Views Bangladesh Logo

শিশু সহিংসতা রোধে কঠোর ট্রাইব্যুনাল: নয় মাসে ২ মৃত্যুদণ্ড, ৪ যাবজ্জীবন

শিশুদের ওপর সহিংসতার ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে গঠিত বিশেষ ট্রাইব্যুনালে মামলা নিষ্পত্তির পাশাপাশি অপরাধীদের কঠোর সাজা দেওয়া হচ্ছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল ছয়টি মামলায় আসামিদের দণ্ড দিয়েছেন। এর মধ্যে দুটি মামলায় মৃত্যুদণ্ড এবং চারটি মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে।

ট্রাইব্যুনালের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, নয় মাসে আদালত মোট ৪৯টি মামলা নিষ্পত্তি করেছেন। এর মধ্যে ছয়টি মামলায় আসামিদের সাজা হয়েছে। বর্তমানে ট্রাইব্যুনালে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা ১ হাজার ৯২১টি।

এর আগে গত ৭ জুন পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসা আক্তারকে হত্যার মামলায় আসামি সোহেল রানা ও তাঁর স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত। মাত্র পাঁচ কার্যদিবসে মামলাটির বিচার শেষ করে রায় ঘোষণা করা হয়।

নারী ও শিশু নির্যাতন প্রতিরোধ এবং অপরাধের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে ২০০০ সালে প্রণীত হয় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন। এ আইনের আওতায় প্রতিটি জেলা সদরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল গঠনের বিধান রাখা হয়। প্রয়োজনে কোনো জেলায় একাধিক ট্রাইব্যুনাল প্রতিষ্ঠার সুযোগও রয়েছে।

পরবর্তী সময়ে শিশু ধর্ষণ ও ধর্ষণের পর হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের মামলাগুলোর বিচার দ্রুত সম্পন্ন করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করা, ভুক্তভোগী শিশুর সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আওতায় আনাকে এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করা হয়। ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল গত বছরের জুনে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারকাজ শুরু করে।

এ ট্রাইব্যুনালে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ৯(১) ধারায় ধর্ষণের পর হত্যার মামলার বিচার করা হয়। এ ধরনের অপরাধ প্রমাণিত হলে আইনে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান রয়েছে।

ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, শিশু নির্যাতনের মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তিতে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। এ ধরনের অপরাধের বিচার ত্বরান্বিত করতেই বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠন করা হয়েছে। এসব মামলায় কারাদণ্ডের পাশাপাশি মৃত্যুদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশও দেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, কোনো কোনো রায়ে ক্ষতিপূরণের অর্থ ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ শাস্তির বিধান প্রয়োগ করছে ট্রাইব্যুনাল।


মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ