খান জাহানের কুমির কাণ্ড-৩
শুধু কুকুর নয়, দু’জন মানুষকেও দিঘিতে টেনে নিয়েছিল মাজারের কুমির
বাগেরহাটে হজরত খান জাহান আলী (র.)-এর মাজার শরিফে থাকতেন মানসিক ভারসাম্যহীন মরিয়ম (৫৫)। সেখানে টুকটাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করতেন। পাশাপাশি মাজারসংলগ্ন দিঘিরপাড় গ্রামে বাড়ি বাড়ি গিয়ে কাজও করতেন। এভাবেই চলছিল তার জীবন।
প্রায় এক যুগ আগের ঘটনা। এক ভোরে দিঘিতে থালাবাসন ধোয়ার সময় হঠাৎ একটি কুমির এসে তাকে টেনে নিয়ে যায় গভীর পানিতে। কিছুক্ষণ পর মরিয়মের নিথর দেহ ভেসে ওঠে। পাশেই ছিল সেই কুমির।
এর প্রায় তিন বছর আগে ঘটে আরেকটি ঘটনা। মায়ের সঙ্গে মাজারের দিঘিতে এসেছিল এক কিশোর। একপর্যায়ে সে পানিতে নামলে হঠাৎ কুমির তার পা টেনে ধরে। ছেলেটি চিৎকার করলে মা তাকে টানার চেষ্টা করেও শেষ পর্যন্ত বাঁচাতে পারেননি। কুমির তাকে গভীর পানিতে নিয়ে যায়। পরে মরিয়মের মতোই কিশোরের মরদেহ পানিতে ভেসে ওঠে। আর পাশে দেখা যায় কুমিরটিকে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা জানান, মরিয়ম বাগেরহাটের বাগমারা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন এবং নিহত কিশোরটি ফতেহপুর বাজার এলাকার। তবে এসব ঘটনা মাজারের খাদেমরা ধামাচাপা দিয়েছেন।
তারা আরও জানান, এসব তথ্য প্রকাশ পেলে কুমিরকে ঘিরে মাজারে যে ব্যবসা চলে, তা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এই আশঙ্কায় ঘটনাগুলো গোপন রাখা হয়।
গত ৮ এপ্রিল আলোচনায় আসে দিঘির সেই কুমিরে ‘কাণ্ড’। একটি আহত কুকুরকে দিঘির পাড় থেকে টেনে নিয়ে যাওয়ার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশজুড়ে সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, কুকুরটি আগে কয়েকজনকে কামড়েছিল। একপর্যায়ে মাজারের নিরাপত্তাপ্রহরী ফোরকানকে কামড়াতে গেলে তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি দিঘিতে পড়ে যায়। তখনই কুমির সেটিকে ধরে গভীরে নিয়ে যায়। পরে কুকুরটির মরদেহ পানিতে ভেসে ওঠে।
তবে কুকুরটির সঙ্গে সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল, তা নিশ্চিতভাবে জানতে সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখতে হবে। তাহলে সঠিক ঘটনা বের হবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
তবে কুকুরের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটির প্রধান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুন জানিয়েছেন, তদন্ত প্রতিবেদনে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরা হবে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে