দুশ্চিন্তায় সিরাজগঞ্জের কৃষকেরা
‘আমরা কৃষকেরা এখন পাঙ্গাস মাছও কিনে খেতে পারি না’
ফসলি জমির পাশে বসেছিলেন ৪৬ বছর বয়সী কৃষক মকবুল হোসেন। পেশায় তিনি কৃষক। কিন্তু সেই কৃষি মাঠেই এবার দুশ্চিন্তার ছাপ। সার সংকটে ভূট্টার চাষ করতে পারছেন না। তাই জমি এখনো ফাঁকা রেখেছেন।
শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সিরাজগঞ্জের কাজীপুর উপজেলার হরিনাথপুর গ্রামে গিয়ে কথা হয় মকবুল হোসেনের সঙ্গে।
তিনি জানান, এবার দুই বিঘা জমিতে ধান আবাদ করেছেন। দেড় বিঘা জমি এখনো ফাঁকা আছে তার। এই জমিতে ভূট্টার আবাদ করার কথা তার। তবে সার সংকটে সেই জমিতে এখনো ভূট্টার চাষ শুরু করতে পারেননি।
শুধু সার সংকটই নয়, কৃষির প্রতিটি খাতেই বাড়ছে ব্যয়।
মকবুল হোসেন জানান, ডিজেলের দাম বাড়ায় সেচের খরচও বাড়বে। আগে এক বিঘা জমিতে পানি সেচ দিতে ৩ হাজার টাকা লাগত। এখন খরচ কত দাঁড়াবে, তা নিয়েই দুশ্চিন্তায় আছেন তিনি।
কৃষকের এই বাড়তি খরচের চাপ জমি থেকে পৌঁছে গেছে কৃষকের ঘরে। সংসারের নিত্যপ্রয়োজন মেটাতে গিয়ে কমাতে হচ্ছে খাবারের তালিকা। এমনকি অনেক কৃষকের কাছে এখন পাঙ্গাস মাছও হয়ে উঠেছে বাড়তি খরচের বিষয়।
হরিনাথপুর গ্রামের কৃষক ৫০ বছর বয়সী আবুল কালাম আজাদ বলেন, আমাদের জন্য খেয়েপড়ে বেঁচে থাকাটা কঠিন হয়ে পড়েছে। আমরা কৃষকেরা এখন পাঙ্গাস মাছও কিনে খেতে পারিনা।
আবুল কালাম আজাদ আরও জানান, তার বাড়িতে দুটি ফ্যান ও একটি বাল্ব ব্যবহার করেও বিদ্যুৎ বিল আসে প্রতিমাসে ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকা পর্যন্ত। কৃষিতে বাড়তি খরচের সঙ্গে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও সংসারের অন্যান্য ব্যয়ে তারা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
একই গ্রামের কৃষক ৩৫ বছরের গোলাম রব্বানি জানান, চাষাবাদের পাশাপাশি তিনি ধান মাড়াইয়ের কাজ করেন। এক বিঘা জমির ধান মাড়াই করে নেন ৪৫০ টাকা। কিন্তু ডিজেলের দাম বাড়ায় এই কাজের খরচও বাড়ছে। কৃষকরা এমনিতেই ৪৫০ টাকা দিতে পারেন না। এখন ডিজেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় ধান মাড়াইয়ের দামও বাড়াতে হবে। কিন্তু সেই বাড়তি টাকা দেওয়ার সামর্থ্যও অনেক কৃষকের নেই।
মাহিদুল ইসলাম, গোলাম রব্বানি, আবুল কালাম আজাদ, মকবুল হোসেনসহ সিরাজগঞ্জ হরিনাথপুর গ্রামের অন্তত ২০ জন কৃষক জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে দেশের কৃষকেরা ভালো নেই। কৃষকদের ভালো রাখার জন্য সরকার থেকে কিছুই করা হচ্ছে না। উল্টো দিন দিন কৃষিতে উৎপাদন ব্যয় বেড়েই চলেছে। অথচ কৃষকের আয় কমছে।
মতামত দিন