Views Bangladesh Logo

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ‘সেবা সপ্তাহ’ কেন পালিত হলো এমন নীরবতায়?

বীর মুক্তিযোদ্ধা ও তাদের সন্তানদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতি বছর সেবা ‘সপ্তাহ’ পালন করে থাকে। ২০১৯ সাল থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতি বছর সেবা সপ্তাহ পালন করে আসছে। ২০১৯ সালে মে মাসে সেবা সপ্তাহ পালন করা হলেও গত কয়েক বছর ধরে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারিতে এ সপ্তাহ পালন করা হয়।

অনেক মুক্তিযোদ্ধাই সেবা সপ্তাহে সমস্যার দ্রুত সমাধান পাওয়ার জন্য অপেক্ষায় থাকেন। সেবা সপ্তাহে মন্ত্রণালয়ের গেজেট শাখা থেকে গেজেট সংশোধন, গেজেট সংশোধন-সংক্রান্ত তথ্য প্রদান এবং যথাযথ কর্তৃপক্ষের সুপারিশের আলোকে গেজেট প্রকাশের ব্যবস্থা করা হয়।

একইভাবে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় নিয়োগ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তি এবং চাকরিরত কর্মকর্তা-কর্মচারীর চাকরিকাল বর্ধিতকরণের প্রত্যয়ন প্রদান করে প্রত্যয়ন শাখা। হিসাব শাখার মাধ্যমে মুক্তিযোদ্ধাদের চিকিৎসার আর্থিক ও অন্যান্য সহযোগিতা প্রদান করা হয়। শহীদ এবং যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের ছাড়পত্র যাচাইকরণ এবং মুক্তিযোদ্ধাদের জমি, প্লট, বাড়ি-সংক্রান্ত আবেদন যাচাইকরণ বিষয়ে সমাধান করে উন্নয়ন শাখা।

এ ছাড়াও সেবা সপ্তাহে বিশেষ ব্যবস্থায় এসব সেবা তাৎক্ষণিকভাবে প্রদান করার কথা। দুর্ভাগ্যবশত, এ বছর সেবা সপ্তাহ কবে পালন হলো, তা জানতে পারেনি অনেক মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার। গত বুধবার ( ১ জানুয়ারি) শুরু হয়ে মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) শেষ হয়ে গেছে সেবা সপ্তাহ; কিন্তু সংবাদমাধ্যমে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, এবার সেবা সপ্তাহ পলিত হয়েছে সুনসান নীরবতায়।

বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি। অনেকে জানতেনও না মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এমন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এর কারণ প্রসঙ্গে জানা যায়, সেবা সপ্তাহ উপলক্ষে এবার প্রচার-প্রচারণায় ঘাটতি প্রকট। এ সংক্রান্ত কোনো আয়োজনই ছিল না। সেবা সপ্তাহ কর্মসূচি পালনের বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধাসহ সংশ্লিষ্টদের জানানোর জন্য এবার শোভাযাত্রার আয়োজন বা অন্য কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এ সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি বা নোটিশও পাওয়া যায়নি মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে। গণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই মুক্তিযুদ্ধ ও মুক্তিযোদ্ধাদের নানাভাবে হেয় করার প্রবণতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে, এই নীরবতা কি তারই ধারবাহিকতা? মুক্তিযোদ্ধারা আমাদের জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান, তাদের ও তাদের পরিবারকে যাবতীয় সেবা দেয়া রাষ্ট্রের দায়িত্ব। তাহলে কেন এই অবহেলা?

এই প্রশ্নের উত্তর অবশ্যই মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে দিতে হবে। মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্টরা জানান, আগে বীর মুক্তিযোদ্ধা বা পরিবারের সদস্যরা যে কোনো বিষয়ে মন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করে কাগজপত্রের ভিত্তিতে আবেদনে লিখিয়ে নিতে পারতেন; কিন্তু এখন সে সুযোগ নেই। উপদেষ্টা দুটি মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালন করেন। তাই তিনি সপ্তাহে দুই-তিন দিন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে আসেন। আবার নির্ধারিত সময় ছাড়া সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে তিনি দেখাও করেন না। ফলে কাজের গতি কমেছে।

বিভিন্ন কারণে এবার অনাড়ম্বরভাবে সেবা সপ্তাহ পালিত হচ্ছে। অভ্যন্তরীণভাবে কর্মসূচি উদ্বোধন করা হয়েছে। এ কারণে গণমাধ্যমেও আসেনি। তবে মুক্তিযোদ্ধাদের হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বছরের অন্যান্য দিনেও তারা যেন দ্রুত সেবা পান, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

আমরাও চাই মুক্তিযোদ্ধাদের ও তাদের পরিবারের নিয়মিত সেবা যথাযথভাবে যথাসময়ে নিশ্চিত করা হোক। মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধাদের পরিবার যেন কোনোভাবে অবহেলার শিকার না হন, তার দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়কে আরও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে পালন করতে হবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ