তারেক রহমানের ভারত সফর ইস্যুতে যা বললেন বীণা সিক্রি
বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের সঙ্গে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানো বা প্রত্যর্পণের দাবিকে যুক্ত করায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ভারতের সাবেক কূটনীতিক বীণা সিক্রি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাবেক এই কর্মকর্তা বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে এ ধরনের বক্তব্য কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
মঙ্গলবার এক সাক্ষাৎকারে বীণা সিক্রি বলেন, দুই দেশের সরকার প্রধান পর্যায়ে তারেক রহমানের ভারত সফরের তারিখ চূড়ান্ত করতে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সরকার তারেক রহমানের সফরকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের অনুরোধের সঙ্গে যুক্ত করার চেষ্টা করছে, যা খুবই বিস্ময়কর।’ বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় যে প্রেস নোট বা ফেসবুক পোস্ট দিয়েছে, তা তাঁর মতে খুবই ‘অভদ্র’ এবং ‘অহংকারী’ এবং এমন পরিস্থিতি একেবারেই অগ্রহণযোগ্য।
দুই দেশের সরকারের মধ্যে আলোচনা এখনও চলছে জানিয়ে সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, ‘সফরের তারিখ নিয়ে আলোচনা এবং প্রস্তুতিও চলছে।’ বাংলাদেশ সরকার তারেক রহমান ভারত সফরে আসছেন না এমন কোনো বক্তব্যও দেয়নি বলে উল্লেখ করেন তিনি। বীণা সিক্রির মতে, এ ধরনের মন্তব্য তারেক রহমানের ভারত সফরের গুরুত্ব নিয়ে বাংলাদেশ সরকারের ‘গুরুতরতার অভাব’ প্রকাশ করে।
তিনি বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তারেক রহমানের শপথ নেওয়ার পর দুবার আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। গত ১৭ ফেব্রুয়ারি শপথ নেওয়ার পর এটিই ছিল তারেক রহমানের প্রতি মোদির প্রথম আমন্ত্রণ, যেখানে সুবিধাজনক সময়ে পরিবারসহ দ্বিপক্ষীয় সফরে ভারতে আসার কথা বলা হয়েছিল।’ ভারতকে তারেক রহমানের প্রথম সফরের গন্তব্য করার একটি বোঝাপড়া ছিল বলেও জানান বীণা সিক্রি। তবে ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এ আমন্ত্রণের কোনো জবাব দেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি। এরপর কয়েক সপ্তাহ আগে বিমসটেকের চেয়ার হিসেবে ব্রিকস সম্মেলনে অংশ নিতে তারেক রহমানকে দ্বিতীয়বার আমন্ত্রণ জানায় ভারত, তবে সেই আমন্ত্রণেরও কোনো জবাব দেওয়া হয়নি বলে জানান সাবেক এই কূটনীতিক।
বীণা সিক্রি বলেন, ‘তারেক রহমানের ভারত সফরের জন্য সময়ের সুযোগ খুবই সীমিত।’ এমন পরিস্থিতিতে সফরকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণের সঙ্গে যুক্ত করা অপ্রয়োজনীয়, অ-কূটনৈতিক এবং প্রত্যর্পণের উদ্দেশ্যের সঙ্গেও সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মন্তব্য করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘সবাই জানে, বাংলাদেশ সরকারও অন্যদের চেয়ে ভালো জানে যে প্রত্যর্পণ একটি আইনি প্রক্রিয়া, এ ধরনের প্রক্রিয়া শেষ হতে বছরের পর বছর সময় লাগতে পারে। লন্ডনসহ বিভিন্ন জায়গায় প্রত্যর্পণের অনুরোধের ক্ষেত্রেও এমন হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
বীণা সিক্রি প্রশ্ন তোলেন, ‘তাহলে কি তারেক রহমান আগামী দুই-তিন বছর ভারত সফরে যেতে চাইছেন না?’ তিনি বলেন, ‘দ্বিপক্ষীয় সফরের প্রস্তুতি যখন চলছিল এবং সফরের জন্য সময়ের সুযোগ খুব সংকুচিত হয়ে আসছিল, তখনও কোনো জবাব দেওয়া হয়নি।’ এর পরিবর্তে এ ধরনের ‘খেলা’ শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মতামত দিন