অবশেষে স্টেডিয়ামে ভোজিনহার মা
মিয়ামির হার্ড রক স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে বসে জাতীয় সংগীত গাইছেন এক নারী—বুকে হাত রেখে, চোখে আবেগ নিয়ে। তিনি আনা কান্দিদা ইভোরা, কেপ ভার্দের সাড়াজাগানো গোলরক্ষক ভোজিনহার মা। ছেলের বিশ্বকাপ-যাত্রার এই অধ্যায়টা তিনি মিস করতে চাননি, কিন্তু শুরুতে ভাগ্য তার পক্ষে ছিল না।
গত সপ্তাহে স্পেনের মতো পরাশক্তিকে গোলশূন্য আটকে দিয়ে রাতারাতি বিশ্ব ফুটবলের আলোচিত নাম হয়ে ওঠেন ৪০ বছর বয়সী ভোজিনহা। অন্তত সাতটি নিশ্চিত গোল বাঁচিয়ে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন তিনি। কিন্তু মাঠের সাফল্যের আড়ালে ছিল ব্যক্তিগত একটা আক্ষেপ—মাকে গ্যালারিতে নিয়ে খেলতে পারেননি, কারণ মার্কিন ভিসা তখনও হাতে আসেনি তার মায়ের। ম্যাচ শেষে আবেগে ভেঙে পড়ে কাঁদতে থাকা ভোজিনহার সেই ভিডিও মুহূর্তেই ছড়িয়ে পড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে।
ভোজিনহার আবেগঘন সেই মুহূর্ত নজর এড়ায়নি কর্তৃপক্ষেরও। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সহায়তায় দ্রুত ভিসা প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়, আর শুক্রবার মিয়ামিতে এসে পৌঁছান আনা কান্দিদা ইভোরা। ফলে উরুগুয়ের বিপক্ষে ছেলের গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচটি তিনি আর টিভির পর্দায় নয়, সরাসরি স্টেডিয়ামে বসেই উপভোগ করার সুযোগ পেলেন।
মাকে পাশে নিয়ে মাঠে নামার আগে দৃঢ় কণ্ঠে ভোজিনহা বলেছেন, "আমরা এখানে শুধু অংশ নিতে আসিনি, প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে এসেছি।" প্রথম ম্যাচে অভাবনীয় পারফরম্যান্সের পর এবার মায়ের সামনে নিজেকে আরেকবার প্রমাণের সুযোগ পেলেন এই অভিজ্ঞ গোলরক্ষক।
মাত্র সাড়ে পাঁচ লাখ জনসংখ্যার দ্বীপরাষ্ট্র কেপ ভার্দের জন্য এবারের বিশ্বকাপ এমনিতেই ইতিহাস গড়ার মঞ্চ।
মতামত দিন