ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা কর দিতেই হবে: হাইকোর্টের রায়
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতে হবে বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত বিষয়ে জারি করা রুল খারিজ করে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়ার নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) এ রায় ঘোষণা করেন। আগামী ৩ অর্থবছরের মধ্যে এ অর্থ পরিশোধ করতে হবে বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ৪ আগস্ট মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের এনবিআরের ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিট খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রায় দেন। এতে করে মুহাম্মদ ইউনূসকে ৬৬৬ কোটি টাকা সরকারকে পরিশোধ করতে হবে বলে জানিয়েছিলেন আইনজীবীরা।
এর আগে, ওই বছরের ১১ মার্চ মুহাম্মদ ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণের ৬৬৬ কোটি টাকা কর দাবির মামলা তিন মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি করতে হাইকোর্টকে নির্দেশ দেন আপিল বিভাগ।
তবে ড. মুহাম্মদ ইউনূস অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হওয়ার পর ২০২৪ সালের ৩ অক্টোবর স্ব-প্রণোদিতভাবে হাইকোর্ট তার রায় প্রত্যাহার করে নেন। বিচারপতি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকার ও বিচারপতি সরদার মো. রাশেদ জাহাঙ্গীরের হাইকোর্ট বেঞ্চ ওই রায় প্রত্যাহার করে নেন। একইসঙ্গে প্রধান বিচারপতির কাছে এ মামলার নথি পাঠানো হয়। সেই নথি পুনরায় হাইকোর্টে পাঠানো হলে হাইকোর্ট রুল জারি করে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা করের বৈধতা প্রশ্নে রুল জারি করেন। ওই রুল খারিজ করে আজ রায় দেন হাইকোর্ট। এই রায়ের ফলে মুহাম্মদ ইউনূসের মালিকানাধীন গ্রামীণ কল্যাণের কাছ থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) দাবি করা ৬৬৬ কোটি টাকা কর পরিশোধ করতেই হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
গ্রামীণ কল্যাণের আইনজীবী খাজা তানভীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘এনবিআরের যে দাবিটি আমরা হাই কোর্ট বিভাগে চ্যালেঞ্জ করেছিলাম, আদালত আজ সেই রুল খারিজ করে দিয়েছেন। এর ফলে এনবিআরের দাবিটিই বহাল থাকল।’ রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা এই আদেশের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগে যাওয়ার চিন্তাভাবনা করছি। মক্কেলের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। তবে কবে নাগাদ ওই অর্থ পরিশোধ করতে হবে, তা পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশের পর জানা যাবে।’
মতামত দিন