Views Bangladesh Logo

অ্যাপলের সিংহাসনে জন টার্নাস, যেভাবে তার উত্থান

সোমবার অ্যাপল তাদের দীর্ঘদিনের হার্ডওয়্যার প্রধান জন টার্নাসকে পরবর্তী সিইও হিসেবে ঘোষণা করেছে। টিম কুকের উত্তরসূরি হিসেবে তাকে এমন এক সময়ে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে যখন আইফোন নির্মাতা প্রতিষ্ঠানটি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (AI) প্রভাবে বদলে যাওয়া বৈশ্বিক পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

৫০ বছর বয়সী টার্নাস ১ সেপ্টেম্বর থেকে অ্যাপলের সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন। বর্তমান সিইও টিম কুক, যিনি ২০১১ সাল থেকে অ্যাপল পরিচালনা করছেন, তিনি এখন থেকে এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। ১ সেপ্টেম্বর থেকেই টার্নাস অ্যাপলের পরিচালনা পর্ষদে (Board of Directors) যোগ দেবেন।

এই নেতৃত্ব পরিবর্তন বিশ্বের অন্যতম আইকনিক কোম্পানিতে একটি যুগের অবসান ঘটাচ্ছে। ঠিক এই সময়েই প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানিগুলো এআই-চালিত পণ্যের মাধ্যমে কনজিউমার ইলেকট্রনিক্স বাজারে অ্যাপলের আধিপত্য কমানোর চেষ্টা করছে। মজার ব্যাপার হলো, ২০১১ সালে স্টিভ জবসের কাছ থেকে দায়িত্ব নেওয়ার সময় টিম কুকের বয়সও ছিল ৫০ বছর।

দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞ কর্মী
টার্নাস ২০০১ সালে অ্যাপলের প্রোডাক্ট ডিজাইন টিমে যোগ দেন। ২০১৩ সালে তিনি হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের ভাইস প্রেসিডেন্ট হন এবং ২০২১ সালে সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট হিসেবে অ্যাপলের নির্বাহী টিমে পদোন্নতি পান, যেখানে তিনি সরাসরি টিম কুকের অধীনে কাজ করতেন। প্রায় ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের এই কোম্পানিতে তিনি ২৫ বছর ধরে আছেন এবং স্টিভ জবস ও টিম কুক—উভয়ের অধীনেই কাজ করার অভিজ্ঞতা তার রয়েছে।

হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে সাফল্য
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অ্যাপলের আইফোন, আইপ্যাড, ম্যাক, অ্যাপল ওয়াচ এবং এয়ারপডসের মতো গুরুত্বপূর্ণ পণ্যগুলোর হার্ডওয়্যার বিভাগের তত্ত্বাবধান করেছেন টার্নাস। বিশেষ করে ম্যাক কম্পিউটারের বিক্রি বাড়াতে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন, যা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাজারের উল্লেখযোগ্য অংশ দখল করেছে।

আইফোনের নতুন রূপ

গত শরতে টার্নাস 'আইফোন এয়ার' উন্মোচন করেন, যা ২০১৭ সালের পর আইফোনের ডিজাইনে সবচেয়ে বড় পরিবর্তন। অ্যাপলের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে যে, টার্নাসের নেতৃত্বাধীন দলগুলো 'ম্যাকবুক নিও' (MacBook Neo) এবং আইফোন ১৭ সিরিজ তৈরির ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

প্রাথমিক ক্যারিয়ার
অ্যাপলে যোগদানের আগে টার্নাস 'ভার্চুয়াল রিসার্চ সিস্টেমস'-এ মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে কাজ করতেন। তিনি পেনসিলভানিয়া বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেছেন।

টার্নাস কী আলাদা কিছু করবেন?
টিম কুক অ্যাপলকে ৪ ট্রিলিয়ন ডলারের কোম্পানিতে পরিণত করেছেন। টার্নাসের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার ক্ষেত্রে অ্যাপলের অবস্থানকে এগিয়ে নেওয়া। ফরেস্টারের প্রধান বিশ্লেষক দিপাঞ্জন চ্যাটার্জি মনে করেন, টার্নাস একজন হার্ডওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার কারণে অ্যাপল সম্ভবত তাদের ভৌত বা ফিজিক্যাল পণ্যের মাধ্যমেই নিজেদের স্বকীয়তা বজায় রাখার চেষ্টা করবে। অন্যদিকে প্রযুক্তি বিশ্লেষক ড্যান আইভস বলেছেন, টার্নাসকে শুরু থেকেই এআই-এর ক্ষেত্রে ফলাফল দেখানোর জন্য প্রচণ্ড চাপের মুখে থাকতে হবে।

স্টিভ জবস ঝুঁকি নিতে পছন্দ করতেন, যেখানে টিম কুক অ্যাপল ওয়াচ, এয়ারপডস এবং অ্যাপল টিভি প্লাসের মতো পণ্যের মাধ্যমে স্থিতিশীলতা বজায় রেখেছেন। পরিবর্তনশীল এআই বাজারে টার্নাস কোন পথ বেছে নেবেন, তা দেখার বিষয়।

মতামত দিন

মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে

ট্রেন্ডিং ভিউজ