কুমিরের দীঘিতে কুকুরের মৃত্যু: সিসি ক্যামেরার ফুটেজে কী আছে?
বাগেরহাটে হযরত খান জাহান আলী (র.)-এর মাজার সংলগ্ন দীঘিতে একটি আহত কুকুরকে গভীর জলে টেনে নিয়ে গিয়েছিল কুমির। পরে ভেসে উঠেছিল কুকুরটির মৃতদেহ। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৮ এপ্রিল। কিন্তু সেদিন ঠিক কী ঘটেছিল— তা নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা এখনো থামেনি। সঠিক উত্তরও মেলেনি।
অথচ সব প্রশ্নের উত্তর হয়তো লুকিয়ে আছে মূল মাজারের ঠিক সামনে স্থাপিত একটি সিসি ক্যামেরায়, যা সরাসরি দীঘির পাড়ের দিকে তাক করা। তবে ঘটনার পর এতদিন পেরিয়ে গেলেও সেই ক্যামেরার ফুটেজ এখন পর্যন্ত কোথাও প্রকাশ পায়নি।
দেশজুড়ে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি ছিল দর্শনার্থীদের মুঠোফোনে ধারণ করা। তাতে দেখা যায়, কুমির কুকুরটিকে দীঘির গভীরে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। ভিডিওটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে দেশব্যাপী সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ঘটনার বিবরণে কেউ কেউ বলছেন, সেদিন কুকুরটি দীঘির পাড়ে কয়েকজনকে কামড় দেয়। এক পর্যায়ে মাজারের নিরাপত্তাপ্রহরী ফোরকানকে কামড় দেওয়ার সময় তিনি পা ঝাড়া দিলে কুকুরটি দীঘির পানিতে পড়ে যায়। এর কিছুক্ষণ পরেই কুমির সেটিকে ধরে গভীরে নিয়ে যায়।
পরে মৃত অবস্থায় দীঘিতে ভেসে ওঠে কুকুরটি। মৃতদেহ উদ্ধার করে মাটিচাপা দেওয়া হয়। গত ১১ এপ্রিল জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তত্ত্বাবধানে সেই মৃতদেহ থেকে নমুনা সংগ্রহ করা হয় পরীক্ষার জন্য।
একইদিন ঘটনাটি অনুসন্ধানে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একটি তিন সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির প্রধান করা হয় বাগেরহাট সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোসা. আতিয়া খাতুনকে। অন্য দুই সদস্য হলেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা এবং সদর মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি)।
তদন্তের অগ্রগতি জানতে চাইলে ইউএনও মোসা. আতিয়া খাতুন ভিউজ বাংলাদেশকে বলেন, ‘এখনো কুকুরটির ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পাওয়া যায়নি। ওটা পাওয়া গেলেই আমরা তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব।’
মাজারের সিসি ক্যামেরার ফুটেজে ঘটনাটি ধরা পড়েছে কিনা— এই প্রশ্নে তিনি বলেন, ‘তদন্ত প্রতিবেদনেই আমরা সমস্ত কিছু আপনাদের জানিয়ে দেব।’
কিন্তু সেই প্রতিবেদন কবে জমা পড়বে, তার কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমা জানাননি ইউএনও। ততদিন পর্যন্ত দীঘির পাড়ে কী ঘটেছিল— সেই রহস্য ক্যামেরার ফুটেজেই বন্দি থাকছে।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে