কাফেলা মদিনা ছেড়ে আমেরিকার দিকে যাত্রা করায় জোট ত্যাগ করেছি: মুফতি ফয়জুল করীম
নির্বাচনের আগে গঠিত জোট থেকে বেরিয়ে আসার প্রসঙ্গ টেনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম বলেছেন, কাফেলা মদিনার পথ ছেড়ে আমেরিকার দিকে যাত্রা করছে বুঝতে পেরেই আমরা সেই জোট ত্যাগ করেছিলেন।
সোমবার (১০ আগস্ট) সন্ধ্যায় রংপুর টাউন হলে মহানগর ইসলামী আন্দোলন আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন। বক্তব্যে ফয়জুল করীম স্মরণ করেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে কোরআনের পক্ষে একটি ভোটের বাক্স তৈরি হয়েছিল, যার নেতৃত্বে ছিলেন পীর সাহেব চরমোনাই। সাহসিকতার সঙ্গে এগিয়ে চলা সেই কাফেলাকে ঘিরে দেশে ইসলামি হুকুমাত প্রতিষ্ঠার প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল বলে জানান তিনি। তবে হঠাৎ করেই নেতৃত্বের আসনে পীর সাহেব চরমোনাইকে না দেখে এবং কাফেলার গতিপথ বদলে যেতে দেখে জোট থেকে সরে আসার সিদ্ধান্ত নেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, ইসলামের স্বার্থে ক্ষমতা ছাড়া যায়, কিন্তু ক্ষমতার লোভে ইসলামকে ছেড়ে দেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব নয়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের একটি স্বীকারোক্তির প্রসঙ্গ তুলে ধরে ফয়জুল করীম বলেন, দুর্নীতি ও ঘুষ বন্ধ করা যায়নি বলে ফখরুল নিজেই স্বীকার করেছেন। এই প্রসঙ্গে তার দাবি, ইসলামি শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা ছাড়া বাংলাদেশে ঘুষ-দুর্নীতির অবসান কোনোদিনই সম্ভব হবে না।
ইসলামি হুকুমাত কায়েম হলে কী ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে, তার একটি চিত্রও তুলে ধরেন এই ইসলামী আন্দোলন নেতা। তার মতে, এমন শাসনব্যবস্থা প্রতিষ্ঠিত হলে মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত হবে এবং আগামী এক দশকের মধ্যেই দরিদ্রসীমার নিচে থাকা সব মানুষ তা থেকে উত্তরণ ঘটাতে পারবে। নারীদের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সমঅধিকারের পরিবর্তে নারীদের ন্যায্য অধিকার ও সম্মান রক্ষা নিশ্চিত করা হবে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে সংগঠনকে আরও শক্তিশালী করতে নেতাকর্মীদের দাওয়াতি কার্যক্রম বাড়ানোর আহ্বান জানান ফয়জুল করীম।
ইসলামী আন্দোলন রংপুর মহানগর শাখার সভাপতি হাফেজ মাওলানা আব্দুর রহমান কাসেমীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. আক্কাস আলী সরকার। এছাড়া বক্তব্য দেন ইসলামী আন্দোলনের জেলা শাখার সভাপতি এ টি এম গোলাম মোস্তফা বাবু ও সেক্রেটারি মুহা. মাহমুদুর রহমান রিপন সরকারসহ অন্যান্য নেতারা।
মতামত দিন