Views Bangladesh Logo

এল নিনোর দাপট: মাঘের শুরুতেই শীতের বিদায় ঘণ্টা

থায় আছে ‘মাঘের শীতে বাঘ পালায়’। তবে জলবায়ু পরিবর্তণের কারণে সৃষ্ট এল নিনোর প্রভাবে এবার ঘটছে এর উল্টো ঘটনা। চলতি মাঘ মাসের প্রথম সপ্তাহেই (ফেব্রুয়ারির তৃতীয় সপ্তাহ) বিদায় নিচ্ছে শীত। অনুষ্ঠানিকভাবে পৌষ-মাঘ শীতকাল হলেও এবার আগেভাগেই স্বাভাবিক শীত শেষ হয়ে যাচ্ছে। এমন তথ্য জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্ত।

গত ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে দেশজুড়ে শৈত্যপ্রবাহের দাপট শুরু হয়। যা অব্যাহত থাকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহ পর্যন্ত। তবে জানুয়ারির ৯ তারিখ থেকে শৈত্যপ্রবাহের আওতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করে। গত ডিসেম্বরে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছিলো- জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে বাংলা মাঘ মাস শুরু হলে আবারো সারা দেশে তীব্র শীত শুরু হবে। কিন্তু বাস্তবে তা হয়নি। বরং চলতি মৌসুমের স্বাভাবিক শীত এরই মধ্যে বিদায় নিয়েছে বলে জানিয়েছে অবহাওয়া অধিদপ্ততর। তারা জানায়, চলতি মাসের শেষের দিকে তাপমাত্রা কিছুটা কমলেও তীব্র বা মাঝারি শীতের আর কোনো সম্ভাবনা নেই। মূলতো এল নিনোর প্রভাবেই এভাবে মৌসুম শেষ হওয়ার আগেই আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নিয়েছে শীত, এমনটাই জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তর ও ভারতের আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে- এল নিনো এবার তীব্র আকারে আসতে চলছে। একারণে চলতি বছরে বর্ষায় বৃষ্টি হবে কম, গ্রীষ্মে দীর্ঘ সময় চলবে তাপপ্রবাহ। তবে এবছরের এই এল নিনোর প্রথম দাপটটি দেখিয়েছে চলতি শীত মৌসুমে। এর প্রভাবে এবার আগেভাবেই বিদায় নিয়েছে শীত। আনুষ্ঠানিক এই মৌসুমে বাংলায় আর তীব্র বা মাঝারি শৈত্যপ্রবাহের সম্ভাবনা নেই। জানুয়ারি মাসের শেষের দিকে উত্তর বঙ্গের কিছু এলাকায় কয়েক দিনের জন্য মৃদৃ শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে তবে সেটা দীর্ঘ হবে না। সেই সঙ্গে রাজধানী ঢাকাসহ দেশের অধিকাংশ এলাকায় ওই সময়ে তাপমাত্রা কিছুটা কমতে পারে। তবে এসব এলাকায় শৈত্য প্রবাহের আর কোনো সম্ভাবনা নেই। জানুয়ারির শুরুতে ঢাকা আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছিলো- এই মাসে মোট পাঁচটি শৈত্যপ্রবাহ আঘাত হানতে পারে, যার মধ্যে অন্তত একটি হতে পারে তীব্র। এরই মধ্যে ডিসেম্বরের শেষ সপ্তাহে ও জুনুয়ারির শুরু থেকেই দেশের বিভিন্ন স্থানে তীব্র শীত অনুভূত হয়। যা ছিলো ২০১৮ সালের পর সবচেয়ে তীব্র অনুতির শীত। তবে জানুয়ারির ৯ তারিখ থেকেই ঢাকাসহ সারা দেশে কমতে শুরু করে শীতের দাপট।

জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক ভিউজ বাংলাদেশকে জানান, চলতি বছর ইতিহাসে সবচেয়ে শক্তিশালী এল নিনোর কবলে পড়তে চলছে পৃথিবী। এত উষ্ণ এল নিনো আগে কখনো হয়নি। প্রশান্ত মহাসাগরের এই খামখেয়ালিপনা এত দীর্ঘস্থায়ী হাতেগোনা কয়েক বার হয়েছে। এবছর শুরু হয়েছে শীতকালেই। চলবে আগামী বছর জুন পর্যন্ত।’ তিনি জানান, ‘এল নিনো আবহাওয়ার একটি বিশেষ পর্যায়। এটি ২ বছর থেকে ৭ বছরের মধ্যে ফিরে ফিরে আসে। প্রশান্ত মহাসাগরের খামখেয়ালিপনাতেই এল নিনোর জন্ম হয়। যার দীর্ঘ মেয়াদি পূর্বাভাস দেওয়া যায় না। প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝামাঝি এলাকায় জলভাগ উষ্ণ হয়ে যখন বড় এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে তখন এল নিনোর জন্ম হয়। মধ্য প্রশান্ত মহাসাগর থেকে প্রসারিত হয়ে উষ্ণ জল উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের দিকে অনেকটা এগিয়ে যায়। এর প্রভাব পড়ে গোটা বিশ্বের আবহাওয়ার ওপরেই। বিশেষ করে দক্ষিণ-পূর্ব ও দক্ষিণ এশিয়ায়। এতে ঋতু পরিবর্তনের স্বাভাবিক গতি বাধা পায়। এতে করে শীত কমে যাওয়া, বন্যা ও খরার প্রবণতা বাড়তে থাকে। ক্রান্তীয় অঞ্চলে অবস্থিত দেশগুলোকেই এল নিনোর আঘাত সবচেয়ে বেশি সইতে হয়। কখনও কখনও টানা এক থেকে দেড় বছর এল নিনো স্থায়ী হয়।

কানাডার সাসকাচুয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ের আবহাওয়া ও জলবায়ু বিষয়ক গবেষক মোস্তফা কামাল পলাশ সম্প্রতি জানিয়েছেন, ‘এল নিনোর প্রভাবে ২০২৬ সালের শুরুতেই শীত মৌসুমেও শীত চলে গেছে। কারণ এটি প্রশান্ত মহাসাগরের উষ্ণতা বৃদ্ধি করে জেট স্ট্রিমকে প্রভাবিত করছে, যা সাধারণত দক্ষিণ এশিয়াসহ অনেক অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম শীত বা বেশি তাপমাত্রা নিয়ে এসছে এবং বৃষ্টিপাত কমিয়ে দিচ্ছে। এবারের শীতে স্বাভাবিক বৃষ্টি না হওয়ার কারণে শীত দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। একারণে এবার গ্রীষ্মে দীর্ঘ মেয়াদী তাপপ্রবাহও বয়ে যেতে পারে।’

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ