Views Bangladesh Logo

অপরাধ দমনে কঠোর হওয়ার নির্দেশ এত দেরিতে কেন?

ণঅভ্যুত্থানের পর থেকেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারে ভেঙে পড়েছে। হেন কোনো অপরাধ নেই যা সংঘটিত হচ্ছে না। দেশের মানুষের প্রতিটা দিন যাচ্ছে ভয়াবহ আতঙ্কে। এটাই ছিল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান ব্যর্থতা। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অনেকটা গা-ছাড়া ভাব দেখিয়েছে এতদিন। এর মধ্যে আইজিপি বাহারুল আলমের বার্তা অনেকটা আশার বাণী হয়ে এসেছে। গতকাল সোমবার (১০ মার্চ) সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত খবরে জানা যায়, অপরাধ দমনে পুলিশের মাঠ প্রশাসনকে দেয়া হয়েছে কঠোর বার্তা। দল বেঁধে সহিংসতাসহ (মব ভায়োলেন্স) যে কোনো ধরনের বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি এখন থেকে আরও শক্তভাবে মোকাবিলা করতে বলা হয়েছে। অপরাধে জড়ালে দল-মত, গোষ্ঠী দেখা হবে না। কেউ আইন হাতে তুলে নিলেই নেয়া হবে ব্যবস্থা।

গত রোববার ৬৪ জেলার পুলিশ সুপারের সঙ্গে ভার্চুয়াল বৈঠক করে আইজিপি বাহারুল আলম এই বার্তা দেন। অপরাধের তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলার নির্দেশও দেয়া হয়েছে। বৈঠকে সব রেঞ্জ ডিআইজি ও মহানগর পুলিশ কমিশনারসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। চলমান আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে করণীয় ও আগামীর চ্যালেঞ্জও উঠে আসে আলোচনায়। বৈঠকে অংশ নিয়েছেন এমন একাধিক কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।

প্রশ্ন হচ্ছে, গণঅভ্যুত্থান হয়েছে সাত মাস হয়ে গেল, এর মধ্যে গত পাঁচ-ছয় মাস ধরেই দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নাজুক, আইজিপির কঠোর নির্দেশ দিতে এত দেরি হলো কেন? এত হত্যা-ধর্ষণ-মব জাস্টিস, মানুষের বাড়িঘরে, মাজারে মাজারে হামলার পরও কেন তারা এতদিন এতটা নমনীয় ছিলেন? এখন তিনি বলছেন, অপরাধে জড়ালে দল-মত, গোষ্ঠী দেখা হবে না; তাহলে কি এতদিন দল-মত, গোষ্ঠী দেখেই নীরব ছিলেন? পুলিশের আইনে তো বলাই আছে, অপরাধী, সে যে পক্ষেরই হোক পুলিশের চোখে তার একমাত্র পরিচয় সে অপরাধী; তাহলে এখন আবার নতুন করে তার দল-মত, গোষ্ঠী নিরপেক্ষতা কেন?

তারপরও যে আইজিপি শেষ পর্যন্ত এমন একটি বার্তা দিলেন তার জন্য তাকে সাধুবাদ। অনেক দিন পর এই ধরনের কঠোর বার্তা পুলিশকে চাঙা করবে। আইন প্রয়োগ করতে গেলেও পুলিশ যে দ্বিধাদ্বন্দ্বের মধ্যে রয়েছে, সেটা কিছুটা হলেও কাটিয়ে উঠতে পারবে। অপরাধীদের কাছেও নতুন বার্তা যাবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ