Views Bangladesh Logo

হত্যার আগে কেন ১৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকা তুলেছিলেন গণপতি চক্রবর্তী?

Masum   Hossain

মাসুম হোসেন

রংপুরে একই পরিবারের চার সদস্য হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নতুন করে আলোচনায় এসেছে নিহত অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর ট্রেজারি থেকে ১৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকা উত্তোলনের বিষয়টি। হত্যাকাণ্ডের প্রায় তিন সপ্তাহ আগে তিনি এই বিপুল অঙ্কের টাকা তুলেছিলেন বলে জানা গেছে। তবে ঠিক কী কারণে তিনি এত টাকা তুলেছিলেন এবং পরবর্তীতে তা কোথায় ব্যয় বা সংরক্ষণ করেছিলেন, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

জানা গেছে, গত ২৯ জুলাই গণপতি চক্রবর্তী ট্রেজারি থেকে তাঁর প্রভিডেন্ট ফান্ডের ১৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকার একটি চেক উত্তোলন করেন। এর প্রায় তিন সপ্তাহ পর, গত ২১ আগস্ট সকালে গণপতি চক্রবর্তী, তাঁর স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তী, মেয়ে আগামী চক্রবর্তী প্রার্থী এবং ছেলে আয়ুষ চক্রবর্তী প্রীয়মকে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের দাবি। পরদিন রাত ১১টার দিকে কামালকাছনা মাছুয়াপাড়া (দাসপাড়া) এলাকার নিজ বাড়ি থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

হত্যাকাণ্ডের তদন্তে গণপতির ব্যাংক থেকে উত্তোলন করা এই বিপুল অঙ্কের টাকার বিষয়টি সামনে আসার পর প্রশ্ন উঠেছে—এত টাকা উত্তোলনের পর সেটি আসলে কোথায় গেল? বিষয়টি এখন তদন্তের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা বিভাগ) সনাতন চক্রবর্তী জানান, গণপতি চক্রবর্তী ওই টাকা কোন খাতে ব্যয় করেছেন, নাকি তা তাঁর কাছেই ছিল—এ বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি, বিষয়টি জানার চেষ্টা চলছে।

তিনি আরও জানান, টাকা উত্তোলনের বিষয়সহ আরও কয়েকটি প্রসঙ্গে গ্রেপ্তার সিদ্ধার্থ চন্দ্র দাস ও মুগ্ধ দাসকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হতে পারে।

গণপতি চক্রবর্তীর আত্মীয় বিশ্বজিৎ রায় জানান, বাড়ির নিচতলার নির্মাণকাজ এবং মেয়ের বিয়ের গয়না কেনার জন্যই তিনি ওই টাকা তুলেছিলেন। এর বাইরে অর্থটি নিয়ে তাঁরা আর কিছু জানেন না।

ফলে প্রশ্ন থেকে যাচ্ছে—২৯ জুলাই প্রভিডেন্ট ফান্ডের এই টাকা তোলার পর হত্যাকাণ্ডের আগ পর্যন্ত প্রায় তিন সপ্তাহে সেই অর্থের কী হয়েছিল? টাকা কি বাড়িতেই ছিল, নাকি ইতিমধ্যে কোনো খাতে ব্যয় হয়ে গিয়েছিল—তা তদন্তে এখনো স্পষ্ট নয়। হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে এই অর্থের কোনো যোগসূত্র ছিল কি না, নাকি এটি নিছকই গণপতির ব্যক্তিগত প্রয়োজনে তোলা অর্থ ছিল—তা-ও তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।

চার সদস্য হত্যার পর বাড়ি থেকে নগদ ১৫ হাজার টাকা ও কিছু মূল্যবান গয়না উদ্ধারের কথা জানিয়েছিল পুলিশ। তবে তদন্তে ১৪ লাখ ৫৯ হাজার টাকা উত্তোলনের বিষয়টি যুক্ত হওয়ায় অর্থের প্রকৃত গতিপথ অনুসন্ধান এখন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ