Views Bangladesh Logo

একাত্তরের কালোছায়া বেলুচিস্তানে: মানচিত্র বদলায়, কৌশল বদলায় না

পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় ইতিহাসে ‘শান্তি’ শব্দটির একটি অস্বস্তিকর অতীত আছে। দেশটির রাজনীতিতে নির্বাচন হয়, সংসদ বসে, প্রধানমন্ত্রী শপথ নেন; কিন্তু ক্ষমতার পাশেই অদৃশ্য এক কাঁচের চেয়ারে বসে থাকে দেশটির সামরিক বাহিনীর প্রধান যিনি ক্ষমতার দিক থেকে দেশটির নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর চেয়েও শক্তিশালী। আর যখন কেন্দ্রের সঙ্গে কোনো প্রান্তের রাজনৈতিক সম্পর্ক ভেঙে পড়ে, তখন কথোপকথনের জায়গা খুব দ্রুত দখল করে নেয় নিরাপত্তার ভাষা। ১৯৭১ সালে পূর্ব পাকিস্তানে আমরা এই ভাষা শুনেছি, দেখেছিও। এখন পাকিস্তানের পশ্চিম প্রান্তের বেলুচিস্তানের দিকে তাকালে সেই পুরোনো অভিধানের কয়েকটি পাতাই যেনো সবার সামনে খুলে যায়।

সময় এক নয়, ইতিহাস এক নয়, বাংলাদেশ ও বেলুচিস্তানের রাজনৈতিক বাস্তবতাও এক নয়; কিন্তু পাকিস্তানের সেনাবাহিনী যখন স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একটি অংশকে আরেক অংশের বিরুদ্ধে দাঁড় করায়, তখন কৌশলের ছাঁচটি এতটাই পরিচিত হয়ে ওঠে যে বাংলাদেশের মানুষের কাছে ফিরে আসে সেই ‘একাত্তরের দিনগুলি’।

বেলুচিস্তানের বর্তমান সংকট হঠাৎ করে একদিনে তৈরি হয়নি। পাকিস্তানের ভূখণ্ডের প্রায় ৪৪ শতাংশ নিয়ে গঠিত এই প্রদেশ প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ, কিন্তু কেন্দ্রের সঙ্গে তার সম্পর্ক সাত দশকেরও বেশি সময় ধরে সংঘাতপূর্ণ। ১৯৪৮ সালে কালাতের পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্তি থেকে শুরু করে পরবর্তী কয়েক দফা বিদ্রোহ বেলুচ রাজনীতি বারবার কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘর্ষে ফিরেছে। তবে বর্তমান পর্যায়ের বিশেষত্ব অন্য জায়গায়। আগের আন্দোলনগুলোকে অনেকাংশে পাহাড়, গোত্র ও সর্দারদের বিদ্রোহ বলে ব্যাখ্যা করা সম্ভব ছিল; আজ সেই ব্যাখ্যা আর যথেষ্ট নয়। দীর্ঘ বঞ্চনা ও সংঘাতের উত্তরাধিকার বহনকারী একটি তৃতীয় শিক্ষিত বেলুচ প্রজন্ম এখন সামনে। এটি কোনো আনুষ্ঠানিক ঐতিহাসিক শ্রেণিবিভাগ নয়, বরং পরিবর্তিত সামাজিক বাস্তবতার নাম। বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া তরুণ, শহুরে মধ্যবিত্ত, শিক্ষার্থী, নারী তাদের উপস্থিতি এখন বেলুচ রাজনীতিতে দৃশ্যমান। কেউ গুম হওয়া মানুষদের ছবি নিয়ে রাস্তায় দাঁড়াচ্ছে, কেউ মানবাধিকার ও সম্পদের ন্যায্য হিস্যা চাইছে, কেউ কারাগারে যাচ্ছে; আবার এই একই প্রজন্মের একটি অংশ সশস্ত্র সংগঠনের দিকেও যাচ্ছে। অর্থাৎ পাকিস্তান এখন শুধু সুলাইমান পর্বতমালা, কির্থর রেঞ্জ, তোবা কাকর পর্বতমালা, এবং মাক্রান উপকূলীয় পর্বতমালা বেষ্টিত কিছু বেলুচ মুক্তিকামীদের বন্দুকের মুখোমুখি নয়; সে মুখোমুখি একটি প্রজন্মের ক্ষোভের। একটি সংগঠনকে নিষিদ্ধ করা যায়, কয়েকজন যোদ্ধাকে হত্যা করা যায়; কিন্তু একটি প্রজন্ম যদি বিশ্বাস করতে শুরু করে রাষ্ট্রটি তার নয়, সেই বিশ্বাসকে কোন সামরিক অভিযানে হত্যা করা যায়?

এই সংকটের অন্য পিঠটিও দেখতে হবে। বেলুচ সশস্ত্র সংগঠনগুলো শুধু পাকিস্তানের সেনা নিয়ন্ত্রিত নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা করেনি; বিভিন্ন সময়ে বেসামরিক মানুষ, অবকাঠামো এবং কথিত তথ্যদাতাদেরও লক্ষ্য করেছে। ফলে পাকিস্তানের নিরাপত্তা সমস্যা বাস্তব। রাষ্ট্রীয় দমন-পীড়নের অভিযোগ থাকলেই বিদ্রোহীর হাতে নিরীহ মানুষের মৃত্যু বৈধ হয়ে যায় না। অপরাধ রাষ্ট্র করলে সেটি রাষ্ট্রের অপরাধ, বিদ্রোহী করলে বিদ্রোহীর অপরাধ। একটির রক্ত দিয়ে আরেকটির রক্ত ধোয়া যায় না। কিন্তু আসল প্রশ্ন হলো পাকিস্তান এই সংকট মোকাবিলা করছে কীভাবে।

বেলুচিস্তানে বহু বছর ধরে জোরপূর্বক গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যা, দীর্ঘ আটক ও নির্যাতনের অভিযোগ এসেছে। শান্তিপূর্ণ বেলুচ অধিকার আন্দোলনের কর্মীরাও দমন-পীড়নের অভিযোগ তুলেছেন। এর পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলে রাষ্ট্রপন্থী স্থানীয় ‘পিস কমিটি’, ‘আমন লশকর’ বাহিনী কিংবা সশস্ত্র স্থানীয় গোষ্ঠীর উপস্থিতির কথাও বিভিন্ন প্রতিবেদনে এসেছে। এগুলো কোনো একক কেন্দ্রীয় ‘আমান লশকর’ নয়, এবং সবাইকে এক ছাঁচে ফেলা ইতিহাসসম্মত হবে না। কিন্তু যেখানেই স্থানীয় জনগোষ্ঠীর একটি অংশ রাষ্ট্রের নিরাপত্তা কাঠামোর সহযোগী হয়ে আরেক অংশকে শনাক্ত করা, নজরদারি করা বা মোকাবিলায় ব্যবহৃত হয়, সেখানেই একটি পুরোনো পাকিস্তানি কৌশলের ছায়া চোখে পড়ে।

সেই ছায়াটি বাংলাদেশের মানুষের খুব পরিচিত। ১৯৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর হাতে অস্ত্র ছিল, ট্যাংক ছিল, গোলাবারুদ ছিল; কিন্তু প্রতিটি গ্রামের সামাজিক মানচিত্র তাদের জানা ছিল না। কে মুক্তিযোদ্ধা, কার ছেলে সীমান্ত পার হয়েছে, কোন বাড়িতে রাতে মুক্তিবাহিনীর সদস্য ভাত খায়, কে আওয়ামী লীগের সমর্থক, কে মুখে চুপচাপ অথচ মনে স্বাধীন বাংলাদেশ- হাজার মাইল দূর থেকে উড়ে আসা পাকিস্তানের সেনারা এসব জানত না। কিন্তু বাড়ির পাশের প্রতিবেশী জানত। পাকিস্তান বাহিনী তখন নিজের বন্দুকের সঙ্গে স্থানীয়দের চোখ-কান জুড়ে দিল। ১০ এপ্রিল ১৯৭১ সালে বাংলাদেশে যে শান্তি কমিটির কাঠামো তৈরি হয়েছিল, তার উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানের অখণ্ডতা রক্ষা এবং মুক্তিযুদ্ধ মোকাবিলায় পাকিস্তানি বাহিনীকে সহায়তা করা। পরে রাজাকার, আলবদর, আলশামসসহ বিভিন্ন সহযোগী কাঠামো পাকিস্তানি সামরিক অভিযানের স্থানীয় সহায়ক শক্তি হয়ে ওঠে। রাষ্ট্র বন্দুক দিল; স্থানীয় সহযোগী মানুষ চিনিয়ে দিল। রাষ্ট্র রাস্তা চিনত; স্থানীয় লোক চিনত কার বাড়িতে যেতে হবে। নামটি ছিল ‘শান্তি কমিটি’। নাম শুনলেই কিছু সাদা কবুতর আকাশে উড়ে বেড়াচ্ছে এমন দৃশ্য চোখে ভেসে ওঠে। মনে পড়ে। কিন্তু বাংলাদেশের জন্ম-ইতিহাসের পাশে পাকিস্তান এ দেশের কিছু মানুষের কাঁধে বন্দুক জুড়ে দিল।

বেলুচিস্তানের সঙ্গে ১৯৭১-এর মিলটি এখানেই ঘটনায় নয়, কৌশলে। পূর্ব পাকিস্তানে স্থানীয় মানুষকে ব্যবহার করা হয়েছিল স্থানীয় স্বাধীনতাকামীদের শনাক্ত করতে, তথ্য পেতে এবং প্রতিরোধের সামাজিক ভিত্তি দুর্বল করতে। বেলুচিস্তানে রাষ্ট্রপন্থী স্থানীয় সশস্ত্র কাঠামোর উপযোগিতাও একই জায়গায়: তারা শুধু পাহাড়ের রাস্তা চেনে না, মানুষের সম্পর্ক চেনে; কে কার আত্মীয়, কে কার সঙ্গে ওঠাবসা করে, কোন পরিবার রাষ্ট্রপন্থী, কোন পরিবার সন্দেহভাজন। বাইরে থেকে আসা নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে একটি এলাকা ভূগোল; স্থানীয় সহযোগীর কাছে সেটি সম্পর্কের মানচিত্র। আর রাষ্ট্র যখন সেই সম্পর্কের মানচিত্রকে নিরাপত্তার অস্ত্রে পরিণত করে, তখন যুদ্ধ আর শুধু রাষ্ট্র ও বিদ্রোহীর মধ্যে থাকে না। যুদ্ধ ঢুকে পড়ে গ্রামের উঠোনে, বাজারে, গোত্রে, পরিবারে এবং প্রতিবেশীর সঙ্গে প্রতিবেশীর সম্পর্কে। একজন রাষ্ট্রকে খবর দেয়, আরেকজনের চোখে সে বিশ্বাসঘাতক। একটি পরিবার নিরাপত্তা বাহিনীর কাছে ‘বিশ্বস্ত’, আরেকটি পরিবার ‘সন্দেহভাজন’। বেলুচিস্তানে আজকের নিরাপত্তা অভিযান হয়ত একদিন শেষ হতে পারে, কিন্তু পরিচয়ের এই দাগ থেকে যাবে বহু বছর। রাষ্ট্র হয়তো কিছু বিদ্রোহী ধরবে; একই সঙ্গে সমাজের ভেতরে অদৃশ্য একটি সীমান্ত টেনে দিয়ে যাবে যেটা যুগের পরে যুগ সংঘাত বয়ে বেড়াবে ‘ওরা এবং আমরা’।

বাংলাদেশ তার স্বাধীন হওয়া সীমান্তের মূল্য জানে। পাকিস্তান একাত্তরে শুধু মানুষ মারেনি; মানুষের মধ্যের মানুষকেও মেরেছিল। বন্দুকের গুলি শরীর ভেদ করে চলে যায়, সন্দেহের গুলি থেকে যায়। একাত্তরে এখানে স্থানীয় সহযোগী কাঠামোর সবচেয়ে ভয়াবহ ব্যবহার দেখা গেল যুদ্ধের একেবারে শেষ প্রান্তে। পরাজয় তখন প্রায় নিশ্চিত। মানচিত্র হাতছাড়া হচ্ছে। ঠিক সেই মুহূর্তে ১৪ ডিসেম্বর দেশের শিক্ষক, চিকিৎসক, সাংবাদিক, সাহিত্যিক ও বুদ্ধিজীবীদের বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে হত্যা করা হলো। আলবদরের ভূমিকা সেই হত্যাযজ্ঞের ইতিহাসে বিশেষভাবে নথিভুক্ত। পরাজিত সামরিক শক্তির শেষ হিসাবটি যেন ছিল নিষ্ঠুরভাবে সরল। দেশটি যখন রাখা গেল না, অন্তত তার মাথাটা ভেঙে দিয়ে যাই। বাংলাদেশ স্বাধীন হয়েছিল; কিন্তু স্বাধীনতার সকালে আমরা শুধু একটি পতাকা পাইনি। পেয়েছিলাম বধ্যভূমি, শূন্য চেয়ার, নিখোঁজ স্বজন এবং পরস্পরের দিকে সন্দেহ নিয়ে তাকানো একটি সমাজ। পঞ্চান্ন বছর পরও ‘রাজাকার’ শব্দটির রাজনৈতিক ও সামাজিক অভিঘাত প্রমাণ করে, স্থানীয় সহযোগী বাহিনী সামরিকভাবে ব্যর্থ হয়েও সমাজে বিষ রেখে যেতে পারে। গুলি মানুষকে একবার মারে; প্রতিবেশীর বিশ্বাসঘাতকতার স্মৃতি বহু প্রজন্ম ধরে বেঁচে থাকে।

এই কারণেই বেলুচিস্তানের বর্তমান তৃতীয় প্রজন্মের দিকে তাকালে উদ্বেগ আরও গভীর হয়। এই প্রজন্ম বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষা জানে, মানবাধিকারের ভাষা জানে, বৈশ্বিক যোগাযোগের ভাষা জানে; একই সঙ্গে তাদের একাংশ বিশ্বাস হারিয়ে বন্দুকের পথেও যাচ্ছে।
পাকিস্তানের সামনে তাই দুটি পথ।

কঠিন পথটি রাজনৈতিক গুমের অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত, আইনের শাসন, ন্যায্য প্রতিনিধিত্ব, সম্পদের ভাগ নিয়ে সংলাপ, শান্তিপূর্ণ বিরোধিতার জায়গা রাখা।

সহজ পথটি পুরোনো। আরও অভিযান, আরও গ্রেপ্তার, আরও চেকপোস্ট এবং স্থানীয় জনগোষ্ঠীর মধ্য থেকে এমন মানুষ খুঁজে বের করা, যারা রাষ্ট্রের হয়ে অন্য স্থানীয় মানুষকে শনাক্ত করবে। সহজ রাস্তার বিপদ হলো, এর তাৎক্ষণিক লাভ চোখে পড়ে; দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব চোখে পড়ে না। রাষ্ট্র হয়তো আজ দশজন যোদ্ধাকে ধরবে। কিন্তু একই সঙ্গে যদি একশ তরুণের মনে জন্ম দেয় ‘এই রাষ্ট্র আমার নয়’ তাহলে নিরাপত্তার জয়ও শেষ পর্যন্ত রাজনৈতিক পরাজয়ে পরিণত হতে পারে।

আর এখানেই ইতিহাসের সবচেয়ে অস্বস্তিকর প্রতিধ্বনি। আজ বেলুচিস্তানে একাত্তরের আলবদর বা রাজাকার একই নামে ঘুরছে। কোথাও ‘শান্তি কমিটি’, কোথাও ‘আমন’ বাহিনী, কোথাও রাষ্ট্রপন্থী স্থানীয় মিলিশিয়া। কিন্তু মূল কাজটি যদি দাঁড়ায় নিজের এলাকার মানুষকে নিজের এলাকার মানুষের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার সহযোগী বানানো, তবে নাম বদলালেই কি কৌশল বদলে যায়? একাত্তরে রাষ্ট্র যে বিষ পূর্ব বাংলার সমাজে ঢুকিয়েছিল, তার প্রকৃতি ছিল একজন বাঙালিকে আরেকজন বাঙালির বিরুদ্ধে দাঁড় করানো। আজ যদি বেলুচিস্তানেও একজন বেলুচকে আরেকজন বেলুচের বিরুদ্ধে একইভাবে ব্যবহার করা হয়, তবে সেখানে সামরিক সংঘাতের চেয়েও বড় হয়ে উঠবে সামাজিক সংঘাত। রাষ্ট্র একদিন চলে যায়। চেকপোস্ট উঠে যায়। বন্দুক জমা পড়ে। কমিটির সাইনবোর্ড খুলে ফেলা হয়। কিন্তু পাড়াটি থেকে যায়, মানুষগুলো থেকে যায় এবং থেকে যায় একটি বাক্য—ওই বাড়ির লোক আমাদের ধরিয়ে দিয়েছিল। বাংলাদেশ জানে, এই একটি বাক্যের আয়ু কত দীর্ঘ।

কে জানে, বেলুচদের এই তৃতীয় শিক্ষিত প্রজন্ম শেষ পর্যন্ত কত দূর যেতে পারবে। তাদের আন্দোলন কোন পথে যাবে, সশস্ত্র সংঘাত বাড়বে নাকি রাজনৈতিক সমাধানের কোনো দরজা খুলবে, বেলুচিস্তান কখনো স্বাধীন রাষ্ট্র হবে কি না -এসবের উত্তর আজ ইতিহাসও লিখে শেষ করেনি। কিন্তু ধরা যাক একদিন সংঘাত থামল। ধরা যাক কোনো রাজনৈতিক নিষ্পত্তি হলো, এমনকি স্বাধীনতাও এল। তারপর? তখন কি বেলুচ সমাজকেও বসতে হবে সেই ভয়ংকর হিসাব নিয়ে। কে রাষ্ট্রের পক্ষে ছিল, কে বিদ্রোহীর পক্ষে; কে কাকে ধরিয়ে দিয়েছিল; কার ভাই গুম হয়েছিল; কার হাতে কার রক্ত? বাংলাদেশ জানে, স্বাধীনতা অর্জনের তারিখ লেখা যায়; সমাজের ক্ষত শুকানোর তারিখ লেখা যায় না।

তবে কি বেলুচিস্তানের ভবিষ্যৎ বাংলাদেশের মতোই কোনো দূরবর্তী প্রতিবিম্ব তৈরি করছে? আরেকটি মানচিত্র? আরেকটি বিজয়? তার সঙ্গে আরেকটি দীর্ঘ ক্ষত? ইতিহাস যেন বাংলাদেশের কার্বন কপি সেখানে তৈরি না করে। পৃথিবীতে নতুন রাষ্ট্রের জন্মের চেয়ে নতুন কবর কম হোক। নতুন পতাকার চেয়ে মানুষের স্বাধীনতা বড় হোক। যে মানুষ নিজের ভাষা, অধিকার, মর্যাদা ও ভবিষ্যতের জন্য দাঁড়ায়, তার সঙ্গে রাষ্ট্রের কথোপকথন হোক রাজনীতির টেবিলে, প্রতিবেশীর হাতে তুলে দেওয়া বন্দুকের নলে নয়। কারণ বন্দুক দিয়ে ভূখণ্ড পাহারা দেওয়া যায়। মানুষের মন নয়।





মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ