অল্প খেয়ে মোটা, বেশি খেয়ে রোগা: কেন এমন হয়?
আমরা প্রায় সবাই এ সমস্যা জানি, কেউ অল্প খেয়েও ফুলে যাচ্ছেন, আবার কেউ সারাদিন গোগ্রাসে খেয়েও ঠিকমতো ওজন ধরে রাখতে পারছেন না। এরকম অবস্থায় প্রশ্ন হয়—কেন আমাদের শরীর একই খাবারের প্রতি একরকম প্রতিক্রিয়া দেখায় না?
গবেষকরা জানাচ্ছেন, এর পেছনে দায়ী কেবল খাওয়ার পরিমাণ নয়; এখানে জড়িত আছে বিপাক হার, পেশির ঘনত্ব, হরমোনের ভারসাম্য এবং জিনগত প্রভাব।
বিপাক হার বা বেসাল মেটাবলিক রেট (BMR) প্রতিটি মানুষের আলাদা। যাদের বিপাক হার বেশি, তারা বিশ্রামের সময়েও বেশি ক্যালোরি পোড়াতে সক্ষম। এদের শরীর অনেক খেয়েও দ্রুত শক্তি শোষণ করে, তাই ওজন বৃদ্ধি ধীরগতিতে হয়। বিপরীতে, যাদের BMR কম, তারা অল্প খেয়েও দ্রুত ফুলে যেতে পারেন।
শরীরে পেশি কেবল শক্তি উৎপাদনেই নয়, ক্যালোরি পোড়াতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পেশিবহুল মানুষ দ্রুত ক্যালোরি ক্ষয় করতে পারেন। নিয়মিত ব্যায়াম করলে পেশির ঘনত্ব এবং শক্তি দুটোই বৃদ্ধি পায়, ফলে শরীরের অতিরিক্ত ক্যালোরি দ্রুত পোড়ে। এর ফলে এমন মানুষরা অনেক খেয়েও মোটা হন না।
মানবদেহে দুটি ধরনের চর্বি থাকে—ব্রাউন ফ্যাট এবং হোয়াইট ফ্যাট। ব্রাউন ফ্যাট ক্যালোরি পোড়াতে সাহায্য করে এবং শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখে। আর হোয়াইট ফ্যাট মূলত ক্যালোরি জমিয়ে রাখে। গবেষণায় দেখা গেছে, রোগা মানুষের শরীরে ব্রাউন ফ্যাটের পরিমাণ বেশি থাকে। এজন্য তারা অনেক খেয়েও মোটা হন না।
ইনসুলিন হরমোন শরীরের চর্বি জমা এবং শক্তি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করে। ইনসুলিনের ভারসাম্য নষ্ট হলে ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স তৈরি হয়, যা ক্যালোরি পোড়ার হার কমিয়ে দেয় এবং চর্বি জমায়। ফলে, এমন ব্যক্তিরা অল্প খেয়ে মোটা হতে পারেন।
শরীরের জিনও মোটা বা রোগা হওয়ার ঝুঁকি নির্ধারণ করে। গবেষকরা জানাচ্ছেন, MC4R, LEP, BSN, NTRK2 নামের জিন স্থূলতার সঙ্গে যুক্ত। এছাড়া ‘FTO’ নামক একটি জিনও আছে, যা শরীরে থাকলে উচ্চ ক্যালোরিযুক্ত খাবারের প্রতি আসক্তি বাড়ায় এবং স্থূল হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৭০% পর্যন্ত বৃদ্ধি করে। MC4R জিনের কারণে মস্তিষ্ক পেট ভরার সংকেত দেরিতে পায়, ফলে মানুষ অতিরিক্ত খেয়ে ফেলেন।
গবেষকরা বলছেন, জিন বা হরমোনের দোষ থাকলেও সঠিক খাদ্যাভ্যাস এবং জীবনযাপনের সংযম রাখলেই ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। স্বাস্থ্যকর খাবার, নিয়মিত ব্যায়াম এবং পর্যাপ্ত বিশ্রাম রোগা ও মোটা হওয়ার ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে।
রোগা বা মোটা হওয়ার পেছনের কারণ একাধিক। খাওয়ার পরিমাণের চেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে বিপাক হার, পেশির ঘনত্ব, চর্বির ধরন, হরমোন এবং জিন। এই বিষয়গুলো বুঝে জীবনধারায় পরিবর্তন আনা গেলে শরীরকে সুস্থ ও ভারসাম্যপূর্ণ রাখা সম্ভব।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে