Views Bangladesh Logo
author image

মোহাম্মদ শাহ আলম

  • রাজনীতিবিদ ও সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি

  • থেকে

মোহাম্মদ শাহ আলম: রাজনীতিবিদ ও সভাপতি, বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি
অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য নির্বাচিত সরকারের কোনো বিকল্প নেই
অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য নির্বাচিত সরকারের কোনো বিকল্প নেই

অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য নির্বাচিত সরকারের কোনো বিকল্প নেই

ড. মোহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের মূল কাজ হচ্ছে গণতান্ত্রিক বিধিবিধানের মধ্য দিয়ে দেশকে সত্যিকার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রত্যাবর্তন করানো। জনগণ তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগের মাধ্যমে পছন্দনীয় সরকার গঠন করতে পারবে- এটাই সবার প্রত্যাশা এবং মূল আকাঙ্ক্ষা। এখানে কোনো ধরনের ছলচাতুরীর সুযোগ নেই। সাম্প্রতিক গণআন্দোলনের সূচনা হয়েছিল সরকারি চাকরিতে বিদ্যমান কোটা সুবিধা সংস্কার প্রশ্নে। পরবর্তীকালে তা সরকার পতনের আন্দোলনে পরিণত হয়। আন্দোলনের মূল উপজীব্য ছিল গণতন্ত্র, গণতন্ত্র এবং গণতন্ত্র।

জাতীয় নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক কৌশলের ফাঁদে যেন না পড়ে
জাতীয় নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক কৌশলের ফাঁদে যেন না পড়ে

জাতীয় নির্বাচন যুক্তরাষ্ট্রের ভূরাজনৈতিক কৌশলের ফাঁদে যেন না পড়ে

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে সম্ভব স্বল্পতম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করা। সেই নির্বাচন যাতে জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে প্রশ্নাতীত গ্রহণযোগ্যতা পায় সেটাই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান দায়িত্ব। বিগত সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কোনো গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারেনি। এ নিয়ে জনগণ বিগত সরকারের ওপর প্রচণ্ডরকম ক্ষুব্ধ ছিল। তাই তারা শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে প্রত্যক্ষ অথবা পরোক্ষভাবে ব্যাপক সমর্থন দিয়েছিল। আগামী ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথমার্ধে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানের কথা রয়েছে।

কর্মের মধ্যে কমরেড যতীন সরকার বেঁচে থাকবেন
কর্মের মধ্যে কমরেড যতীন সরকার বেঁচে থাকবেন

কর্মের মধ্যে কমরেড যতীন সরকার বেঁচে থাকবেন

অধ্যাপক যতীন সরকার আমাদের ছেড়ে চলে গেলেন। তিনি তেমন বিত্তবান ঘরের সন্তান ছিলেন না; কিন্তু জ্ঞানের ঐশ্বর্যে তিনি ছিলেন বিত্তবান। ছিলেন প্রান্তজন। ছোটবেলা থেকেই খুব কষ্ট করে বড় হয়েছেন। লেখাপড়াও করেছেন খুব কষ্টের মধ্যে; কিন্তু চিন্তার দিক থেকে তিনি যখন মার্কসবাদ চিন্তার সঙ্গে সম্পর্কিত হন, তখন তার বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি প্রসারিত হয়। আমৃত্যু তিনি মার্কসবাদ, লেলিনবাদী দর্শনে বিশ্বাস করতেন; কিন্তু চর্চার দিক থেকে তিনি ছিলেন লোকজ। চর্চার দিক থেকে তিনি কোনো ডগমেটিক ছিলেন না। মতান্ধ ছিলেন না। নতুনকে ধারণ করার ক্ষমতা ওনার মধ্যে ছিল প্রবল।

প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর পশ্চিমাদের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি করবে কি না!
প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর পশ্চিমাদের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি করবে কি না!

প্রধান উপদেষ্টার চীন সফর পশ্চিমাদের সঙ্গে সংঘাত সৃষ্টি করবে কি না!

বর্ণিত পটভূমিতে আমাদের দেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা রাষ্ট্রীয় সফরে চীন যাচ্ছেন। ড. মোহাম্মদ ইউনূসের চীন সফরের বিষয়ে চীনের বিশেষ আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। তারা ড. মোহাম্মদ ইউনূসের জন্য বিশেষ প্লেন পাঠাবে। এ থেকে প্রতীয়মান হচ্ছে, চীন ড. মোহাম্মদ ইউনূসের এই প্রস্তাবিত সফরের ব্যাপারে খুবই আগ্রহী। বাংলাদেশে চীনের প্রচুর পরিমাণ বিনিয়োগ আছে। তারা আমাদের উন্নয়ন কাজে সহায়তা করছে। চীনের বিভিন্ন ধরনের পণ্যদ্রব্য আমাদের দেশে ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশ এক সময় ভারত থেকে সবচেয়ে বেশি পরিমাণ পণ্য আমদানি করত। বর্তমানে বাংলাদেশে পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে চীনের অবস্থান সবার শীর্ষে। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাংলাদেশ-চীন দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ২ দশমিক ২৫ ট্রিলিয়ন টাকা। একই সময়ে বাংলাদেশ-ভারতে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল ১ দশমিক ৪৬ ট্রিলিয়ন টাকা। ওই বছর বাংলাদেশের মোট আমদানি বাণিজ্যে চীনের অংশীদারত্ব বৃদ্ধি পায় ১৫ দশমিক ১৭। আর বাংলাদেশ-ভারতের বাণিজ্য হ্রাস পায় ৮ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বাংলাদেশ মোট ৬৭৭ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য চীনে রপ্তানি করে। এর বিপরীতে চীন থেকে বাংলাদেশ আমদানি করে ২২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের পণ্য। স্বৈরাচারী শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর ভারতের সঙ্গে আমাদের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে টানাপোড়েন চলছে। এই বাস্তবতায় ড. মোহাম্মদ ইউনূস চীন সফরে যাচ্ছেন।