খায়রুল হককে আরও এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন
আট মামলায় জামিন বহাল থাকার পর সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে এবার বনানী থানার হত্যাচেষ্টা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বনানী থানার উপপরিদর্শক সাইফুল ইসলাম এ আবেদন করেন। ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন মো. সেফাতুল্লাহ আসামির উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর বিষয়ে শুনানির জন্য আগামী ৬ জুলাই দিন ধার্য করেছেন। ফলে এখনই কারামুক্তি মিলছে না তার।
গত বছরের ২৪ জুলাই সকালে ধানমন্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। ওই রাতেই জুলাই আন্দোলনে ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে নিহত যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় তাকে পাঠানো হয় কারাগারে। একই বছরের ২৯ জুলাই নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা ও বন্দর থানার দুই মামলায় তাকে ভার্চুয়ালি গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
এরপর ৩০ জুলাই বিচারক হিসেবে দুর্নীতি ও বিদ্বেষমূলকভাবে বেআইনি রায় প্রদানসহ জাল রায় তৈরির অভিযোগে শাহবাগ থানার মামলায় এবং ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
পরবর্তী সময়ে এই পাঁচ মামলায় গত ২৮ এপ্রিল খায়রুল হকের জামিন বহাল রাখেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ। তবে জামিনের পর গত ৩০ মার্চ যাত্রাবাড়ী থানার শিক্ষার্থী মো. আরিফ হত্যা ও আদাবর থানা এলাকার গার্মেন্টসকর্মী রুবেল হত্যা মামলায় তাকে নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এই দুই মামলায় ১২ মে হাইকোর্ট রুল দিয়ে তাকে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ পৃথক আবেদন করলে ২০ মে আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত এ দুই মামলাতেও জামিন বহাল রাখেন।
এদিকে গত ১৬ মে যাত্রাবাড়ী থানার খোবাইব হত্যা মামলায় খায়রুল হককে গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা যাত্রাবাড়ী থানার উপপরিদর্শক মো. ইব্রাহিম খলিল। ২৩ মে তার উপস্থিতিতে শুনানি শেষে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। এরপর ৩০ মে বিচারপতি কে এম জাহিদ সরওয়ার কাজল ও শেখ আবু তাহেরের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুলসহ তাঁর জামিনের আদেশ দেন, যা পরে বহাল রাখেন সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার জজ আদালত।
সর্বশেষ যে মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করা হয়েছে, তার বিবরণে বলা হয়, ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট দুপুরে মহাখালী সেতু ভবনের সামনে আন্দোলন করছিলেন আন্দোলনকারীরা। সেখান থেকে শাহবাগ যাওয়ার পথে তাদের ওপর হামলা, গুলিবর্ষণ এবং ককটেল ও হাতবোমা নিক্ষেপ করা হয়। এতে উজ্জল মিয়াসহ ২৫/৩০ জন আহত হন। এ ঘটনায় উজ্জল মিয়া বাদী হয়ে বনানী থানায় হত্যাচেষ্টাসহ বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলাটি করেন।
মতামত দিন