স্পেনকে হারাতে স্কটল্যান্ডের কৌশলই হতে পারে আর্জেন্টিনার অনুপ্রেরণা
ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে শক্তিশালী স্পেনের বিপক্ষে শিরোপা ধরে রাখার লড়াইয়ে নামবে আর্জেন্টিনা। টানা ৩৭ ম্যাচ অপরাজিত থাকা এবং পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র এক গোল হজম করা স্পেনকে থামানো কঠিন হলেও কোচ লিওনেল স্কালোনির দল অনুপ্রেরণা খুঁজতে পারে এক অপ্রত্যাশিত প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ডের কাছ থেকে।
২০২৩ সালের মার্চে ইউরো বাছাইপর্বে গ্লাসগোর হ্যাম্পডেন পার্কে স্কটল্যান্ড ২-০ গোলে হারিয়েছিল স্পেনকে। সেই ম্যাচে স্টিভ ক্লার্কের দলের কৌশল স্পেনের দুর্বলতা উন্মোচন করেছিল বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
স্কটল্যান্ড সেদিন এলোমেলোভাবে উচ্চ প্রেসিং না করে শৃঙ্খলাবদ্ধ ৫-৪-১ ফর্মেশনে খেলেছিল। প্রয়োজনমতো প্রেসিং করে স্পেনের বিল্ডআপে বাধা সৃষ্টি করলেও বেশিরভাগ সময় নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজিয়ে রাখে তারা। বলের দখল প্রায় ৭৫ শতাংশ স্পেনের হাতে ছেড়ে দিয়েও স্কটিশরা তাদের গভীর এলাকা থেকে ক্রস করতে বাধ্য করে এবং আকাশপথে স্পেনের সীমাবদ্ধতাকে কাজে লাগায়।
এ ছাড়া স্কট ম্যাকটমিনের করা দুই গোলই আসে বাম দিক দিয়ে দ্রুত আক্রমণ থেকে, যা স্পেনের রক্ষণকে অপ্রস্তুত অবস্থায় ফেলে দেয়।
বিশ্লেষকদের মতে, কৌশলের পাশাপাশি মানসিক চাপ সৃষ্টি করাও ছিল স্কটল্যান্ডের বড় অস্ত্র। বিশেষ করে স্পেনের মিডফিল্ডের প্রাণভোমরা রদ্রিকে ছন্দ হারাতে বাধ্য করেছিল তারা। ম্যাচের পর রদ্রি স্কটল্যান্ডের সময়ক্ষেপণ ও শারীরিক ফুটবলকে প্রকাশ্যে সমালোচনা করে বলেছিলেন, এটি ‘আবর্জনা’ এবং ‘ফুটবল নয়’।
এর আগে ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই ক্ষেত্রেই কঠিন পরিস্থিতিতে রদ্রির আবেগ নিয়ন্ত্রণ হারানোর উদাহরণ রয়েছে। যেখানে ফ্রান্স সেমিফাইনালে স্পেনের স্বাভাবিক ছন্দে খেলতে গিয়ে ব্যর্থ হয়েছে, সেখানে স্কটল্যান্ড শারীরিক লড়াই, চাপ ও কৌশলী সময়ক্ষেপণের মাধ্যমে স্পেনকে অস্বস্তিতে ফেলতে সক্ষম হয়েছিল।
এখানেই আর্জেন্টিনার সঙ্গে স্কটল্যান্ডের কৌশলের মিল খুঁজে পাওয়া যায়। লিওনেল মেসির সৃজনশীলতার পাশাপাশি আর্জেন্টিনার অন্যতম শক্তি তাদের লড়াকু মানসিকতা ও শারীরিক ফুটবল। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালেও শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ও শারীরিক ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষের পাসিং ছন্দ নষ্ট করেছিল স্কালোনির দল।
বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৩ সালের স্কটল্যান্ডের তুলনায় আর্জেন্টিনার দলে অনেক বেশি বিশ্বমানের ফুটবলার রয়েছে। তবে শিরোপা ধরে রাখতে হলে স্কালোনির শিষ্যদের একই ধরনের কৌশলগত শৃঙ্খলা, মানসিক চাপ সৃষ্টি এবং স্পেনের স্বাভাবিক ছন্দ ভেঙে দেওয়ার পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। তাহলেই টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে।
মতামত দিন