Views Bangladesh Logo

রাত জেগে বিশ্বকাপ খেলা দেখুন, আবার পুরো দিন সুস্থ ও কর্মক্ষম থাকুন

 VB  Desk

ভিবি ডেস্ক

ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই কোটি কোটি সমর্থকের আবেগ, উত্তেজনা আর নির্ঘুম রাত। ২০২৬ বিশ্বকাপও তার ব্যতিক্রম নয়। যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোতে অনুষ্ঠিত হওয়ায় বাংলাদেশের দর্শকদের অনেক ম্যাচই গভীর রাতে কিংবা ভোরে দেখতে হচ্ছে। প্রিয় দলের খেলা কিংবা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ মিস করতে না চাওয়ায় অসংখ্য ফুটবলপ্রেমী রাত জেগে টেলিভিশন বা মোবাইল স্ক্রিনের সামনে সময় কাটাচ্ছেন।

তবে এই আনন্দের একটি মূল্যও রয়েছে। নিয়মিত ঘুমের ব্যাঘাত শরীর ও মনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। রাত জাগার পর পরদিন ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি, কর্মক্ষমতা হ্রাস এবং মেজাজের পরিবর্তন অনেকের কাছেই পরিচিত অভিজ্ঞতা। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সঠিক পরিকল্পনা ও কিছু অভ্যাস অনুসরণ করলে বিশ্বকাপের রোমাঞ্চ উপভোগ করার পাশাপাশি শরীরকেও ভালো রাখা সম্ভব।

রাত জেগে খেলা দেখার জন্য কীভাবে প্রস্তুতি নেবেন?

বিশ্বকাপের মতো দীর্ঘ টুর্নামেন্টে রাত জাগতে হলে আগে থেকেই একটি পরিকল্পনা থাকা জরুরি। হঠাৎ করে প্রতিদিন রাত জাগা শুরু করলে শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা ‘বডি ক্লক’ এলোমেলো হয়ে যেতে পারে।

রাতভিত্তিক নতুন রুটিনে অভ্যস্ত হওয়া
অনেক সমর্থক পুরো টুর্নামেন্টজুড়ে নিজেদের দৈনন্দিন সময়সূচি বদলে ফেলেন। তারা রাতে জেগে থাকেন এবং দিনের বেলায় দীর্ঘ সময় ঘুমান। শুরুতে এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা কষ্ট হলেও কয়েকদিন পর শরীর নতুন রুটিনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে পারে। তবে এই পদ্ধতি তাদের জন্য বেশি উপযোগী, যাদের কাজ বা পড়াশোনার সময়সূচি তুলনামূলক নমনীয়। নিয়মিত অফিস বা ক্লাস থাকলে এটি অনুসরণ করা কঠিন হতে পারে।

ভাগ করে ঘুমানোর কৌশল
বিশ্বকাপ চলাকালে সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতিগুলোর একটি হলো ‘স্প্লিট স্লিপ’ বা দুই ভাগে ঘুম। এক্ষেত্রে ম্যাচ শুরুর আগে কয়েক ঘণ্টা ঘুমিয়ে নেওয়া যায়। এরপর খেলা দেখে আবার সকালে কিছু সময় ঘুমালে শরীর প্রয়োজনীয় বিশ্রামের একটি বড় অংশ পেয়ে যায়। ফলে সারাদিন অতিরিক্ত ক্লান্তি অনুভব করার সম্ভাবনা কমে। অনেক গবেষণায় দেখা গেছে, ভাগ করে ঘুমানো মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি ধরে রাখতেও সহায়তা করে।

কম ঘুমে দিন পার করার ঝুঁকি
অনেকে আবার পুরো রাত জেগে খেলা দেখে সকালে অল্প কিছুক্ষণ ঘুমিয়ে দিনের কাজ শুরু করেন। যদিও এটি সবচেয়ে সহজ সমাধান মনে হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এটি শরীরের জন্য বেশ ক্ষতিকর। বিশেষজ্ঞদের মতে, কয়েক দিন ধরে ঘুমের ঘাটতি জমতে থাকলে তা শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে। তাই নিয়মিতভাবে খুব কম ঘুমিয়ে দিন কাটানোর অভ্যাস না করাই ভালো।

ঘুম কম হলে শরীরে কী ঘটে?
এক রাতের ঘুম কম হলেও শরীর তার প্রভাব টের পেতে শুরু করে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঘুমের ঘাটতি হলে মস্তিষ্কের কার্যক্ষমতা সাময়িকভাবে কমে যায়। এর ফলে— মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দুর্বল হয়, স্মৃতিশক্তি সাময়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায়, কাজের গতি ও দক্ষতা কমে যায়, দুর্ঘটনার ঝুঁকি বেড়ে যায়। বিশেষ করে গাড়ি চালানো বা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করার ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ঘুম না থাকা বিপজ্জনক হতে পারে।

চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংক কি সত্যিই সমাধান?
রাত জাগার পর অনেকেই বারবার চা, কফি বা এনার্জি ড্রিংক পান করেন। ক্যাফেইন সাময়িকভাবে সতেজ অনুভূতি তৈরি করলেও এটি আসলে ঘুমের বিকল্প নয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সীমিত পরিমাণে ক্যাফেইন গ্রহণ উপকারী হতে পারে। তবে অতিরিক্ত কফি পান করলে উদ্বেগ, হৃদস্পন্দন বৃদ্ধি এবং পরবর্তী ঘুমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। তাই ম্যাচের আগে ও পরে ক্যাফেইন গ্রহণের ক্ষেত্রে সতর্ক থাকা জরুরি। বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, ঘুমাতে যাওয়ার অন্তত কয়েক ঘণ্টা আগে শেষবারের মতো চা বা কফি পান করা।

ছোট্ট একটি ঘুম বদলে দিতে পারে পুরো দিন
রাত জাগার পর দুপুরে ২০ থেকে ৩০ মিনিটের একটি সংক্ষিপ্ত ঘুম শরীর ও মস্তিষ্ককে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করতে পারে। এ ধরনের ‘পাওয়ার ন্যাপ’ ক্লান্তি কমায়, মনোযোগ বাড়ায় এবং কাজের দক্ষতা উন্নত করে। তবে ৩০ মিনিটের বেশি ঘুমিয়ে ফেললে উল্টো ঘুমঘুম ভাব বাড়তে পারে এবং রাতে স্বাভাবিক ঘুম ব্যাহত হতে পারে।

টুর্নামেন্টের আনন্দ যেন স্বাস্থ্যের ক্ষতির কারণ না হয়

বিশ্বকাপ চার বছর পরপর আসে, তাই প্রিয় দলের খেলা দেখতে রাত জাগার আকর্ষণ অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু টুর্নামেন্টের আনন্দ যেন স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির কারণ না হয়, সেদিকেও খেয়াল রাখা প্রয়োজন। পর্যাপ্ত পানি পান করা, সুযোগ পেলে কিছুটা বিশ্রাম নেওয়া, সীমিত ক্যাফেইন গ্রহণ এবং ঘুমের ঘাটতি পূরণের চেষ্টা—এই কয়েকটি অভ্যাস বিশ্বকাপের পুরো সময়জুড়ে আপনাকে সুস্থ ও কর্মক্ষম রাখতে সাহায্য করতে পারে।

খেলা উপভোগ করুন, তবে নিজের শরীরের কথাও শুনুন। কারণ বিশ্বকাপের উত্তেজনা শেষ হলেও সুস্থ শরীরের প্রয়োজন থাকবে প্রতিদিনই।

মতামত দিন

Avatar

ট্রেন্ডিং ভিউজ