আজ বিশ্ব হার্ট দিবস
মানুষের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গগুলোর একটি হৃদযন্ত্র। অনিয়মিত জীবনযাপন, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং শারীরিক নিষ্ক্রিয়তার কারণে দিন দিন বাড়ছে হৃদরোগের ঝুঁকি। হৃদস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে আজ মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) পালিত হচ্ছে বিশ্ব হার্ট দিবস। বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতো বাংলাদেশেও বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে।
হৃদরোগ বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম প্রধান স্বাস্থ্যঝুঁকি। উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, রক্তে অতিরিক্ত কোলেস্টেরল, ধূমপান, শরীরচর্চার অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ হৃদরোগের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস গড়ে তুললে এ ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ইনস্টিটিউট ফর হেলথ মেট্রিক্স অ্যান্ড ইভালুয়েশনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রতি বছর নতুন করে হৃদরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন প্রায় ৯ লাখ ৯২ হাজার ৭৩৬ জন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ও বিভিন্ন গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, দেশে প্রতিবছর হৃদরোগে মারা যান দুই লাখের বেশি মানুষ।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখতে নিয়মিত হাঁটা বা শরীরচর্চা, সুষম খাবার এবং পর্যাপ্ত ঘুমের অভ্যাস করা জরুরি। খাবারে লবণ, চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বির পরিমাণ কমিয়ে শাকসবজি ও ফলমূল বাড়াতে হবে। পাশাপাশি ধূমপান থেকে বিরত থাকাও হৃদরোগের ঝুঁকি কমাতে গুরুত্বপূর্ণ।
যাদের হৃদরোগের ঝুঁকি রয়েছে, তাদের নিয়মিত রক্তচাপ, রক্তে শর্করা ও কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করা প্রয়োজন। শরীরে কোনো অস্বাভাবিকতা দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ারও পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
বুকে চাপ বা ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অস্বাভাবিক ঘাম কিংবা হঠাৎ দুর্বলতার মতো উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি। সময়মতো সচেতনতা, স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসার মাধ্যমে হৃদরোগের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।
মতামত দিন