Views Bangladesh Logo

জয়ের আলোয় ডাচ-জাপান, ঘুরে দাঁড়াতে মাঠে নামছে স্পেন

বিশ্বকাপের মঞ্চে প্রতিটি ম্যাচই যেন নতুন এক গল্প। প্রথম লড়াই সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দেয়, আর দ্বিতীয় ম্যাচেই অনেক সময় লেখা হয়ে যায় ভাগ্যের রূপরেখা। কোথাও আত্মবিশ্বাস আরও দৃঢ় হয়, কোথাও শুরু হয় বাঁচা-মরার লড়াই। সেই বাস্তবতায় আজ অস্তিত্ব রক্ষার কঠিন পরীক্ষায় মাঠে নামছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন স্পেন। অন্যদিকে দ্বিতীয় ম্যাচে দুর্দান্ত জয় তুলে শিরোপার পথে নিজেদের অবস্থান আরও শক্ত করেছে নেদারল্যান্ডস ও জাপান।

আটলান্টার মার্সিডিস-বেঞ্জ স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় রাত ১০টায় এইচ গ্রুপে সৌদি আরবের মুখোমুখি হবে স্পেন। প্রথম ম্যাচে নবাগত কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে চাপে পড়ে গেছে লা রোহারা। কারণ গ্রুপের চারটি দলই প্রথম ম্যাচ শেষে সমান এক পয়েন্ট নিয়ে অবস্থান করছে। ফলে আজকের ম্যাচে জয় না এলে শেষ ষোলোর পথ কঠিন হয়ে উঠবে, আর শেষ ম্যাচে উরুগুয়ের বিপক্ষে চাপ আরও বেড়ে যাবে।

তবে স্পেনের সবচেয়ে বড় শক্তি তাদের ভারসাম্যপূর্ণ দল। গোলবারে অভিজ্ঞ উনাই সিমন বারবার আস্থা জুগিয়েছেন। রক্ষণে রবিন লে নরমাঁ ও আয়মেরিক লাপোর্তের জুটি প্রতিপক্ষের আক্রমণ ঠেকাতে যথেষ্ট নির্ভরযোগ্য। মাঝমাঠে রদ্রি এখনও দলের প্রাণভোমরা। তার সঙ্গে পেদ্রির সৃজনশীলতা এবং ফাবিয়ান রুইজের পরিশ্রম ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে রাখতে সাহায্য করতে পারে।

আক্রমণভাগেও স্পেনের অস্ত্র কম নয়। ডান প্রান্তে বিস্ময়বালক লামিন ইয়ামাল, বাঁ দিকে গতিময় নিকো উইলিয়ামস—দুজনই মুহূর্তেই ম্যাচের চিত্র বদলে দেওয়ার সামর্থ্য রাখেন। তাদের গতি, ড্রিবলিং ও নিখুঁত ক্রস সৌদি রক্ষণকে কঠিন চ্যালেঞ্জে ফেলতে পারে। সামনে দানি ওলমো এবং মিকেল ওয়ারজাবালের ফিনিশিংও হতে পারে স্পেনের জয়ের সবচেয়ে বড় ভরসা।

তবে সৌদি আরবকে হালকাভাবে দেখার সুযোগ নেই। ২০২২ বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে যে দল পুরো বিশ্বকে চমকে দিয়েছিল, তারা এখনও সেই লড়াকু মানসিকতা ধরে রেখেছে। এবারের বিশ্বকাপেও প্রথম ম্যাচে উরুগুয়ের মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে ড্র করেছে সৌদিরা। সংগঠিত রক্ষণ, দ্রুত কাউন্টার অ্যাটাক এবং শৃঙ্খলাবদ্ধ ফুটবলই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি। সুযোগ পেলেই তারা ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।

অন্যদিকে দ্বিতীয় ম্যাচে বিশ্বকে নিজেদের সামর্থ্যের নতুন বার্তা দিয়েছে জাপান। বিশ্বকাপ ইতিহাসের এক হাজারতম ম্যাচকে স্মরণীয় করে রেখে তিউনিসিয়াকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে এশিয়ার এই পরাশক্তি। আয়াসে উয়েদার জোড়া গোলের সঙ্গে দাইচি কামাদা ও জুনিয়া ইতোর গোল শুধু বড় জয়ই এনে দেয়নি, বিশ্বকাপে এক ম্যাচে কোনো এশীয় দলের সর্বোচ্চ গোলের নতুন রেকর্ডও গড়েছে। এই পরাজয়ের মধ্য দিয়েই তিউনিসিয়ার বিশ্বকাপ যাত্রার ইতি ঘটেছে।

গোল উৎসবে পিছিয়ে ছিল না নেদারল্যান্ডসও। সুইডেনকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করে ডাচরা জানিয়ে দিয়েছে, তারা এবার শিরোপার অন্যতম শক্তিশালী দাবিদার। ১৯৭৪ বিশ্বকাপে এই দুই দলের একমাত্র সাক্ষাৎ হয়েছিল গোলশূন্য ড্রয়ে, যা স্মরণীয় হয়ে আছে ইয়োহান ক্রুইফের কিংবদন্তি ‘ক্রুইফ টার্ন’-এর জন্য। ৫২ বছর পর সেই স্মৃতির বিপরীতে এবার পাঁচ গোলের ঝড় তুলে নতুন ইতিহাস লিখেছে কমলা জার্সিধারীরা।

বিশ্বকাপের দ্বিতীয় ম্যাচগুলো তাই কেবল তিন পয়েন্টের হিসাব নয়, এগুলো স্বপ্ন টিকিয়ে রাখার লড়াইও। কেউ বড় জয় দিয়ে নকআউট পর্বের দরজায় কড়া নাড়ছে, আবার কেউ আজও লড়ছে নিজেদের বিশ্বকাপ বাঁচানোর জন্য। আর সেই লড়াইয়ের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হয়ে উঠেছে স্পেনের ঘুরে দাঁড়ানোর মিশন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ