Views Bangladesh Logo

নবগঠিত সংসদের প্রথম অধিবেশন আজ

বহুল প্রত্যাশিত নতুন জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আজ ১২ মার্চ। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সংসদের প্রথম বৈঠককে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের কার্যক্রম শুরু করার ক্ষেত্রে প্রথম অধিবেশন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বাংলাদেশের সংবিধান অনুসারে রাষ্ট্রপতি জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন এবং সেই অধিবেশনের মধ্য দিয়েই নবগঠিত সংসদের সাংবিধানিক কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হয়।

সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি সময় সময় জাতীয় সংসদের অধিবেশন আহ্বান করবেন। নির্বাচনের পর সংসদের নতুন মেয়াদ শুরু হলে রাষ্ট্রপতির প্রথম অধিবেশন ডাকেন।

আজ থেকে শুরু হওয়া প্রথম অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং তাদের শপথ গ্রহণের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে। নির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ পড়াবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি।

সংবিধান বিশেষজ্ঞ শাহদীন মালিক ভিউজ বাংলাদেশেকে বলেন, ‘সংবিধানের ৭৪ অনুচ্ছেদে স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে সংসদের প্রথম বৈঠকেই সংসদ সদস্যদের মধ্য থেকে একজন স্পিকার এবং একজন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করতে হবে। তাঁদের নির্বাচন সম্পন্ন হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ গ্রহণের বিধান রয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘সংসদ সদস্যদের ভোটের মাধ্যমে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন এবং এরপর রাষ্ট্রপতি তাঁদের শপথ পড়ান। সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিধি অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হলে প্রাথমিকভাবে একজন সভাপতিকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, যিনি স্পিকার নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অধিবেশন পরিচালনা করেন। সংসদীয় প্রথা অনুযায়ী অধিবেশন শুরুতে সংসদ নেতা স্বাগত বক্তব্য দেন। এরপর তিনি অধিবেশন পরিচালনার জন্য একজন সভাপতির নাম প্রস্তাব করেন। সংসদের সম্মতিতে সেই ব্যক্তি প্রথম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন এবং স্পিকার নির্বাচনের প্রক্রিয়া পরিচালনা করেন। স্পিকার নির্বাচনের প্রস্তাব সংসদে উত্থাপিত হলে সদস্যদের সমর্থনের ভিত্তিতে তা গৃহীত হয়। নির্বাচিত স্পিকার শপথ গ্রহণের পরই তিনি সংসদের কার্যক্রম পরিচালনার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। একইভাবে ডেপুটি স্পিকারও নির্বাচিত হয়ে শপথ গ্রহণ করেন।’

সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, ‘নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশন সাংবিধানিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ধাপ। তাঁর মতে, এই অধিবেশনের মধ্য দিয়েই নবগঠিত সংসদের প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো কার্যকর হতে শুরু করে এবং সংসদীয় কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়।’ তিনি বলেন, ‘সংবিধানের ৭২ ও ৭৪ অনুচ্ছেদের বিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি সংসদের অধিবেশন আহ্বান করেন এবং প্রথম বৈঠকেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। সংসদীয় প্রথা ও কার্যপ্রণালী বিধি অনুযায়ী প্রথম অধিবেশনে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়—অধিবেশন শুরু, সংসদ নেতার স্বাগত বক্তব্য, স্পিকার নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অধিবেশন পরিচালনার জন্য সভাপতির দায়িত্ব নির্ধারণ, স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন এবং তাদের শপথ গ্রহণ।’

এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ গতকাল বুধবার বলেছেন, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেবেন। প্রথম দিনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করা হবে। এই অধ্যাদেশগুলো যাচাই-বাছাইয়ের জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটি নির্ধারণ করবে কোন অধ্যাদেশগুলো বহাল থাকবে আর কোনগুলো ল্যাপস (বাতিল) হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘বর্তমান সংসদে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার না থাকায় অধিবেশনের শুরুতে একজন জ্যেষ্ঠ সদস্যের সভাপতিত্বে অধিবেশন শুরু হবে। এরপর সংসদ নেতার প্রস্তাবে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার হিসেবে কাদের মনোনয়ন দেওয়া হবে, সেই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী গ্রহণ করবেন।’

এর আগে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করেছেন। এখন প্রথম অধিবেশন বসার মধ্য দিয়ে নবগঠিত সংসদের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে।

সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিতব্য এই অধিবেশনকে কেন্দ্র করে সংসদ সচিবালয়ের প্রস্তুতি শেষ। প্রথম অধিবেশনকে ঘিরে জাতীয় সংসদ ভবন ও আশপাশের এলাকায় বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।

ডিএমপির কমিশনার (ভারপ্রাপ্ত) মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, অধিবেশন নির্বিঘ্নে পরিচালনা এবং শেরেবাংলা নগর এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ অর্ডিন্যান্স-এর ২৮ ও ২৯ ধারায় অর্পিত ক্ষমতাবলে নির্ধারিত এলাকাগুলোতে সব ধরনের অস্ত্র, বিস্ফোরক দ্রব্য, ক্ষতিকারক বস্তু বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে যে কোনও ধরনের সমাবেশ, মিছিল, শোভাযাত্রা ও বিক্ষোভ প্রদর্শনও নিষিদ্ধ করা হয়েছে। অধিবেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ