Views Bangladesh Logo

জ্বালানি তেলের সংকটে থমকে যাচ্ছে স্বাভাবিক জীবন

Masum   Hossain

মাসুম হোসেন

ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আহসান হাবিব। ঈদের ছুটিতে এসেছিলেন নিজ বাড়ি বগুড়ায়। পরিবারের সঙ্গে আনন্দঘন সময় কাটছিল তার। কিন্তু হঠাৎই সেই আনন্দে ভর করে অনিশ্চয়তার ছায়া। নির্ধারিত সময়ের একদিন আগেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দেন তিনি। একটাই শঙ্কা, পেট্রল পাম্প বন্ধ হয়ে গেলে যাত্রাপথে হবে ভোগান্তি। আহসান হাবিব বগুড়ার জাহাঙ্গীরাবাদ ফুলতলা এলাকার বাসিন্দা।

তিনি জানান, ২৪ মার্চ তার ঢাকায় যাওয়ার তারিখ থাকলেও একদিন আগেই তিনি রওনা দিয়েছেন। শোনা যাচ্ছে তেল সংকটে পেট্রল পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তিনি কোনো ঝামেলায় পড়তে চান না, তাই আগেই কর্মস্থলের পথে রওনা দিয়েছেন।

আহসান হাবিবের মতোই দুশ্চিন্তায় আছেন একই এলাকার বাসিন্দা শোভন ইসলামও।

তিনি জানান, খবর পাচ্ছি পাম্প বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ঈদের আগেই তেলের সংকট ছিল। এখন তো আরও খারাপ অবস্থা। তিনদিন ঘুরে মোটরসাইকেলের জন্য মাত্র ৪ লিটার পেট্রল পেয়েছি। সামনে কী হবে বুঝতে পারছি না।

সোমবার (২৩ মার্চ) বিকেলে বগুড়া শহরের বনানী এলাকায় মেসার্স হক এন্ড কোং পেট্রল পাম্প নামের ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, তেল নিতে দীর্ঘ সারিতে অপেক্ষা করছেন মোটরসাইকেল ও বিভিন্ন গাড়িচালকরা। তারা আশঙ্কায় রয়েছেন তেল পাওয়া যাবে কিনা এনিয়ে।

পাম্প কর্তৃপক্ষ জানায়, সোমবারই তারা ৩ হাজার লিটার পেট্রল, ৩ হাজার লিটার অকটেন এবং ৯ হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছেন। এর আগে গত ১৫ মার্চ ৪ হাজার লিটার পেট্রল এবং গত ১১ মার্চ ৪ হাজার লিটার অকটেন পেয়েছিলেন তারা। যা তাদের চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়।

হক পাম্পের ম্যানেজার সাখাওয়াত হোসেন ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, বর্তমানে মোটরসাইকেলে সর্বোচ্চ ৩ লিটার এবং প্রাইভেটকারে ১০ লিটার করে পেট্রল বা অকটেন দেওয়া হচ্ছে। যাত্রীবাহী বাসগুলোতে প্রয়োজন অনুযায়ী ১০০ থেকে ১২০ লিটার পর্যন্ত ডিজেল দেওয়া হচ্ছে।

পরবর্তীতে বগুড়ার বেতগাড়ী এলাকার শাহ্ সুলতান ফিলিং স্টেশনে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে পেট্রল বা অকটেনের কোনো মজুত নেই।

স্টেশনটির সেলসম্যান আবু সাঈদ ভিউজ বাংলাদেশকে জানান, ঈদের আগে থেকেই আমরা পেট্রল-অকটেন পাইনি। শুধু ঈদের আগের দিন ৯ হাজার লিটার ডিজেল পেয়েছি। সেটিও সীমিতভাবে দেওয়া হচ্ছে।

বাস্তবে তেলের সংকট থাকলেও বিষয়টি অস্বীকার করছে যমুনা অয়েল কোম্পানি লিমিটেড।

প্রতিষ্ঠানটির বগুড়া অঞ্চলের এজিএম এর কাছে মুঠোফোনে জানতে চাইলে নাম প্রকাশ না করে তিনি জানান, তেলের কোনো সংকট নেই। মানুষ আতঙ্কিত হয়ে তেল বেশি বেশি কিনছেন। এছাড়া কোনো ধরণের সমস্যা নেই।

অন্যদিকে পেট্রল পাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের রাজশাহী-রংপুর বিভাগের সভাপতি মিজানুর রহমান রতন ভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছেন।

তিনি বলেন, চাহিদার তুলনায় তেলের সরবরাহ কম। তেলের সংকট রয়েছে। এই অবস্থা চলতে থাকলে সামনের দিনগুলোতে পাম্প বন্ধ হওয়ার আশঙ্কাও রয়েছে।

তিনি আরও জানান, বগুড়া অঞ্চলে মোট ৭২টি পেট্রল পাম্প রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো পাম্প পুরোপুরি বন্ধ না হলেও সীমিত আকারে তেল বিক্রি করা হচ্ছে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ