Views Bangladesh Logo

মধ্য বাড্ডায় গৃহকর্ত্রীকে গলা কেটে হত্যা: ব্যক্তিগত গাড়িচালকের মৃত্যুদণ্ড

রাজধানীর মধ্য বাড্ডায় গৃহকর্ত্রী আফরোজা সুলতানাকে নৃশংসভাবে হত্যার মামলায় তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক মো. হৃদয় বেপারী ওরফে হৃদয় মিয়াকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। বিচারক রায়ে ঘটনাটিকে ‘বিরল থেকে বিরলতম’ অপরাধ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, বিশ্বাসের সুযোগ নিয়ে পরিকল্পিতভাবে এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে।

বুধবার (২৯ জুলাই) ঢাকার অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ-৩ আদালতের বিচারক মোহাম্মদ মঈন উদ্দীন চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মো. জহিরুল ইসলাম (কাইয়ুম) বলেন, মামলায় উপস্থাপিত সাক্ষ্য, আলামত ও বৈজ্ঞানিক প্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এ রায় দিয়েছেন। তাঁর ভাষ্য, এ রায়ের মাধ্যমে নিহতের পরিবার ন্যায়বিচার পেয়েছে।

মামলার নথি অনুযায়ী, ২০২২ সালের ১৩ মার্চ মধ্য বাড্ডার একটি বহুতল ভবনের দ্বিতীয় তলার ফ্ল্যাটে চাকরিজীবী আফরোজা সুলতানাকে একা পেয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন তাঁর ব্যক্তিগত গাড়িচালক হৃদয়। পরদিন নিহতের ভাই মো. আল মঞ্জিল বাড্ডা থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন।

তদন্তভার পায় ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) গুলশান বিভাগের একটি দল। তদন্ত কর্মকর্তা সাব-ইনস্পেক্টর মো. রিপন উদ্দিন সিসিটিভি ফুটেজ, প্রযুক্তিনির্ভর তথ্য, জব্দ করা আলামত এবং আসামির জবানবন্দির ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে হৃদয়ের সম্পৃক্ততার প্রমাণ সংগ্রহ করেন।

তদন্তে উঠে আসে, অনলাইন জুয়ার কারণে বিপুল অর্থের দেনায় জড়িয়ে পড়েছিলেন হৃদয়। সেই দেনা পরিশোধের উদ্দেশ্যে গৃহকর্ত্রীর স্বর্ণালঙ্কার লুটের পরিকল্পনা করেন তিনি। পরিকল্পনার অংশ হিসেবেই ঘটনার দিন আফরোজা সুলতানাকে হত্যা করে বাসা থেকে স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যান। পরবর্তীতে আসামির দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত প্রায় ৯ ইঞ্চি দৈর্ঘ্যের রক্তমাখা ছুরি, লুট করা ২২ দশমিক ৪ গ্রাম স্বর্ণালঙ্কার, রক্তমাখা টিস্যু, ভ্যানিটি ব্যাগ এবং নগদ ৬০০ টাকা উদ্ধার করা হয়।

ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন, সিআইডির ক্রাইম সিন ইউনিটের ডিএনএ বিশ্লেষণ এবং অন্যান্য ফরেনসিক পরীক্ষাতেও আসামির অপরাধের সঙ্গে আলামতের মিল পাওয়া যায়। এছাড়া আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন হৃদয়। মামলায় রাষ্ট্রপক্ষ মোট ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য উপস্থাপন করে। অভিযোগ গঠনের পর মাত্র ৩০ কার্যদিবসের মধ্যে সাক্ষ্যগ্রহণ, যুক্তিতর্ক ও বিচারিক কার্যক্রম শেষ হয়।

রায় ঘোষণাকালে বিচারক পর্যবেক্ষণে বলেন, অভিযুক্ত ব্যক্তি বিশ্বস্ত কর্মচারী হওয়া সত্ত্বেও সেই বিশ্বাসের চরম অপব্যবহার করে ঠান্ডা মাথায় এক নিরপরাধ নারীকে হত্যা করেছেন। এমন নৃশংস ও পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড সমাজে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। তাই অপরাধের ভয়াবহতা বিবেচনায় সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদানই ন্যায়বিচারের স্বার্থে উপযুক্ত বলে আদালত মনে করেন।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ