বগুড়ায় পরাজিত প্রার্থীর কাঁধে জামায়াত, প্রতীকেই ভরসা বিএনপির
প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান বগুড়া-৬ (সদর) আসন ছেড়ে দেওয়ার পর থেকেই শুরু হয়েছে নতুন হিসাব-নিকাশ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ভোটে জয় পাওয়া বিএনপির এই আসন এখন উপনির্বাচনের মাঠে পরিণত হওয়ায় জেলার রাজনীতি ফের উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে।
বগুড়ায় একটি বহুল প্রচলিত প্রবাদ রয়েছে, ‘এ জেলায় বিএনপি থেকে কলাগাছ দাঁড় করালেও জয়ী হবে’। বিশেষ করে বগুড়া-৬ (সদর) ও বগুড়া-৭ (শাজাহানপুর-গাবতলী) আসনে কথাটি বেশি শোনা যায়। এই দুই আসন জিয়া পরিবারের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ফলে বগুড়া-৬ আসনে ব্যক্তি নয়, ধানের শীষ প্রতীকই বিএনপির প্রধান শক্তি।
অন্যদিকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী লড়াইয়ে নামছে সংগঠনভিত্তিক ভোটব্যাংক ও সমর্থকদের ওপর ভর করে। সেইসাথে প্রার্থীর ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতাও উপনির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলবে।
বিএনপির স্থায়ী নেতাকর্মীরা বলছেন, বগুড়া-৬ ও বগুড়া-৭ আসন হলো জিয়া পরিবারের আসন। এখানে ধানের শীষের বিপক্ষে যেকোনো প্রার্থীই বিপুল ভোটে পরাজিত হবেন।
সম্প্রতি শেষ হওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে তারেক রহমান পেয়েছিলেন ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছিলেন ৯৭ হাজার ৬২৬ ভোট। বড় ব্যবধানে পরাজয়ের পরও সেই সোহেলকেই আবারও প্রার্থী করেছে জামায়াতে ইসলামী।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে তিনি জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিমের কাছ থেকে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেন। আবিদুর রহমান সোহেল বগুড়া শহর জামায়াতে ইসলামীর আমির।
এর আগে, দলীয় মনোনয় পাওয়ার পর জেলা বিএনপির সভাপতি ও বগুড়া পৌরসভার সাবেক মেয়র রেজাউল করিম বাদশা শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে জেলা সিনিয়র নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ফজলুল করিমের কার্যালয় থেকে মনোনয়নপত্র উত্তোলন করেন।
জানতে চাইলে বিএনপির প্রার্থী রেজাউল করিম বাদশা ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, উপনির্বাচনে জয়ের ব্যাপারে আমি শতভাগ আশাবাদী।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী আবিদুর রহমান সোহেল ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, তারেক রহমানের সঙ্গে নির্বাচন করাটা ছিল জটিল। এখন রেজাউল করিম বাদশার বিষয়টা তেমন জটিল নয়।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে