মিডিয়া ট্রায়াল বন্ধের অনুরোধ জিয়াউল আহসানের
মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে করা মামলায় বিচারাধীন মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান নিজেকে ‘মিডিয়া ট্রায়ালের’ শিকার বলে অভিযোগ করেছেন। একই সঙ্গে বিচার শেষ হওয়ার আগে গণমাধ্যমে কাউকে খুনি বা ধর্ষক হিসেবে উপস্থাপন না করার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ নিজের বিরুদ্ধে মামলার শুনানিতে তিনি এ কথা বলেন। এদিন জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ১১ নম্বর সাক্ষী হিসেবে এক কনস্টেবল জবানবন্দি দেন। সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে জিয়াউল আহসান গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন সংবাদ প্রকাশের প্রসঙ্গ তোলেন।
এর আগে তার আইনজীবী নাজনীন নাহার ট্রাইব্যুনালের কাছে অভিযোগ করেন, প্রসিকিউশনের সাক্ষীদের দেওয়া জবানবন্দি গণমাধ্যমে প্রকাশ করা হলেও আসামিপক্ষের জেরার বিষয়টি সেভাবে প্রকাশ করা হয় না। এতে মামলার বিষয়ে একতরফা ধারণা তৈরি হচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।
এরপর কথা বলার অনুমতি নিয়ে জিয়াউল আহসান ট্রাইব্যুনালের উদ্দেশে বলেন, তারা বিচারের জন্য এসেছেন। কিন্তু গণমাধ্যমে তাকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে, যেন গ্রেপ্তারের পর তিনিই দেশের একমাত্র অপরাধী।
নিজের বক্তব্যে ফেনীর নুসরাত হত্যা মামলার প্রসঙ্গও টানেন তিনি। জিয়াউল আহসান বলেন, ওই মামলায় অতিরিক্ত মিডিয়া ট্রায়ালের প্রভাব পড়েছিল বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা মন্তব্য করেছিলেন। তার ক্ষেত্রেও একই ধরনের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
জিয়াউল আহসান আরও বলেন, হাজতখানায় কেক কাটার একটি ঘটনা নিয়েও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছেন। তার দাবি, ওই দিন তিনি সেখানে ছিলেন না এবং কে কেক কেটেছেন, সেটিও তার জানা নেই। অথচ এ ঘটনা নিয়ে গণমাধ্যমে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, গণমাধ্যমে তার বিষয়ে ‘অতিরিক্ত মিডিয়া ট্রায়াল’ বন্ধ করা প্রয়োজন।
জিয়াউল আহসানের বক্তব্যের পর বিষয়টি প্রধান প্রসিকিউটরের কাছে পৌঁছে দিতে উপস্থিত প্রসিকিউটরদের নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল।
এ সময় ট্রাইব্যুনাল বলেন, বিচারাধীন বিষয়ে গণমাধ্যমে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলেও বিচার শেষ হওয়ার আগে তাকে খুনি বা ধর্ষক হিসেবে আখ্যায়িত করা হলে বিচারের প্রয়োজনীয়তা নিয়েই প্রশ্ন তৈরি হয় বলে মন্তব্য করেন আদালত।
জবাবে প্রসিকিউটর মিজানুল ইসলাম বলেন, তারা কোনো আসামির বক্তব্য বা নাম বিকৃত করেন না। পাশাপাশি আসামিদের সঙ্গে যেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা খারাপ আচরণ না করেন, সে বিষয়েও তাদের সতর্ক করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
জিয়াউল আহসানের আরেক আইনজীবী সৈয়দ মিজানুর রহমান বলেন, বিচারাধীন মামলা নিয়ে তারা গণমাধ্যমে কথা বলেন না এবং এ ধরনের প্রচার তারা চান না।
তবে এ বক্তব্যের পর প্রসিকিউশন থেকে পাল্টা অভিযোগ করা হয়, জিয়াউল আহসান নিজে গণমাধ্যমে কথা না বললেও তার আইনজীবী নাজনীন নাহার গণমাধ্যমে বক্তব্য দেন।
মঙ্গলবারের শুনানিতে জিয়াউল আহসানের বিরুদ্ধে ১১ নম্বর সাক্ষীর জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এর মধ্যেই গণমাধ্যমে বিচারাধীন মামলার তথ্য ও বক্তব্য প্রকাশের বিষয়টি নিয়ে ট্রাইব্যুনালে উভয় পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। ট্রাইব্যুনালও বিচার শেষ হওয়ার আগে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করার বিষয়ে সতর্ক থাকার কথা জানান।
মতামত দিন