এইডস প্রতিরোধে সুরক্ষা বাড়াতে হবে
এইচআইভি এমন একটি ভাইরাস, যা শরীরের রোগ প্রতিরোধক্ষমতাকে ধ্বংস করে দেয়। সেই সঙ্গে জীবাণু সংক্রমণের বিরুদ্ধে মানবদেহকে প্রতিরোধহীন করে তোলে। আশার কথা হলো, বিশ্বব্যাপী আধুনিক ওষুধ ও চিকিৎসাব্যবস্থার উদ্ভাবনের ফলে এইডসে আক্রান্ত হলেও মৃত্যুর হার অনেক কমে এসেছে। এখন সঠিক সময়ে চিকিৎসা পেলে এইডস আক্রান্ত হলেও দীর্ঘদিন বেঁচে থাকা সম্ভব। বাংলাদেশে এইডস রোগীর সংখ্যা এখনো খুব বেশি নয়, যা মোট জনসংখ্যার শূন্য দশমিক ১ শতাংশ। তবে জনসংখ্যার বিচারে এখনো বেশি না হলেও এইডস রোগে আক্রান্তদের সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের এইচআইভি-এইডসবিষয়ক সংস্থা ইউনিএইডস, যা দেশের জন্য উদ্বেগজনক।
দেশে এইডস রোগের পরীক্ষা করানো ও চিকিৎসা নেয়ার ক্ষেত্রে এখনো মানুষের মধ্যে সংকোচ রয়েছে। যদিও এসব সেবা সরকার বিনামূল্যে প্রদান করে। গবেষণা বলছে, যাদের শরীরে এইডস শনাক্ত হয়েছে, তাদের মধ্যে অন্তত ৮৪ শতাংশ রোগীকে সরকার চিকিৎসার আওতায় নিয়ে আসছে। ইতিমধ্যে এইডস শনাক্ত করার জন্য সারা দেশে ২৭টি কেন্দ্র আর চিকিৎসাসেবা দেয়ার জন্য ১১টি কেন্দ্র গড়ে তোলা হয়েছে। তবু কিছু চ্যালেঞ্জ এখনো রয়ে গেছে। এখন প্রশ্ন হচ্ছে, কেন দেশে এইডস রোগীর সংখ্যা প্রতিনিয়ত বাড়ছে। অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এইডস প্রতিরোধে অপ্রতুল কর্মসূচির কারণে এইচআইভির বিস্তার বন্ধ করা যাচ্ছে না। অন্যদিকে রোগটি সম্পর্কে সাধারণ মানুষের ধারণা খুবই কম।
দেশে প্রথম এইডস রোগী শনাক্ত হয় ১৯৮৯ সালে। সেই থেকে দেশে যৌনকর্মী ও মাদকসেবীদের ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে এইচআইভির বিস্তার ঘটেই চলছে। যৌনকর্মী ছাড়াও বিবাহিত দম্পতিদের মাধ্যমেও এ রোগের বিস্তার ঘটছে। তা ছাড়া প্রবাসী শ্রমিক ও রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে এইচআইভির সংক্রমণ আরও বাড়ছে বলে গবেষণায় দেখা গেছে। অবশ্য গত পাঁচ বছরে গৃহবধূ ও গর্ভধারিণী নারীদের মধ্যেও এইচআইভির সংক্রমণ বেড়েছে। নারীদের মধ্যে এইচআইভি ছড়িয়ে পড়াকে বৈশ্বিকভাবে মহামারির অশনিসংকেত হিসেবে দেখা হয়।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যমতে, দেশে এইডসে এক বছরে ২৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে কোনো বছরে এত মানুষের মৃত্যু হয়নি। এ নিয়ে দেশে এইডসে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ১ হাজার ৮২০ জনের।
গত এক বছর নতুনভাবে সংক্রমিত ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ শতাংশ প্রবাসী শ্রমিক। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য ও আফ্রিকা থেকে ফেরত আসা শ্রমিকদের মধ্যে এইচআইভি সংক্রমণ তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যাচ্ছে। সাধারণত বিদেশে শ্রমিক পাঠানোর আগে তাদের এইচআইভি পরীক্ষা করতে হয়। তাই বিদেশ থেকে দেশে আসার সময়ও তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা হওয়া উচিত বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
দেশে শুধু সরকারিভাবে এইডসের চিকিৎসাসেবা দেয়া হয়। বেসরকারি পর্যায়ে এই সেবা নেয়ার সুযোগ এখনো নেই। সে ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, সরকারি সেবার পাশাপাশি বেসরকারিভাবেও এ রোগের সেবা প্রদান করা গেলে ফল আরও ভালো পাওয়া যাবে।
এমতাবস্থায় দেশে এইচআইভি সংক্রমণ ক্রমাগত বাড়ার কারণগুলো শনাক্ত করে এবং সেসব কারণ দূর করার উদ্যোগ নেয়া প্রয়োজন। সেইসঙ্গে এর হাত থেকে নিস্তার পেতে হলে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে। এ জন্য ব্যক্তি-সচেতনতার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সরকারি ও বেসরকারি সংস্থাগুলোকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে হবে।
মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে