একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা
মৃত্যুদণ্ডাদেশের রায়ের বিরুদ্ধে আবুল কালাম আযাদের আপিল শুনানি পিছিয়ে ৩১ আগস্ট
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত মাওলানা আবুল কালাম আযাদের করা আপিল গ্রহণযোগ্য কি না, সে বিষয়ে আগামী ৩১ আগস্ট শুনানি করবেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদনও আদালতের বিবেচনায় রয়েছে।
সোমবার (১৭ আগস্ট) বিচারপতি মো. রেজাউল হকের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের তিন সদস্যের বেঞ্চ এ বিষয়ে শুনানির জন্য ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেন। আদালতে আবুল কালাম আযাদের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী এহসান এ সিদ্দিক। রাষ্ট্রপক্ষের হয়ে উপস্থিত ছিলেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
পলাতক অবস্থায় ২০১৩ সালের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আবুল কালাম আযাদকে মৃত্যুদণ্ড দেন। মুক্তিযুদ্ধের সময় ফরিদপুরের বিভিন্ন এলাকায় মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ওই মামলা করা হয়েছিল। স্বাধীনতার পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় এটি ছিল ট্রাইব্যুনালের প্রথম রায়।
দীর্ঘ সময় পলাতক থাকার পর চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করেন আবুল কালাম আযাদ। এর আগে আত্মসমর্পণ করে আপিল করার শর্তে তাঁর মৃত্যুদণ্ডের সাজা স্থগিত করা হয়। আত্মসমর্পণের পর ট্রাইব্যুনাল তাঁর আপিলের জন্য প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহের নির্দেশ দেন।
সোমবারের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষ সাজা স্থগিতের বিরোধিতা করেছে। চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, ৩০ দিনের সময়সীমা পার হওয়ার পর মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় আপিল গ্রহণের নজির এখন পর্যন্ত নেই। অন্যদিকে আবুল কালাম আযাদের আইনজীবী সাজা স্থগিতের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন করেছেন।
এখন ৩১ আগস্টের শুনানিতে মূলত আবুল কালাম আযাদের করা আপিলটি আইনগতভাবে গ্রহণ করে শুনানি করা হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে। আপিল গ্রহণযোগ্য হলে পরবর্তী সময়ে মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে তাঁর আবেদনের মূল শুনানির পথ খুলবে। আর আপিল গ্রহণযোগ্য না হলে ২০১৩ সালে ট্রাইব্যুনালের দেওয়া মৃত্যুদণ্ড বহাল থাকার বিষয়টি নতুন করে সামনে আসবে।
মতামত দিন