ধূমপায়ীদের জন্য সতর্কবার্তা: মুখ ও গলার ক্যানসারের ৬ লক্ষণ অবহেলা নয়
অনেকেই মনে করেন, ধূমপানের ক্ষতি শুধু ফুসফুসেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু চিকিৎসকদের মতে, নিয়মিত ধূমপান মুখ, জিভ, মাড়ি ও গলাতেও মারাত্মক ক্ষতি করতে পারে। মুখে দীর্ঘদিনের ঘা, স্বর পরিবর্তন বা গলা ব্যথার মতো সাধারণ মনে হওয়া কিছু উপসর্গই হতে পারে মুখ ও গলার ক্যানসারের প্রাথমিক সতর্কসংকেত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অল্পবয়সী ও মধ্যবয়সীদের মধ্যেও মুখ ও গলার ক্যানসারের প্রবণতা বাড়ছে। এর অন্যতম প্রধান ঝুঁকির কারণ ধূমপান ও তামাকজাত পণ্য সেবন। রোগটি অনেক সময় শুরুতে শনাক্ত হয় না, কারণ প্রাথমিক উপসর্গগুলো সাধারণ অসুস্থতার সঙ্গে মিল থাকে।
চিকিৎসকদের মতে, নিচের লক্ষণগুলো দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
মুখে দীর্ঘদিনের ঘা: মুখ বা ঠোঁটে এমন কোনো ঘা বা ক্ষত, যা দুই থেকে তিন সপ্তাহ বা তার বেশি সময়েও সারে না এবং সাধারণ ওষুধেও ভালো হয় না, সেটি গুরুত্বের সঙ্গে পরীক্ষা করানো প্রয়োজন।
জিহ্বায় দীর্ঘস্থায়ী আলসার: জিহ্বার নিচে বা গোড়ায় দীর্ঘদিনের আলসার, জিহ্বায় সাদা বা লালচে দাগ, খাবার চিবানো, গিলতে বা কথা বলতে অস্বস্তি মুখগহ্বরের ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।
মাড়ির অস্বাভাবিক সমস্যা: মাড়িতে ফোলা, ফোস্কার মতো ক্ষত, বারবার সংক্রমণ বা রক্তপাত দীর্ঘদিন ধরে চলতে থাকলে তা অবহেলা করা উচিত নয়।
গলার স্বরের পরিবর্তন: কোনো স্পষ্ট কারণ ছাড়াই গলার স্বর বদলে যাওয়া, স্বর ভেঙে থাকা বা দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি সময় গলা ব্যথা থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
কানে অকারণ ব্যথা: দীর্ঘদিন এক বা দুই কানে ব্যথা থাকা কিংবা কান থেকে পুঁজ বা রক্ত বের হওয়া কিছু ক্ষেত্রে মুখ ও গলার ক্যানসারের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে।
দীর্ঘস্থায়ী শুকনো কাশি: অনেকদিন ধরে কাশি, কাশির সঙ্গে রক্ত আসা বা দুর্গন্ধযুক্ত কফ বের হওয়া গুরুতর লক্ষণ হতে পারে। এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া জরুরি।
করণীয় কি?
এসব লক্ষণ থাকলেই যে ক্যানসার হয়েছে, এমন নয়। তবে উপসর্গগুলো যদি দুই থেকে তিন সপ্তাহের বেশি স্থায়ী হয়, তাহলে দেরি না করে নাক-কান-গলা (ইএনটি) বিশেষজ্ঞ বা মুখগহ্বরের রোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা সফল হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। পাশাপাশি ধূমপান ও সব ধরনের তামাকজাত পণ্য ত্যাগ করলে মুখ ও গলার ক্যানসারসহ বিভিন্ন গুরুতর রোগের ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।
মতামত দিন