ডাঙায় উঠেও কুকুর শিকার করে দিঘির সেই কুমির
শুধু জল বা দিঘির পাড় নয়, ডাঙায় উঠেও কুকুর শিকার করতে পারদর্শী বাগেরহাটের হযরত খান জাহান আলী (র.) মাজার সংলগ্ন দিঘির কুমির। দেড় যুগেরও বেশি সময় আগে থেকে এই দিঘির কুমিরগুলো ডাঙায় উঠে শিকার করে আসছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
নিরাপত্তার স্বার্থে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দিঘি থেকে কিছুটা দূরে একটি কুকুর শুয়ে ছিল। তখন একটি কুমির দিঘি থেকে ডাঙায় উঠে ধীরে ধীরে সেটির দিকে অগ্রসর হয়। এক পর্যায়ে কুকুরটিকে শিকার করে পানিতে নিয়ে যায়। প্রায় ৩০ মিনিট পর কুকুরটির নিথর দেহ দিঘিতে ভেসে ওঠে।
তিনি আরও জানান, কুমির সাধারণত শিকার করা কুকুর তৎক্ষণাৎ খায় না। প্রথমে সেটিকে পানির গভীরে নিয়ে মেরে ফেলে। কিছুক্ষণ পর শিকারটি ভেসে উঠলে এবং পানিতে ভিজে মাংস নরম হলে কুমির তা খাওয়া শুরু করে।
ওই বাসিন্দার মতে, কুকুর এবং গুইসাপ এই দিঘির কুমিরের অত্যন্ত পছন্দের খাবার।
মাজার এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বর্তমানে দিঘিতে একটি মাত্র কুমির রয়েছে। ২০০৫ সালে ভারত থেকে আনা কয়েকটি কুমিরের মধ্যে শুধুমাত্র এটিই বেঁচে আছে, বাকিগুলো মারা গেছে। এই কুমিরটিকে আগে প্রায়ই ডাঙায় উঠে গুইসাপ শিকার করতে দেখা যেত। তবে বর্তমানে দিঘির পাড়ে গুইসাপের সংখ্যা কমে যাওয়ায় এমন দৃশ্য আর খুব একটা চোখে পড়ে না।
সম্প্রতি গত ৮ এপ্রিল একটি আহত কুকুরকে দিঘির পাড় থেকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনার সৃষ্টি হয়। প্রশ্ন ওঠে, কুকুরটি কীভাবে আহত হলো?
স্থানীয়দের দাবি, কুকুরটি দিঘির কাছে কয়েকজনকে কামড় দেয়। এক পর্যায়ে মাজারের নিরাপত্তাপ্রহরী ফোরকানকে কামড়াতে গেলে তিনি পা দিয়ে ঝাড়া দিলে কুকুরটি দিঘিতে পড়ে যায়। আগে থেকেই আহত থাকা কুকুরটিকে মুহূর্তেই কুমির ধরে নিয়ে যায়। পরে সেটির মৃতদেহ পানিতে ভেসে ওঠে।
সেদিন কুকুরটির সঙ্গে প্রকৃতপক্ষে কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিত হতে মাজারের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন জানান, তদন্ত শেষে প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে