দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানকে গ্রেপ্তার দেখিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একই সঙ্গে এ ঘটনায় তদন্ত শেষ করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ অক্টোবর দিন নির্ধারণ করেছেন ট্রাইব্যুনাল।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এ মামলাটির শুনানি শেষে এ আদেশ দেওয়া হয়। এর আগে প্রসিকিউশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১০ আগস্ট জিয়াউল আহসানকে এ মামলায় হাজির করার নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত। সেই আদেশ অনুযায়ী বৃহস্পতিবার তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমদকে গুমের ঘটনায় জিয়াউল আহসানের সম্পৃক্ততার প্রাথমিক তথ্য পাওয়ার দাবি করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। এর ভিত্তিতে তাকে মামলাটিতে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করে প্রসিকিউশন। শুনানি শেষে আবেদন মঞ্জুর করেন ট্রাইব্যুনাল। জিয়াউল আহসান এরই মধ্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের একাধিক মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে রয়েছেন।
এর আগে ২০২৫ সালের ৩ জুন চিফ প্রসিকিউটরের কার্যালয়ে নিজের গুমের ঘটনায় অভিযোগ দেন সালাহউদ্দিন আহমদ। অভিযোগে জিয়াউল আহসান ছাড়াও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ, সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, সাবেক ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া এবং পুলিশের বিশেষ শাখার সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলামসহ আরও কয়েকজনের নাম উল্লেখ করা হয়।
২০১৫ সালের ১০ মার্চ রাতে রাজধানীর উত্তরার একটি বাসা থেকে সালাহউদ্দিন আহমদকে তুলে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। তখন তিনি বিএনপির যুগ্ম মহাসচিবের দায়িত্বে ছিলেন। প্রায় দুই মাস পর ১১ মে ভারতের মেঘালয় রাজ্যের শিলংয়ে তার সন্ধান পায় স্থানীয় পুলিশ। পরে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া ভারতে প্রবেশের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ১১ আগস্ট দেশে ফেরেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদের গুমের ঘটনায় তৎকালীন সরকারের উচ্চপর্যায়ের ব্যক্তি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কয়েকজন কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও তদন্তে উঠে এসেছে বলে এর আগে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছিল। তবে মামলায় কারও দায় চূড়ান্তভাবে নির্ধারিত হয়নি। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের পর পরবর্তী আইনি কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হবে। ২৭ অক্টোবর এ মামলার তদন্ত প্রতিবেদন ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপনের কথা রয়েছে।
মতামত দিন