রানা প্লাজা নির্মাণে দুর্নীতির মামলা: সোহেল রানাসহ ৮ জনের রায় পিছিয়ে ৬ অক্টোবর
সাভারের আলোচিত রানা প্লাজা ভবন নির্মাণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা মামলায় ভবনটির মালিক সোহেল রানাসহ আট আসামির রায় আবারও পিছিয়েছে। আগামী ৬ অক্টোবর মামলাটির রায় ঘোষণার নতুন তারিখ নির্ধারণ করেছেন আদালত। একই দিন মামলাটিতে পুনরায় যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের জন্যও সময় রাখা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ঢাকার বিভাগীয় স্পেশাল জজ আদালতের বিচারক বি এম তারিকুল কবীর নতুন এ তারিখ ঘোষণা করেন। এর আগে ১৬ আগস্ট রায় ঘোষণার দিন ঠিক করা হলেও নির্ধারিত সময়ে রায় প্রস্তুত না হওয়ায় তা পিছিয়ে ১ সেপ্টেম্বর করা হয়েছিল।
মামলার আট আসামির মধ্যে সোহেল রানা ছাড়া রয়েছেন সাভার পৌরসভার সাবেক মেয়র রেফাত উল্লাহ, সাবেক প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা উত্তম কুমার রায়, নির্বাহী প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক সহকারী প্রকৌশলী মাহবুবুর রহমান, সাবেক উপসহকারী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান রাসেল, সাবেক টাউন প্ল্যানার ফারজানা ইসলাম এবং লাইসেন্স পরিদর্শক মো. আবদুল মোত্তালিব। সোহেল রানা এ মামলায় জামিনে থাকলেও রানা প্লাজা ধসে শ্রমিক নিহতের ঘটনায় করা হত্যা মামলায় তিনি কারাগারে রয়েছেন। রায়ের দিন তাকে কারাগার থেকে আদালতে আনা হবে। অন্যদিকে মাহবুবুর রহমান ও ফারজানা ইসলাম পলাতক।
২০১৩ সালের ২৪ এপ্রিল সকালে সাভার বাসস্ট্যান্ডের কাছে রানা প্লাজা ধসে ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনা ঘটে। মুহূর্তের মধ্যে ধসে পড়া ভবনের নিচে চাপা পড়ে ১ হাজার ১৩৬ জনের বেশি মানুষ নিহত হন। নিহতদের বড় অংশই ছিলেন ভবনটিতে থাকা পোশাক কারখানার শ্রমিক। দুর্ঘটনার পর ভবন নির্মাণের নকশা অনুমোদন, অতিরিক্ত তলা নির্মাণ এবং সেখানে পোশাক কারখানা স্থাপনের অনুমতিসহ বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসে।
এসব অভিযোগ তদন্ত করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ২০১৪ সালের ১৫ জুন নকশাবহির্ভূতভাবে ভবন নির্মাণের অভিযোগে ১৭ জনের বিরুদ্ধে সাভার থানায় মামলা করা হয়। পরে অধিকতর তদন্তে সোহেল রানার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়ে ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি সোহেল রানা, তার বাবা-মাসহ ১৮ জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করে দুদক। অভিযোগ গঠনের সময় আটজনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। পরে সোহেল রানার বাবা আবদুল খালেক ও মা মর্জিনা খাতুন বেগম মারা গেলে তাদেরও মামলা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। এতে আটজনের বিরুদ্ধে বিচার চলতে থাকে।
মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, ২০০৬ সালে ছয়তলা শপিং কমপ্লেক্স নির্মাণের নকশা অনুমোদন দেওয়া হলেও পরে ভবনটির ওপর আরও চারটি তলা নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। পাশাপাশি শপিং কমপ্লেক্স হিসেবে অনুমোদিত ভবনে পাঁচটি পোশাক কারখানা পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এসব অনুমোদন ও ভবন নির্মাণের বিভিন্ন পর্যায়ে অনিয়মের অভিযোগেই মামলাটি করা হয়। ২০১৭ সালের ২১ মে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে বিচার শুরু হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রপক্ষের ২০ সাক্ষীর মধ্যে ১৯ জন আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ ও জেরা শেষে মামলাটি রায় ঘোষণার পর্যায়ে পৌঁছালেও এবারও তা পিছিয়ে ৬ অক্টোবর করা হলো।
মতামত দিন