জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব হওয়ার দৌড়ে এগিয়ে কারা?
বর্তমান জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের দ্বিতীয় ও শেষ মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর শেষ হচ্ছে। ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব নেবেন নতুন মহাসচিব। এ নিয়ে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে।
জাতিসংঘের রীতি অনুযায়ী, একজন মহাসচিব সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ বা মোট ১০ বছর দায়িত্ব পালন করতে পারেন। সেই হিসেবে গুতেরেসের বিদায়ের পর কে দায়িত্ব নেবেন, তা নিয়ে বিভিন্ন নাম আলোচনায় এসেছে।
ট্রাম্পের চমকপ্রদ প্রস্তাব
মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউইয়র্ক পোস্ট’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোকে জাতিসংঘের মহাসচিব হিসেবে দেখতে আগ্রহী। ট্রাম্পের সঙ্গে ইনফান্তিনোর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থেকেই এমন ভাবনার জন্ম হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
চলতি বছরের বিশ্বকাপ সফলভাবে আয়োজনের জন্য ইনফান্তিনোর প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, মানুষকে একত্রিত করার বিশেষ ক্ষমতা রয়েছে তার। তবে এ বিষয়ে ফিফা কিংবা হোয়াইট হাউস আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইনফান্তিনোর নাম আলোচনায় এলেও জাতিসংঘের মহাসচিব নির্বাচন প্রক্রিয়া বেশ জটিল। ১৫ সদস্যের নিরাপত্তা পরিষদের অনুমোদনের পরই কোনো প্রার্থীর নাম সাধারণ পরিষদে পাঠানো হয়। এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্যের যেকোনো একটি দেশ ভেটো দিলে সেই প্রার্থী বাদ পড়ে যান।
যারা ইতোমধ্যে প্রার্থী
এ পর্যন্ত ছয়জন আনুষ্ঠানিকভাবে গুতেরেসের উত্তরসূরি হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।
মিশেল ব্যাচেলেট (চিলি): চিলির সাবেক দুই মেয়াদের প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার। নারীর অধিকার, মানবাধিকার ও সংকট প্রতিরোধে আরও সক্রিয় জাতিসংঘ গড়ে তোলার পক্ষে তিনি।
মারিয়া ফার্নান্দা এসপিনোসা (ইকুয়েডর): সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং ২০১৮-১৯ সালে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি। তিনি আরও কার্যকর ও ভবিষ্যতমুখী নেতৃত্বের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
রাফায়েল গ্রোসি (আর্জেন্টিনা): আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থার (আইএইএ) মহাপরিচালক। আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলায় সক্রিয় ভূমিকার কারণে তাকে অন্যতম শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে দেখা হচ্ছে।
রেবেকা গ্রিনস্প্যান (কোস্টারিকা): অর্থনীতিবিদ এবং বর্তমানে জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন সংস্থার (আঙ্কটাড) মহাসচিব। লিঙ্গসমতা, টেকসই উন্নয়ন ও জাতিসংঘ সংস্কারের ওপর জোর দিচ্ছেন।
ক্যারোলিন রদ্রিগেজ-বিরকেট (গায়ানা): সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও বর্তমানে জাতিসংঘে গায়ানার স্থায়ী প্রতিনিধি। কূটনৈতিক অভিজ্ঞতার কারণে তারও ভালো সমর্থন রয়েছে।
ম্যাকি সাল (সেনেগাল): সেনেগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট। তিনি নিরাপত্তা পরিষদ সংস্কারের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।
শুরু হচ্ছে প্রার্থীদের উন্মুক্ত সংলাপ
আগামী বৃহস্পতিবার জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রার্থীরা উন্মুক্ত সংলাপে অংশ নেবেন। বাংলাদেশ সময় শুক্রবার ভোর ৩টা থেকে শুরু হওয়া এই অধিবেশনে প্রত্যেক প্রার্থী ৯০ মিনিট ধরে সদস্য রাষ্ট্রগুলোর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেবেন।
এর এক সপ্তাহ পর আনুষ্ঠানিক নির্বাচন প্রক্রিয়া শুরু হবে। আগামী ৩০ জুলাই নিরাপত্তা পরিষদের ১৫ সদস্য গোপন ব্যালটে ভোট দেবেন। কোনো প্রার্থী অন্তত ৯টি ভোট পাওয়ার পাশাপাশি স্থায়ী সদস্যদের কারও ভেটোর মুখে না পড়লে তার নাম সাধারণ পরিষদে অনুমোদনের জন্য পাঠানো হবে। চূড়ান্ত অনুমোদনের পর নতুন মহাসচিব ২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
কে এগিয়ে?
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে রাফায়েল গ্রোসি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও প্রতিযোগিতা এখনো উন্মুক্ত। রেবেকা গ্রিনস্প্যান কিংবা ক্যারোলিন রদ্রিগেজ-বিরকেটও শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছেন।
আন্তর্জাতিক সংকটবিষয়ক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের জাতিসংঘবিষয়ক পরিচালক রিচার্ড গোয়ান বলেন, সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাম গ্রোসি হলেও অন্য প্রার্থীদেরও উল্লেখযোগ্য সমর্থন রয়েছে। শেষ পর্যন্ত কোনো ‘ডার্ক হর্স’ প্রার্থীও সামনে চলে আসতে পারেন।
এদিকে, এবার প্রথমবারের মতো একজন নারীকে জাতিসংঘের মহাসচিব করার দাবিও জোরালো হচ্ছে।
অপরদিকে, ট্রাম্পের পছন্দের জিয়ান্নি ইনফান্তিনো এখনো আনুষ্ঠানিক প্রার্থী নন এবং শেষ পর্যন্ত তিনি নির্বাচনী দৌড়ে থাকবেন কি না, সেটিও অনিশ্চিত।
মতামত দিন