ঢাকার রাস্তায় সাংবাদিক পেটালো বিএনপি
আজ ঢাকায় রাজনৈতিক দলের সমাবেশে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিএনপি নেতা কর্মিদের হামলার শিকার হয়েছেন সাংবাদিকরা। ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নসহ সাংবাদিকদের উপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন সাংবাদিক সংগঠনগুলো।
শেষ খবর পাওয়া পর্যর্ত আজ ঢাকার সমাবেশে সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে বিএনপির নেতাকর্মিদের হামলায় আহত হয়েছেন নিউ এইজের সিনিয়র রিপোর্টার আহম্মাদ ফয়েজ, বাংলা ট্রিবিউনের সালমান তারেক শাকিল, ফটো সাংবাদিক সাজ্জাদ হোসেন, জোবায়ের আহমেদ, দৈনিক কালবেলার রাফসান জানি, আবু সালেহ মুসা, রবিউল ইসলাম রুবেল এবং তৌহিদুল ইসলাম তারেক, ঢাকা টাইমসের প্রতিবেদক সালেকিন তারিন, ব্রেকিং নিউজের ক্রাইম রিপোর্টার কাজী ইহসান বিন দিদার, দৈনিক ইনকিলাবের ফটোসাংবাদিক এফ এ মাসুম, দৈনিক ইত্তেফাকের মাল্টিমিডিয়ার রিপোর্টার তানভীর আহাম্মেদ, একুশে টিভির রিপোর্টার তৌহিদুর রহমান ও ক্যামেরা পারসন আরিফুর রহমান, দৈনিক দেশ রূপান্তর পত্রিকার সাংবাদিক আরিফুর রহমান রাব্বি, ইত্তেফাকের সাংবাদিক শেখ নাছের ও ফ্রিল্যান্সার মারুফ।
রাজধানীতে সহিংসতার তথ্য ও ছবি সংগ্রহ করতে গিয়ে বিএনপি কর্মীদের হামলায় অন্তত ১০ জন গণমাধ্যমকর্মী আহত হয়েছে। এসময় তাদের পিটিয়ে রক্তাক্ত করা হয়। আহত পাঁচ সাংবাদিককে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার সময় ভাঙচুর করা হয়েছে ক্যামেরা, ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে মোবাইল ফোন।
বিএফইউজের বিবৃতি
সাংবাদিকদের উপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে অবলিম্বে হামলাকারীদের গ্রেফতার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন বিএফইউজে- বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ওমর ফারুক ও মহাসচিব দীপ আজাদ।
বিবৃতিতে তারা জানান, শনিবার বিএনপির ডাকা সমাবেশে যোগ দেওয়া নেতাকর্মীরা নগরীর বিভিন্ন স্থানে ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ চালাতে গেলে সেই দৃশ্য ধারণ করেন সাংবাদিকরা। তাতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন বিএনপি ও জামায়াত কর্মীরা। তারা হামলে পড়েন সাংবাদিকদের ওপর।
শনিবার বিএনপি ও জামায়াতের সমাবেশে পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে হামলার শিকার হয়েছেন দৈনিক ইত্তেফাকের মাল্টিমিডিয়া জার্নালিস্ট শেখ নাসির। তার ওপর হামলা করে বিএনপি কর্মীরা। রাজারবাগ এলাকায় একুশে টেলিভিশনের গাড়িতে হামলা চালিয়ে ক্যামেরা ভাংচুর করে জামায়াত- বিএনপির কর্মী। এসময় আহত হন একুশে টিভির সাংবাদিক তৌহিদুর রহমান ও ক্যামেরা পারসন আরিফুর রহমান। নাইটেংগেল মোড়ে ভাঙচুর করা হয় যমুনা টেলিভিশনের একটি গাড়ি।
এদিকে আরামবাগ মোড়ে নটরডেম কলেজের সামনে বিএনপি'র কর্মীদের হাতে লাঞ্ছিত হতে হয়েছেন ভোরের কাগজের ফটো সাংবাদিক মাসুদ পারভেজ আনিস। তিনি জানিয়েছেন, তাকে মারধর করে ক্যামেরা নিয়ে গেছে যুবদল কর্মীরা। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের পোস্টার ফেস্টুনে রাস্তার মাঝে আগুন দেওয়ার ছবি তুলতে গেলে তারা হামলা চালায়। নয়াপল্টন সংলগ্ন নাইটেঙ্গেল মোড়ে বিএনপি কর্মীদের হাতে আহত হয়েছেন সময় টিভির সাংবাদিক মারুফ।
হামলায় মারাত্মক আহত হয়েছেন দৈনিক কালবেলার সাংবাদিক রাফসানজানি। প্রাণ বাঁচাতে তিনি সেগুনবাগিচার দিকে দৌড় দিলে হামলাকারীরা তার পিছু নিয়ে ব্যাপক মারধর করে। এক পর্যায়ে রাফসান রাস্তায় পড়ে যান। এসময় তার মাথা ও সারাশরীরে বেদমভাবে আঘাত করা হয়। পরে অন্য সাংবাদিকরা তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেলে নিয়ে যান। নেতৃবৃন্দ বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলাকারীরা যাতে কোন ছাড় না পায় তার জন্য স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
ডিক্যাবের নিন্দা
পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ডিপ্লোমেটিক করেসপন্ডেন্ট এসোসিয়েশন, বাংলাদেশ। ডিক্যাবের প্রেসিডেন্ট রেজাউল করিম লোটাস ও সাধারন সম্পাদক ইমরুল কায়েস এক বিবৃতিতে ঢাকায় সাংবাদিক আহত হওয়ার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয় গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী রাজনৈতিক সমাবেশে বেশ কিছু সাংবাদিক আহত হয়েছে এবং তাদের বাহন পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশংকাজনক। সাংবাদিকদের ওপর হামলার নিরপেক্ষ ও পূর্ণ তদন্ত এবং এর সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি করেছে ডিক্যাব। একই সঙ্গে বিবদমান সবপক্ষকে সাংবাদিকদের ওপর হামলা থেকে বিরত থাকার আহবান জানিয়েছে ডিক্যাব।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে