আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে জারি করা সরকারি প্রজ্ঞাপনের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টে রিট করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ১২ মে জারি করা ওই প্রজ্ঞাপনকে আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করার নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে রিটে। একই সঙ্গে রুলের নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত প্রজ্ঞাপনটির কার্যকারিতা স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরের বাসিন্দা মো. আল আমিন রিটটি দায়ের করেন। তার পক্ষে রিটকারী আইনজীবী হিসেবে রয়েছেন মুহাম্মদ ইউনূস আলী। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট হাইকোর্ট বেঞ্চের দায়িত্বপ্রাপ্ত ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী নিশ্চিত করেছেন।
রিটটি বিচারপতি জে বি এম হাসান ও বিচারপতি আজিজ আহমদ ভূঞার সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চের সোমবারের কার্যতালিকায় ৬০ নম্বর ক্রমিকে ছিল। তবে সোমবার এ বিষয়ে কোনো শুনানি হয়নি বলে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী জানিয়েছেন।
রিট আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের ১২ মে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ যে প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, সেটি কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, সে বিষয়ে রুল জারি করা হোক। পাশাপাশি রুল বিচারাধীন থাকা অবস্থায় ওই প্রজ্ঞাপনের কার্যক্রম স্থগিত রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।
এর আগে ২০২৫ সালের ১২ মে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে বিচারকার্য শেষ না হওয়া পর্যন্ত দলটির সব ধরনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে সরকার। এতে আওয়ামী লীগ এবং এর অঙ্গ, সহযোগী ও ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের প্রকাশনা, গণমাধ্যম ও অনলাইন প্রচারণা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার, মিছিল, সভা-সমাবেশ ও সম্মেলনসহ সাংগঠনিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়।
প্রজ্ঞাপনটি জারির আগে ২০২৫ সালের ১১ মে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় সংশোধনী আনা হয়েছিল। এরপরের দিন আওয়ামী লীগ ও সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর কার্যক্রম নিষিদ্ধের প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। বর্তমানে ওই প্রজ্ঞাপনের বৈধতা নিয়েই হাইকোর্টে রিটটি করা হয়েছে।
মতামত দিন