রামিসা হত্যা: ৪৭ পৃষ্ঠার চার্জশিটে উঠে এল যে ভয়াবহতা
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তদন্ত শেষে ৪৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে পুলিশ।
রোববার পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ওহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালতে এই অভিযোগপত্র দাখিল করেন। ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকিন এই অভিযোগপত্র আমলে নিয়ে আগামী ১ জুন অভিযোগ গঠনের শুনানির দিন ধার্য করেছেন।
অভিযোগপত্রে বলা হয়, এই হত্যাকাণ্ডের প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পেশায় একজন অটোরিকশা মেকানিক। গত ২০ মে মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে সে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে সোহেল জানায়, নিয়মিত মাদক সেবনের পর ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পাশের বাসার শিশু রামিসাকে ডেকে সে নিজের ঘরে নিয়ে যায়। বাথরুমে নিয়ে ধর্ষণের সময় শিশুটি চিৎকার করলে সে তার মুখ চেপে ধরে কাপড় গুঁজে দেয়। শিশুটি জ্ঞান হারালে তাকে মৃত ভেবে প্রমাণ লোপাটের উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মরদেহ বিকৃত করার চেষ্টা করে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মাথা বিচ্ছিন্ন করার কারণে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ ও শকে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে। তার শরীরের সব ক্ষত ছিল শিশুটি বেঁচে থাকাকালীন সময়ের।
প্রতিবেদনে আরও উঠে আসে, সোহেলকে পালাতে সহায়তা করেছে তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুন। শিশুটির পরিবার যখন রামিসাকে খুঁজছিল, তখন সোহেলের স্ত্রী ঘরের দরজা চেপে ধরে রেখে তাকে সময় করে দেয়। এই সুযোগে সোহেল জানালার গ্রিল ভেঙে পালিয়ে যায় এবং সোহেল পালিয়ে যাওয়ার পরই তার স্ত্রী দরজা খুলে দেয়। আলামত নষ্ট করা ও আসামিকে পালাতে সহযোগিতার অভিযোগে স্বপ্না খাতুনকেও মামলার আসামি করা হয়েছে।
গত মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি-ব্লকের একটি ফ্ল্যাট থেকে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
ঘটনার পরপরই পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে ওই দিন সন্ধ্যায় তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে মূল ঘাতক সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় দুজনকে আসামি করে একটি মামলা করেন। মামলা দায়েরের মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় আজ আদালতে এই স্পর্শকাতর মামলার চার্জশিট জমা দিল পুলিশ।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে