দাবানলের ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে বিশ্বকাপ ফাইনালের ভেন্যু, ম্যাচ নিয়ে শঙ্কা
কানাডার ভয়াবহ দাবানলের ধোঁয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সির আকাশ ধোঁয়াশাচ্ছন্ন হয়ে পড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর ফাইনালের ভেন্যু নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামেও। আর্জেন্টিনা-স্পেনের বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনালের আর মাত্র দুই দিন বাকি থাকলেও স্টেডিয়াম এলাকা এখনও ধোঁয়ার চাদরে ঢাকা।
পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন লাইব্রেরি, পুলিশ স্টেশন ও ফায়ার স্টেশনগুলোতে কেএন৯৫ মাস্ক বিতরণ শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা অনুযায়ী, বর্তমান বায়ুদূষণের মাত্রায় একদিন বাইরে থাকা প্রায় ১০টি সিগারেট ধূমপানের সমান ক্ষতিকর হতে পারে।
এ অবস্থায় নির্ধারিত সময়ে খোলা স্টেডিয়ামে ফাইনাল আয়োজন নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও এখন পর্যন্ত ম্যাচ স্থগিত বা ভেন্যু পরিবর্তনের কোনো ইঙ্গিত দেয়নি ফিফা।
তবে আবহাওয়াবিদরা কিছুটা স্বস্তির খবর দিয়েছেন। নিউইয়র্ক ও নিউ জার্সিতে শিগগিরই বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এতে ধোঁয়ার ঘনত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে বায়ুর মানের উন্নতি হতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, বাংলাদেশ সময় রোববার রাতে ফাইনাল শুরুর আগেই পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়ে আসবে।
ফাইনাল দেখতে মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ৮২ হাজারের বেশি দর্শক উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে। পাশাপাশি নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্কে বড় পর্দায় খেলা উপভোগ করতে আরও প্রায় ৫০ হাজার দর্শক জড়ো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে বায়ুর মান নিয়ে উদ্বেগ থেকেই যাচ্ছে।
অ্যাকুওয়েদার-এর প্রধান আবহাওয়াবিদ অ্যালেক্স দা সিলভা রয়টার্সকে জানিয়েছেন, রোববার সকাল নাগাদ ধোঁয়ার বেশির ভাগই সরে যাবে এবং বায়ুর মান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হবে।
তবে ফুসফুস বিশেষজ্ঞ ডা. ভিন গুপ্ত সতর্ক করে বলেছেন, ধোঁয়া কমলেও তাপপ্রবাহ ও বায়ুদূষণের সম্মিলিত প্রভাব খেলোয়াড়দের ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি করতে পারে। তাই ম্যাচে আরও বেশি হাইড্রেশন বিরতি রাখার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। পাশাপাশি বয়স্ক ব্যক্তি এবং হৃদ্রোগ বা ফুসফুসের সমস্যায় আক্রান্তদের অপ্রয়োজনীয়ভাবে বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
এদিকে নিউইয়র্কের গভর্নর ক্যাথি হোকুলও বাসিন্দাদের প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের না হওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন।
মতামত দিন