Views Bangladesh Logo

উদ্ধার করা জমি সমন্বয়কদের দখলে কেন?

রাজনৈতিক জোরে বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি জমি ক্ষমতাবান ব্যক্তির দখলে থাকে আমরা জানি। দেশ স্বাধীনের পর থেকেই এটা হয়ে আসছে। দখলকৃত জমি উদ্ধারে বিভিন্ন সরকার বিভিন্ন সময় নানা কার্যক্রমও চালিয়েছে। তার বেশির ভাগই হয়েছে জনগণের চোখে ধুলো দেয়া। কারণ বাংলাদেশের বহু জমি, খাল, নদীর পাড় বহু ক্ষমতাবান, ব্যক্তির দখলে আগেও যেমন ছিল, এখনো তেমন আছে। যদিও গণঅভ্যুত্থানের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দখলকৃত জমি, খাল উদ্ধারের তৎপরতা দেখিয়েছিল। কিছু জমি, খাল উদ্ধার করাও গেছে; কিন্তু দুঃখের বিষয় সেই উদ্ধারকৃত জমিই আমার পুনর্দখল হয়ে যাচ্ছে।

গতকাল বুধবার (৯ এপ্রিল) সংবাদমাধ্যমে প্রাপ্ত খবরে জানা যায়, উদ্ধার করা জমি এখন চলে যাচ্ছে সমন্বয়কদের দখলে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে স্থাপনা অপসারণ করেছিল সড়ক ও জনপথ বিভাগ। এখন সেখানে নতুন করে স্টল নির্মাণ করছেন কয়েকজন ছাত্র। প্রাপ্ত তথ্যমতে, বরিশালের রূপাতলী বাস টার্মিনাল এলাকায় প্রধান সড়কের পাশে ২২টি স্টল নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছিলেন জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের সাবেক মহাপরিচালক বর্তমানে কারান্তরীণ বরখাস্ত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসান।

তাদের পরিবারের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত একটি এতিমখানার নামে সড়ক ও জনপথের (সওজ) জায়গায় স্টলগুলো নির্মাণ করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর উচ্ছেদ অভিযান চালিয়ে সেগুলো অপসারণ করে সওজ। এখন সেখানে দখল করে স্টল নির্মাণ করছেন কয়েকজন ছাত্র। তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, তারা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বরিশাল মহানগরের আহ্বায়ক শাহেদুল ইসলাম শাহেদের লোক। বাস টার্মিনাল থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দূরে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র তিনি। থাকেন শেরেবাংলা হলে। শাহেদের বাড়ি বরিশাল সদর উপজেলার চরমোনাই ইউনিয়নে। উচ্ছেদ স্টলের যেটিতে ভোজনবিলাস নামের রেস্তোরাঁ ছিল, সেখানে এখন কাঠের স্থাপনার নির্মাণকাজ চলছে। তিনজন শ্রমিক কাজ করছেন। তাদের তদারকি করছেন দুই ছাত্র। স্থানীয়রা জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়করা ঘর তুলছেন। জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের নামে দোকান হবে বলে তারা শুনেছেন।

গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে ছাত্রদের ক্ষমতার নানারকম অপব্যবহার দেখা যাচ্ছে। দেশের নানা স্থানে সমন্বয়ক পরিচয়ে কিছু ছাত্র নানারকম নৈরাজ্য চালিয়েছে। সমন্বয়ক পরিচয়ে চাঁদাবাজির অভিযোগও উঠেছে বিভিন্ন জায়গায়; কিন্তু বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটি এসব অভিযোগ অনেক সময় অস্বীকার করেছে এবং অনেক ক্ষেত্রে অনেক সমন্বয়ক এর দায় নিতে চায়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা এমনো বলেছেন যে, বৈষম্যবিরোধী অথবা সমন্বয়ক পরিচয়ের এখন কোনো অস্তিত্ব নেই।

তারপরও ছাত্র পরিচয়ে সরকারি জমি দখল কেন? ছাত্ররা কারণ দর্শিয়েছে, জুলাই স্মৃতি ফাউন্ডেশনের নামে দোকান হবে। এটাই-বা কার অনুমতিতে হলো? একজন ছাত্রনেতা আরেকজন গণমাধ্যম কর্মীকে বলেছেন, ‘আমি শুনেছি, আমাদের আহত ছাত্ররা সেখানে বসবে। প্রশাসন যখন আসবে, তাদের প্রয়োজনে সরিয়ে নেওয়া হবে।’ কিন্তু এটা ভবিষ্যতে কীরকম অরাজকতা সৃষ্টি করতে পারে, তা কি ছাত্ররা ভেবে দেখেছেন? তা ছাড়া এতে বদনামও হতে পারে। জুলাই ফাউন্ডেশনের নামে ছাত্ররা যা-ই করুন, তার পেছনে আইনি স্বচ্ছতা থাকতে হবে।

তা না হলে তা অবশ্যই প্রশ্নবিদ্ধ হবে। তাই আমরা চাই উক্ত বিষয়ে জরুরি সুষ্ঠু তদন্ত করা হোক। আইনিপ্রক্রিয়া ছাড়া কোনো পরিচয়েই কেউ যেন সরকারি জমি দখল না নিতে পারে, তার বিরুদ্ধে প্রশাসন যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। এরকম চলতে থাকলে আরও অনেকেই এ পথে পা বাড়াবে, যা শেষ পর্যন্ত ছাত্র ও সমন্বয়কদেরই প্রশ্নবিদ্ধ করবে। একজন বা কতিপয়ের দোষ যেন সমস্ত ছাত্র ও সমন্বয়েকদের কাঁধে না পড়ে, তার জন্য ছাত্র ও সমন্বয়কদেরও সচেতন থাকতে হবে।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ