রামিসা হত্যা মামলায় বাবা-মাসহ ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ সম্পন্ন
রাজধানীর পল্লবী এলাকায় আট বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণ ও নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় করা মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে। চার্জগঠনের পরদিনই আদালতে হাজির হয়ে জবানবন্দি দিয়েছেন রামিশার বাবা-মা ও বোনসহ মোট ১০ জন সাক্ষী।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত ঢাকার শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে এই সাক্ষীদের জবানবন্দি রেকর্ড করা হয়।
আজ সকাল পৌনে নয়টায় মামলার প্রধান আসামী সোহেল রানাকে ঢাকার কেন্দ্রীয় কারাগার কেরানীগঞ্জ থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে আনা হয়। এ সময় তাদেরকে ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়। এরপর সকাল ১০টা ১২ মিনিটে সোহেল রানা এবং ১০টা ২৪ মিনিটে স্বপ্না আক্তারকে কাঠগড়ায় হাজির করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে গত সোমবার (১ জুন) আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করে আদালত আজ সাক্ষ্য গ্রহণের দিন ধার্য করেছিলেন।
টানা কয়েক ঘণ্টার এই শুনানিতে প্রথম সাক্ষী হিসেবে জবানবন্দি দেন রামিশার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা। তিনি অসুস্থ থাকায় আদালতের অনুমতি নিয়ে চেয়ারে বসে বিচারকের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। এরপর বেলা ১১টার দিকে রামিশার মা তার সাক্ষ্য দেওয়া শুরু করেন।
বন্ধ কক্ষে (ক্লোজড ডোর) জবানবন্দি দেন রামিশার বড় বোন। তার বয়স এবং পারিপার্শ্বিক অবস্থা বিবেচনা করে আদালত এই সিদ্ধান্ত নেন। এছাড়া রামিশার ফুফু ও চাচাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও এদিন আদালতে সাক্ষ্য দেন। বেলা ১২টা ৫০ মিনিটের মধ্যে ১০ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষ হলে আদালত মধ্যাহ্নভোজের বিরতিতে যায়।
আদালতের বেঞ্চ সহকারী পঙ্কজ পিটার গোমেজ জানান, মামলার চার্জশিটে (অভিযোগপত্র) মূলত ১৮ জন সাক্ষীর নাম উল্লেখ ছিল। তবে সেখানে একজনের নাম দুবার আসায় প্রকৃতপক্ষে ১৭ জন সাক্ষীকে তলব করে সমন জারি করা হয়েছিল।
প্রথম দিন সাক্ষ্য দেওয়া ১০ জন ছাড়াও এই মামলায় সমন পাওয়া অন্য সাক্ষীদের মধ্যে রয়েছেন— সুরতহাল ও জব্দ তালিকার সাক্ষী মিজানুর রহমান লিটন; প্রত্যক্ষদর্শী শেখ আবু সামা, মনির হোসেন, মোহাম্মদ জাকিরুল ইসলাম রাজু, মাহমুদা খাতুন, মনিরুজ্জামান শাহীন ও পারভীন আক্তার; শরিফ মিয়া; রুমা আক্তার; পল্লবী থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) রাশেদুল ইসলাম, এসআই ইকবাল হোসেন, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) ইশহাক আলী; ফরেনসিক ডিএনএ বিশেষজ্ঞ শুভজয় বৈদ্য এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার এসআই মো. ওহিদুজ্জামান।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে