তরমুজের খোসা কি হার্টের জন্য ভালো?
তরমুজের লাল অংশ খাওয়ার পর যে সাদা অংশ ও বাইরের সবুজ খোসা সাধারণত ফেলে দেওয়া হয়, সেটিই আসলে পুষ্টিগুণে ভরপুর হতে পারে এবং হার্টের স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী বলে পুষ্টিবিদরা মত দিয়েছেন।
পুষ্টিবিদদের মতে, তরমুজের খোসার সাদা অংশে বিশেষ করে সিট্রুলাইন (Citrulline) নামের একটি অ্যামিনো অ্যাসিড থাকে। এই উপাদানটি শরীরে গিয়ে আর্জিনিনে রূপান্তরিত হয়, যা আবার নাইট্রিক অক্সাইড তৈরি করতে সাহায্য করে। নাইট্রিক অক্সাইড রক্তনালীগুলোকে শিথিল ও প্রসারিত করে, ফলে রক্ত চলাচল সহজ হয় এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। এতে হৃদযন্ত্রের ওপর অতিরিক্ত চাপ কমে যায়।
এছাড়া তরমুজের খোসায় থাকা অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট ও ফাইবার রক্তে ক্ষতিকর কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সহায়তা করতে পারে। এটি ধমনীর দেয়ালে চর্বি জমা প্রতিরোধে ভূমিকা রাখে, যার ফলে হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের ঝুঁকি কিছুটা কমতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
তরমুজের খোসায় আরও থাকে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম, যা হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। পটাশিয়াম শরীর থেকে অতিরিক্ত সোডিয়াম বের করতে সাহায্য করে এবং রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। অন্যদিকে ম্যাগনেসিয়াম হৃদপেশীর কার্যকারিতা ঠিক রাখতে সহায়তা করে।
খাওয়ার উপায় হিসেবে তরমুজের সাদা অংশটি সবচেয়ে উপযোগী। এটি ছোট করে কেটে সবজি হিসেবে রান্না করা যায়, স্যালাডে মেশানো যায় অথবা জুস ও স্মুদিতে ব্যবহার করা যায়। বাইরের গাঢ় সবুজ অংশটি তুলনামূলক শক্ত হওয়ায় সাধারণত খাওয়া হয় না।
তবে চিকিৎসকরা মনে করিয়ে দেন, এটি উপকারী হলেও হার্টের রোগ প্রতিরোধের একমাত্র উপায় নয়—সুষম খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাপনই মূল ভিত্তি।

মতামত দিন
মন্তব্য করতে প্রথমে আপনাকে লগইন করতে হবে