রামিসা হত্যা মামলা
আদালতে সোহেল-স্বপ্নার বিরুদ্ধে যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার চাঞ্চল্যকর মামলায় আদালতে শুরু হয়েছে চূড়ান্ত যুক্তিতর্ক।
বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাদের যুক্তি উপস্থাপন শুরু করেন।
আলোচিত এই মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে হাজির করা হয়। ঘটনাটি ঘিরে সকাল থেকেই আদালত চত্বরে ছিল কড়া নিরাপত্তা। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে যুক্তিতর্ক শুরু হওয়ার কথা থাকলেও আসামি স্বপ্না আক্তার অসুস্থ হয়ে পড়ায় কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে তাকে এজলাসে তোলা হয়। একই সময় হাজতখানা থেকে সোহেল রানাকেও আদালতে হাজির করা হয়।
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত ১৯ মে সকালে পল্লবীর একটি বাসা থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার নিখোঁজ হয়। পরে একই দিন পরিবারের সদস্যরা তার মর্মান্তিক মরদেহ উদ্ধার করেন। অভিযোগ অনুযায়ী, তাকে কৌশলে ঘরের ভেতরে নিয়ে গিয়ে হত্যা করা হয়। ঘটনার পরপরই পুলিশ স্বপ্না আক্তারকে হেফাজতে নেয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে সোহেল রানাকে গ্রেপ্তার করে।
এর আগে তদন্ত শেষে পল্লবী থানার উপপরিদর্শক অহিদুজ্জামান আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন। অভিযোগপত্রে মোট ১৭ জন সাক্ষী অন্তর্ভুক্ত করা হয়। পরবর্তীতে গত ১ জুন আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু করেন। এরপর দ্রুতগতিতে সাক্ষ্যগ্রহণ ও আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি শেষ হয়।
রাষ্ট্রপক্ষের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর আজিজুর রহমান দুলু আদালতে আসামিদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেন। তিনি বলেন, এই মামলার সাক্ষ্য, আলামত ও ফরেনসিক প্রমাণ আসামিদের বিরুদ্ধে স্পষ্ট অবস্থান তৈরি করেছে।
অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে বলেন, অভিযোগগুলো যথাযথভাবে প্রমাণিত হয়নি। আদালতে আত্মপক্ষ সমর্থনের সময়ও আসামিরা নিজেদের নির্দোষ দাবি করেন।
আইনজীবীরা জানান, বিচারিক প্রক্রিয়া প্রায় শেষ পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। যুক্তিতর্ক শেষে যে কোনো দিন মামলার রায়ের তারিখ ঘোষণা করা হতে পারে। আদালত ঘিরে থাকা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কড়াকড়ি ও দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া এই মামলাকে আরও আলোচনায় নিয়ে এসেছে।
এদিকে মামলাটি ঘিরে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। শিশু হত্যার এমন নৃশংস ঘটনায় দ্রুত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন অনেকে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে