Views Bangladesh Logo

কমেছে ভোগান্তি, দ্রুতগতি পাচ্ছে মামলার নিস্পত্তি

দেশের জুডিশিয়াল সিস্টেমকে সম্পূর্ণ প্রযুক্তিনির্ভর, স্বল্পসময় ও কম খরচে যেন মানুষের হাতের মুঠোয় পৌঁছে দিতে এবং বিচারক ও আইনজীবীদের সহজে বিচারিক কাজ করতে পারার লক্ষ্যে ২ হাজার ২২৪ কোটি টাকার ‘ই-জুডিশিয়ারি’ নামে একটি প্রকল্প গ্রহণ করা হয়েছে। যার অনেকটাই বাস্তবায়ন করা হয়েছে এরই মধ্যে। বাকি কাজ আগামী ২০২৪ সালের মধ্যে সম্পন্ন হবে বলে আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে। এরই মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট ও বিচারিক আদালতসমূহের বিচারিক সেবা ও তথ্য দেওয়ার প্রক্রিয়া সহজকরণে অনলাইন কজলিস্ট, জুডিসিয়াল মনিটরিং ড্যাশবোর্ড এবং মাইকোর্ট অ্যাপ চালু হয়েছে। এতে করে প্রতিদিন হাজার হাজার বিচারপ্রার্থী দ্রুততম সময়ে তাদের মামলার কার্যক্রম সম্পন্ন করতে পারছেন। একই সঙ্গে কমতে শুরু করেছে মামলা জট। যাতে করে ভোগান্তিও কমছে বিচারপ্রার্থীদের।ই জুডিশিয়ারি প্রকল্পের মাধ্যমে প্রায় ২ হাজার কোর্টরুম ডিজিটালাইজ করা হচ্ছে।  এর মাধ্যমে আদালতে অডিও রেকর্ডিং পুল সিস্টেম থাকবে। পাশাপাশি করা হবে ভার্চুয়াল টার্মিনাল। এছাড়া ১৪টি সেন্ট্রাল জেল ডিজিটাল করা হবে। আসামিরা যেন জেল থেকে শুনানিতে অংশ নিতে পারে এজন্য ৯টি কেন্দ্রীয় কারাগারসহ ৬৪টি জেলা কারাগারে ক্যামেরা ট্রায়াল রুম করা হবে। গোপনীয়তা রক্ষার স্বার্থে বৈঠক অ্যাপস ব্যবহার করা হবে। বিচারিক তথ্যের সার্বভৌমত্ব নিশ্চিত করতে জেআরপি’র অধীনে সুপ্রিম কোর্টে একটি ফোর টায়ার ডাটা সেন্টার স্থাপন করা হচ্ছে। ডিজিটাল বিচারিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে বিচারকদের ২ হাজার ল্যাপটপ, অফিস স্ট্যাফদের জন্য ডেস্কটপ এবং ৭৫ হাজার আইনজীবী ও বিচারকদের  প্রশিক্ষণ দেয়ার কাজ শুরু হয়ে গেছে। এছাড়াও ভিডিও কনফারেন্সিং সিস্টেমসহ প্রত্যেকটি বার অ্যাসেোসিয়েশনে একটি করে সাইবার ক্যাফে প্রতিষ্ঠা করা হবে।  এটুআই, ইউএনডিপি ও আইসিটি বিভাগ মিলে এ অবকাঠামোগুলো তৈরির পর ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিচার ও স্বাস্থ্য বিভাগে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। এছাড়া এটুআই, বাংলাদেশ কম্পিউটার কাউন্সিল, সুপ্রিম কোর্ট, আইন ও বিচার বিভাগসহ সবাই মিলে নিজস্ব একটি মডেল উদ্ভাবন করা হয়েছে। এতে করে স্বল্প খরচে নতুন একটি মডেল বাংলাদেশের বিচার ব্যাবস্থা পরিচালিত হবে। সুপ্রিম কোর্ট সূত্রে জানা গেছে, ডিজিটাইজেশনের মাধ্যমে বাংলাদেশের বিচারিক কার্যক্রমকে এগিয়ে নিতে অনলাইন কজলিস্ট (মামলার কার্যতালিকা), জুডিসিয়াল মনিটরিং ড্যাশবোর্ড এবং আমার আদালত (মাইকোর্ট) মোবাইল অ্যাপ চালু করা হয়েছে। কোনো নির্দিষ্ট কার্যদিবসে আদালতে বিচারাধীন মামলার তালিকা জনগণ কিংবা বিচার সংশ্লিষ্ট যেকেউ causelist.judiciary.org.bd ওয়েবসাইট ও আমার আদালত (মাইকোর্ট) মোবাইল অ্যাপ ভিজিট করে তার মামলার সর্বশেষ তথ্যাদি পাচ্ছেন। ওয়েবসাইটে প্রথমে সংশ্লিষ্ট বিভাগ, পরে জেলা এবং সবশেষ সংশ্লিষ্ট আদালতের নাম সিলেক্ট করে বিচারপ্রার্থীরা তাদের মামলার সবশেষ আদেশ, পরবর্তী তারিখ এবং মামলার অবস্থা জানতে পারছেন সবাই। এ জুডিসিয়াল মনিটরিং ড্যাশবোর্ড বা বিচার বিভাগীয় ড্যাশবোর্ড-এর মাধ্যমে অধস্তন আদালতসমূহে বিচারাধীন এবং নিষ্পত্তি হওয়া মামলা সম্পর্কিত সব ধরনের উপাত্ত সংগ্রহ, প্রদর্শন ও সংরক্ষণ করা হচ্ছে। এতে অধস্তন আদালতের মনিটরিং ও ট্র্যাকিং সিস্টেম হিসেবে এর মাধ্যমে আদালতসমূহের প্রকৃত অবস্থা, বিচারকর্মের গতি-প্রকৃতি এবং বিচারিক নানা পরিসংখ্যান জানা যাচ্ছে।  সুপ্রিম কোর্টের রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বিচারপ্রার্থীসহ সর্বস্তরের জনগণ, বিচারকরা এবং আইনজীবীরা স্ব-স্ব প্রয়োজনে আমার আদালত (মাইকোর্ট) মোবাইল অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবেন। অ্যাপটির মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা অধস্তন আদালতের জন্য প্রস্তুতকৃত সব ডিজিটাল সেবাসমূহ গ্রহণ করতে পারবেন। বিচারক, আইনজীবী এবং জনসাধারণ আলাদাভাবে  এ অ্যাপের বিভিন্ন ফিচারগুলো ব্যবহার করতে পারবেন। গুগল-প্লে-স্টোর থেকে আমার আদালত (মাইকোর্ট) যে কেউ এই অ্যাপ ডাউনেলোড করতে পারবে।    বিচার বিভাগ ডিজিটালাইজেশনের কাজ প্রথম শুরু হয় ২০১৬ সালে সিলেট বিভাগ থেকে। এরপর ঢাকাসহ বাকি সবগুলো বিভাগে এর কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সুফলও মিলেছে দ্রুতই। বর্তমোনে ময়মনসিংহ ও রাজশাহী জেলা জজ আদালতে বিচারাধী (পেনডিং) মামলা নেই বললেই চলে। অন্যান্য জেলা জজ আদালতে ও সুপ্রিম কোর্টেও মামলা জট কমে এসছে। সুপ্রিম কোর্টে সিনিয়র আইনজীবী ও সাবেক আইনমন্ত্রী ব্যারিস্টার শফিক আহমেদ ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, ‌‘সুপ্রিম কোর্টসহ পুরো বিচার ব্যাবস্থায় ডিজিটালাইজেশন আসায় বিচারপ্রার্থী জনগণ ও আইনজীবী উভয়েরই ভোগান্তি কমতে শুরু করেছে। কমেছে দালালদের দৌরাত্বও। পুরোপুরি ডিজিটাল হলে সেকশনে ও বেঞ্চের কিছু অসাধু কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের ঘুষ বাণিজ্যও কমে যাবে। যা সবার জন্য স্বস্তির হবে।  এ ব্যাপারে আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পরে ভেরিফায়েবল আইডি, ট্রাঞ্জেকশন প্লাটফর্ম ও ইন্টার অপারেট্যাবল প্লাটফর্ম তৈরি করেছে। এর ফলে করোনাকালে এগুলোকে জোড়া লাগিয়েই আমরা অনলাইনে ও অফলনাইনের বিচার কাজ কাজ সচল রাখতে পেরেছি। মাত্র দুই মাসের মধ্যে ভার্চুয়াল কোর্ট চালু করা সম্ভব হয়েছে। ডিজিটালাইজশনের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হলে ভবিষ্যতে যেকোনো আপতকালিন সময়ে দেশের বিচার কাজ চলবে নির্বিঘ্নে।অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, বিচার বিভাগকে ডিজিটালাইজেশনের লক্ষ্যে চারু হওয়া ই-জুডিশিয়ারি প্রকল্পের কারণে বিচার প্রক্রিয়া অনেকটাই সহজ হয়ে এসছে। এটি পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে ভোগান্তি কমবে সাধারণ বিচারপ্রার্থী হতে শুরু করে আইনজীবী ও আদালতের। বছরের পর বছর আর আদালতে বারান্দায় ঘুরতে হবে না বিচারপ্রার্থী মুনুষকে। কমবে মামলা জটও। তখন বিচারের বাণী আর নিভৃতে কাঁদবে না।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ