রাজনীতি ও জনপ্রশাসন
তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তনের রাজনৈতিক গুরুত্ব কী?
প্রায় দেড় যুগ পরে প্রিয় মাতৃভূমিতে ফিরে একজন রাজনৈতিক নেতা তো বটেই, যেকোনো সাধারণ মানুষেরও যে অনুভূতি হয়, তাতে জুতা মোজা খুলে খালি পায়ে মাটিতে হাঁটা, মাটির ঘ্রাণ নেয়া অস্বাভাবিক কোনো দৃশ্য নয়। সুতরাং, ১৭ বছর লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটিয়ে ২৫ ডিসেম্বর দুপুরে ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমাবন্দরে নেমে তারেক রহমানের খালি পায়ে হাঁটার দৃশ্যটি মানুষেকে যতটা না আপ্লুত করেছে, তার চেয়ে বেশি দৃষ্টি কেড়েছে তিনশো ফুট এলাকায় সংবর্ধনা মঞ্চে বিশেষ চেয়ার সরিয়ে সাধারণ চেয়ারে বসা এবং ১৬ মিনিটের বক্তৃতায় রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের ব্যাপারে কোনো নেতিবচক মন্তব্য না করা, বিষোদ্গার না করা, আমিত্বের অহমিকা না দেখানো এবং মানুষকে আকাশকুসুম স্বপ্ন না দেখানো। সেইসাথে যুক্তরাষ্ট্রের প্রখ্যাত নাগরিক অধিকার নেতা, ধর্মযাজক ও অহিংস আন্দোলনের প্রতীক মার্টিন লুথার কিংয়ের ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’-এর অনুকরণে ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ (আমার একটি পরিকল্পনা আছে) বলার মধ্য দিয়ে তারেক রহমান যে রাজনৈতিক দূরদর্শিতা এবং বক্তৃতায় বাক্য ও শব্দচয়নে মিতব্যয়িতা প্রদর্শন করলেন, সেটি তার ভবিষ্যৎ রাজনীতির গতিপ্রকৃতি বুঝতে হয়তো কিছুটা হলেও সহায়ক হবে।

বিজয়ের মাসে বাংলাদেশ: মৌলবাদী উত্থান কিংবা বিজয়ের চেতনার নবজাগরণ
ডিসেম্বর এলেই বাংলাদেশের হৃদয়ে এক অদ্ভুত আলো জ্বলে ওঠে—বিজয়, শোক আর গৌরব মিলেমিশে তৈরি হয় এক অপ্রতিরোধ্য আবেগ। ১৯৭১-এর বিজয় শুধু একটি যুদ্ধের সমাপ্তি নয়, বরং ছিল এক জাতির অস্তিত্ব রক্ষার জয়, এক সভ্যতার মুক্তি। প্রতি বছর ডিসেম্বর তাই আমাদের মনে করিয়ে দেয় সেই মুক্তিযোদ্ধাদের আত্মত্যাগের গল্প, শত বাধা পেরিয়ে জন্ম নেওয়া একটি লাল-সবুজ পতাকার গর্ব। তবে বর্তমান বাস্তবতায় প্রশ্ন জাগে—বিজয়ের ৫৩ বছর পর আমরা কি সেই চেতনা ঠিকভাবে ধারণ করতে পারছি? নাকি সময়ের স্রোতে, রাজনৈতিক অস্থিরতায় এবং সামাজিক বিভাজনে সেই আলো ক্ষীণ হয়ে আসছে? কয়েকটি সাম্প্রতিক ঘটনা যেন এ প্রশ্নটিকে আরও তীব্র করে তুলেছে।
ভবিষ্যৎ রাজনীতি কাদের হাতে?
‘বাংলাদেশের রাজনীতির নিয়ন্ত্রণ যাদের হাতে, তারা অন্তর্গতভাবেই অগণতান্ত্রিক এবং এখানে শাসকশ্রেণির পড়ালেখা ও বিদ্যাশিক্ষার মান অত্যন্ত নিম্ন।’ ইংরেজি দৈনিক নিউএজের সম্পাদক নুরুল কবির যেদিন এই বক্তব্য দেন, তার ঠিক আগের দিন দেশের ইতিহাসে প্রথম কোনো সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে (শেখ হাসিনা) মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়। প্রয়াত রাজনীতিবিদ ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদের একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে নুরুল কবির বলেন, ‘বাংলাদেশ রাষ্ট্রের প্রথম দিন থেকে আজ পর্যন্ত গণতন্ত্র বলতে যা বোঝায় তা কখনো ছিল না।’
আশা থেকে অনিশ্চয়তার পথে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার
প্রধান উপদেষ্টা ১৩টা দেশে ১৪ বার ঘুরেছেন- শুনলেই মনে হয়, দারুণ কিছু ঘটেছে। কিন্তু এসব সফরের আসল ফল কোথায়? বাংলাদেশের জন্য নতুন কোনো বাণিজ্য, বড় বিনিয়োগ, কিংবা উল্লেখযোগ্য চুক্তি- কিছুই চোখে পড়ে না।
‘জুলাই সনদ’ ইস্যুতে রাজনৈতিক সংশয় কাটাতে করণীয়
অনেক আশা নিয়ে দেশটা স্বাধীন হলো। গুটিকয় পরিবার ছাড়া স্বাধীনতার জন্য সবাই মূল্য দিয়েছে; কিন্তু স্বাধীনতার ফল পকেটে পুরেছে কিংবা আঁচলে বেঁধেছে হাতেগোনা কিছু পরিবার ও গোষ্ঠী।
বৈষম্য নিরসনে কতটা পথ পেরোল বাংলাদেশ?
জাতি, ধর্ম, বর্ণ, লিঙ্গ, বয়স ইত্যাদির ভিত্তিতে কারও প্রতি পক্ষপাতমূলক আচরণকেই বৈষম্য বলে। বৈষম্যের সঙ্গে মঙ্গল-অমঙ্গলের সম্পর্ক থাকা বাধ্যতামূলক নয়।
বঙ্গভঙ্গের কুশীলব কে?
দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ বাঙালি জাতিকে নিয়ন্ত্রণ করার কৌশল রূপে নানা পদক্ষেপ কার্জন গ্রহণ করেছিলেন। বাঙালি জাতিকে ধর্মের বিভাজনে দ্বিখণ্ডিত করার অভিপ্রায়ে ১৯০২ সালে বাংলা বিভক্তি অর্থাৎ বঙ্গভঙ্গের উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
ইসরায়েলের অবস্থা কি ‘দক্ষিণ আফ্রিকার’ মতো হচ্ছে?
গাজায় যুদ্ধ চলছে। এরই মধ্যে ইসরায়েল দিন দিন আন্তর্জাতিক বিচ্ছিন্নতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বলে মনে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠেছে, ইসরায়েলের অবস্থা কি তবে ‘দক্ষিণ আফ্রিকার’ মতো হচ্ছে?
পিআর পদ্ধতি কার্যকর করতে আগে দরকার প্রশাসনিক সংস্কার
বাংলাদেশে পিআর পদ্ধতি প্রয়োগের পূর্বে আমরা জেনে নিই সুইডিশ রাজনীতির বৈশিষ্ট্য। সুইডিশ রাজনীতিতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির জন্য মনোনয়ন প্রক্রিয়ায় কঠোর নিয়ম ও অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র মেনে চলে।
নরওয়ের রাজনীতি বনাম বাংলাদেশের বাস্তবতা
নরওয়ে সদ্য একটি জাতীয় নির্বাচন সম্পন্ন করেছে। পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল স্বচ্ছ, শান্তিপূর্ণ এবং গণতান্ত্রিক মানদণ্ডে উদাহরণস্বরূপ। ফলাফল ঘোষণার পর সেখানে এক চমৎকার রাজনৈতিক সংস্কৃতির প্রকাশ ঘটে। বিজয়ী দল নির্বাচনি সাফল্যের আনন্দে উচ্ছ্বসিত হলেও তারা দায়িত্বশীল আচরণ করেছে- প্রতিপক্ষকে অপমান না করে বরং ভবিষ্যতের কাজের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।