রাতে পর্যাপ্ত ঘুমিয়েও সারাদিন ঘুম ঘুম লাগার কারণ জেনে নিন
রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানোর পরও যদি দিনের বেশিরভাগ সময় ঝিমুনি, ক্লান্তি বা অবসাদ অনুভূত হয়, তাহলে শুধু ঘুমের সময় নয়, ঘুমের মান এবং শরীরের কিছু অন্তর্নিহিত সমস্যাও এর কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘদিন এমন অবস্থা চলতে থাকলে বিষয়টিকে অবহেলা করা উচিত নয়।
ঘুমের মান খারাপ হলে
অনেকেই মনে করেন, বিছানায় দীর্ঘ সময় কাটানো মানেই ভালো ঘুম। বাস্তবে ঘুম যদি বারবার ভেঙে যায়, গভীর ঘুম কম হয় বা রাতে অস্থিরতা থাকে, তাহলে শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রাম পায় না। ফলে সকালে ঘুম থেকে ওঠার পরও ক্লান্তি ও তন্দ্রাভাব থেকে যায়।
স্লিপ অ্যাপনিয়া
ঘুমের মধ্যে সাময়িকভাবে শ্বাসপ্রশ্বাস বন্ধ হয়ে যাওয়ার সমস্যাকে স্লিপ অ্যাপনিয়া বলা হয়। এতে মস্তিষ্ক বারবার জেগে ওঠে, যদিও আক্রান্ত ব্যক্তি অনেক সময় তা টের পান না। জোরে নাক ডাকা, সকালে মাথাব্যথা এবং দিনের বেলায় অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব এর সাধারণ লক্ষণ।
রক্তস্বল্পতা
শরীরে আয়রনের ঘাটতি বা রক্তস্বল্পতা থাকলে টিস্যুগুলো পর্যাপ্ত অক্সিজেন পায় না। ফলে দুর্বলতা, অবসাদ, মাথা ঘোরা এবং সারাদিন ঝিমুনি দেখা দিতে পারে। নারীদের মধ্যে এ সমস্যা তুলনামূলক বেশি দেখা যায়।
থাইরয়েড হরমোনের ঘাটতি
থাইরয়েড গ্রন্থি কম সক্রিয় হলে শরীরের বিপাকক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। এর ফলে ক্লান্তি, ওজন বৃদ্ধি, ঠান্ডা বেশি লাগা, মনোযোগের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত ঘুম ঘুম ভাব দেখা দিতে পারে।
ডায়াবেটিস বা রক্তে শর্করার অস্বাভাবিকতা
রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি বা কম—দুই অবস্থাতেই শরীরে ক্লান্তি তৈরি হতে পারে। বিশেষ করে খাবারের পর অতিরিক্ত ঝিমুনি বা শক্তিহীনতা অনুভব করলে রক্তে শর্করার বিষয়টি পরীক্ষা করা প্রয়োজন।
মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা
শুধু শারীরিক নয়, মানসিক সমস্যাও অতিরিক্ত ক্লান্তির কারণ হতে পারে। বিষণ্নতা, উদ্বেগ বা দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপ থাকলে অনেকেই পর্যাপ্ত ঘুমিয়েও সতেজ বোধ করেন না।
ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
অ্যালার্জির ওষুধ, কিছু ব্যথানাশক, ঘুমের ওষুধ কিংবা মানসিক রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত কিছু ওষুধ দিনের বেলায় তন্দ্রাভাব সৃষ্টি করতে পারে।
কী করতে পারেন?
-প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুমাতে যাওয়া ও ঘুম থেকে ওঠা।
-ঘুমানোর আগে মোবাইল, টিভি ও অন্যান্য স্ক্রিনের ব্যবহার কমানো।
-নিয়মিত হাঁটা বা হালকা ব্যায়াম করা।
-সুষম খাদ্য গ্রহণ এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা।
-ক্যাফেইন ও অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করা।
কখন চিকিৎসকের কাছে যাবেন?
যদি টানা ২-৩ সপ্তাহ পর্যাপ্ত ঘুমের পরও অতিরিক্ত ঝিমুনি থাকে, কর্মক্ষমতা কমে যায়, ঘন ঘন নাক ডাকেন, শ্বাস বন্ধ হয়ে আসার অনুভূতি হয় বা ক্লান্তির সঙ্গে অন্য শারীরিক উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
অনেক সময় সমস্যার সমাধান বেশি ঘুম নয়; বরং কেন শরীর পর্যাপ্ত বিশ্রাম পাচ্ছে না, সেই কারণটি খুঁজে বের করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মতামত দিন