শীতের সকালে নারীকে বেঁধে পানি ঢেলে নির্যাতন, একদল লোকের উল্লাস!
রাজধানীর গুলাশানে এক নারীকে খুঁটির সঙ্গে বেঁধে পানি ঢেলে নির্যাতনের ঘটনার ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। এ সময় তার গায়ে ঠান্ডা পানি ঢেলে কিছু লোককে উল্লাস করতে দেখা গেছে।
জানা গেছে, শুক্রবার (২ জানুয়ারি) চুরির অভিযোগ তুলে ওই নারীকে খুঁটিতে বেঁধে পানি ঢেলে নির্যাতন করা হয়। শনিবার (৩ জানুয়ারি) রাতে নির্যাতনে সম্পৃক্ততার অভিযোগে গুলশান থানার পুলিশ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নিয়েছে। তবে ওই নারীকে খুঁজে পায়নি পুলিশ।
থানা সূত্রে জানা গেছে, যাদের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে, তারা মাদ্রাসার দুই হুজুর লোকমান ও একরাম এবং তিন শিক্ষার্থী।
ভিডিওতে দেখা গেছে, শীতের পোশাক পরা একজন নারীকে খুঁটির সঙ্গে বাঁধা হয়েছে। পরে তাঁর গায়ে ছোট বালতি ও মগ দিয়ে পানি ঢালছেন দুজন। ঠান্ডা পানি গায়ে পড়ার পর ছটফট করতে দেখা গেছে ওই নারীকে। তার গায়ে পানি ঢালা ব্যক্তিরা উল্লাস করছেন। যেন তারা শীতের সময় ওই নারীর গায়ে ঠান্ডা পানি ঢেলে আনন্দ পাচ্ছেন। কয়েকজন মানুষ জটলা বেঁধে বিষয়টি দেখছেন। একজন মোবাইল ফোনে ভিডিও ধারণ করছেন। শনিবার ফেসবুকে ওই নারীর প্রতি সহিংসতার এই ভিডিও ভাইরাল হয়।
পুলিশ জানায়, ঘটনাটি গুলশানের নদ্দা এলাকার মোড়ল বাজারের। শুক্রবার (২ জানুয়ারি) চুরির অভিযোগ তুলে ওই নারীকে খুঁটিতে বেঁধে পানি ঢেলে নির্যাতন করা হয়।
পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানা হেফাজতে নেওয়ার বিষয়ে গুলশান থানা পুলিশ জানিয়েছে, ভাইরাল হওয়া ভিডিওটি শনিবার পুলিশের নজরে আসে। স্থানটি গুলশান থানাধীন নদ্দা এলাকার মোড়ল বাজার বলে শনাক্ত করা হয়। রাত সাড়ে ১০টায় পুলিশ সেখানে অভিযান চালায়। স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় পুলিশ ঘটনাস্থল মারকাযুত তালীম আল ইসলামী মাদ্রাসায় পৌঁছান।
মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষ পুলিশকে জানান, ওইদিন সকাল সাড়ে ছয়টা থেকে সাতটার মধ্যে মাদ্রাসার দুই শিক্ষার্থী দেখতে পায়, ওই নারী মাদ্রাসার লোকমান নামের একজন শিক্ষকের কক্ষে তার হ্যাঙ্গারে ঝুলিয়ে রাখা পাঞ্জাবির পকেটে হাত দিচ্ছেন। শিক্ষার্থীরা চিৎকার করলে পাশের কক্ষ থেকে একরাম নামের আরেক শিক্ষক বেরিয়ে আসেন এবং ওই নারীকে আটক করেন। ওই নারীকে তারা পুলিশে সোপর্দ করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু এত সকালে পুলিশ না পেয়ে ওই নারীকে নিজেরাই ‘শাস্তি’ দিয়ে ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। শাস্তির প্রক্রিয়া হিসেবে নারীকে বেঁধে পানি ঢেলে ছেড়ে দেওয়া হয়। এরপর কয়েকজন ওই নারীকে উত্তরাগামী একটি বাসে তুলে দেন।
পুলিশ জানায়, কেউ একজন ওই ঘটনার ভিডিও ফেসবুকে পোস্ট করেন। পুলিশ ভিডিও দেখে পাঁচজনকে শনাক্ত করে। তবে ওই নারীকে এলাকার কেউ চিনতে পারেননি। পুলিশ এখন পর্যন্ত ওই নারীকে শনাক্ত করতে পারেনি।
গুলশান থানার ওসি মো. রাকিবুল হাসান গণমাধ্যমকে বলেন, ভিডিও দেখেই পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা নেয়। রাতেই পাঁচজনকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসে। এখন পর্যন্ত মামলা হয়নি। পুলিশের একটি দল ভুক্তভোগী নারীর খোঁজ করছে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে